• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
বাকৃবির গবেষণাই আগে হয়েছে

ইলিশ মাছ

সংরক্ষিত ছবি

জাতীয়

ইলিশ গবেষকদের দাবি

বাকৃবির গবেষণাই আগে হয়েছে

  • ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রথমবারের মতো ইলিশের জীবনরহস্য আবিষ্কারে দুই পক্ষের দাবি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে নিজেদের গবেষণার কাজ আগে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা। গতকাল সোমবার বাকৃবির সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ইলিশের জীবনরহস্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণাকালে তারা এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে গবেষকরা বলেন, ‘আমরা ১০ সেপ্টেম্বর আবিষ্কারটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার জন্য অনেক দিন ধরে কাজ করছি। যখনই আমরা অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করলাম, তখনই দেখা গেল অন্য কেউ মাত্র একটি জাতীয় দৈনিকে আবিষ্কারের দাবি করে তড়িঘড়ি প্রতিবেদন ছাপালো। যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। একই বিষয়ে অনেকে একই সময়ে গবেষণা করতেই পারে। আমাদের গবেষণাটি অনেক আগে সম্পন্ন করেছি এবং বিভিন্ন স্থানে তার প্রমাণ রয়েছে।’

তারা আরো বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটা সুপার কম্পিউটার আছে যা অনেকেরই অজানা। সেটা আমাদের গবেষণায় ব্যাপক সহায়তা করেছে। একটি প্রথম সারির দৈনিক পত্রিকা উল্লেখ করেছে আমাদের দেশে এ সক্ষমতা নেই, যেটা ভুল।

নতুন আবিষ্কার নিয়ে গবেষকরা বলেন, আবিষ্কারের এটা মাত্র সূচনা ঘটেছে। আবিষ্কারটি বুঝতে ও সফলতা পেতে আমাদের আরো সময় লাগবে। আমাদের এর সুফল পেতে আরো ধারাবাহিক গবেষণা করা প্রয়োজন। ইলিশ রক্ষায় অনেক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যেমন- অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, নির্দিষ্ট সময়ে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা ইত্যাদি। এটা সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে হচ্ছে কি না- এমন অনেক বিতর্ক রয়েছে। ইলিশ নদীতে কেন আসে আবার প্রজননের পর আদৌ সাগরে ফিরে যায় কি না- এমন অনেক তথ্যই এখন আমরা জানতে পারব এই আবিষ্কারের তথ্যকে কাজে লাগিয়ে। এই আবিষ্কারের ফলে দেশের সুনাম আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারা।

বিশ্বে প্রথমবারের মতো ‘ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং ডি নোভো অ্যাসেম্বলি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর ইলিশের জীবনরহস্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। আবিষ্কারের সহযোগী গবেষক অধ্যাপক ড. মুহা. গোলাম কাদের খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান, মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. গিয়াস উদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদসহ ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনকারী গবেষকরা। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. সামসুল আলম ও সহযোগী গবেষক অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা।

বাকৃবির গবেষকদের বিষয়টি সামনে আসার একদিন আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে ইলিশের জীবনরহস্য আবিষ্কারের দাবি তোলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। তাদের দাবি, তারাই প্রথম ইলিশের জীবনরহস্য আবিষ্কার করেছেন। অধ্যাপক হাসিনা খানের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দলটির সঙ্গে ড. মং সানু মারমা নামে প্রবাসী বাংলাদেশি এক বিজ্ঞানীও জড়িত রয়েছেন। মূলত তিনিই ওই গবেষণার পুরোধা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads