• সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৫
ads

জাতীয়

কুয়াশায় ভেসে আসছে শীত

  • তপু রায়হান
  • প্রকাশিত ২২ অক্টোবর ২০১৮

নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘের ভেলায় চড়ে শরৎ বিদায় নিয়েছে সপ্তাহখানেক আগে। এসেছে হেমন্ত। ‘কার্তিকের নবান্নের দেশে’র গ্রামে সকাল-সন্ধ্যা নামতে শুরু করেছে মিহি মসলিনের মতো কুশায়া। দিক বদলের বাতাস শুষ্ক হলেও তাতে হিম হিম ভাব। শীতকে স্বাগত জানাতে ধীরে ধীরে প্রস্তুত হচ্ছে প্রকৃতি। তবে আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, গ্রামের দিকে এখন শীত ভাবটা কেবল রাতেই। পুরোপুরি শীত আসতে আরো দিন পনের সময় লাগবে। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে পৌষ-মাঘ শীতকাল হলেও সাধারণত হেমন্তকেই ধরা হয় শীতের পূর্বাভাস হিসেবে। এই ঋতুর শুরু থেকেই রাতে মৃদু কুয়াশা পড়তে শুরু করে, শুষ্ক বাতাসে থাকে হিমেল স্পর্শ। সকালের রোদে ঘাসের ডগায় হীরের মতো চিকচিক করে শিশিরবিন্দু। সারাদিন নির্মল আকাশে থোকা থোকা মেঘের আড়ালে সূর্যের লুকোচুরির কারণে দিনের তাপমাত্রা কমতে শুরু করে একটু একটু করে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের অক্টোবর মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুসারে, চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধ থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (বর্ষাকাল) বিদায় নেওয়ার কথা দেশ থেকে। ওই পূর্বাভাসে বলা হয়, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে দুটি নিম্নচাপ হতে পারে। যার মধ্যে প্রথমার্ধের একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া অধিদফতরের সে পূর্বাভাস অনুসারেই মাসের প্রথমার্ধে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয় ঘূর্ণিঝড় তিতলি। সেটি বাংলাদেশে আঘাত না হানলেও কয়েক দিনের তাবদাহ কমিয়ে প্রকৃতিকে কিছুটা শীতল করে যায়। এর পরই গ্রামাঞ্চলের রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে, নামতে শুরু করেছে হালকা কুয়াশার চাদর।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের খবরকে বলেন, এখন প্রতিদিনই রাতের তাপমাত্রা একটু একটু করে কমছে। তবে দিনের ভাগে বেশ গরম অনুভূত হয়। তাই এখনই শীত আসছে তেমনটা বলার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সকাল কিংবা সন্ধ্যায় শীত অনুভূত না হলে তাকে শীতকাল বলা যায় না।  গ্রামাঞ্চলের কুয়াশা সম্পর্কে বলেন, এখন বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় সন্ধ্যার দিকে তা বাষ্পাকারে দেখা যায়। সেটি কুয়াশা না। তবে কার্তিক মাস এসে গেছে। এ সময় বাতাসের দিক পরিবর্তন হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমের বদলে বাতাস উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বইতে শুরু করে। যাতে করে সাধারণভাবে শীতের আবহ তৈরি হয়েছে বলে মনে হয়। দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন হতে করে। তবে সার্বিকভাবে শীত আসবে কার্তিক মাসের শেষের দিকে। তিনি বলেন, এখন হেমন্তকাল বলেই ভোরে সূর্য ওঠার আগে ঘরে গরম, বাইরে ঠাণ্ডা অনুভূত হবে। কার্তিক মাসের শেষ দিক থেকে মৃদু শীত পড়তে শুরু করবে। অগ্রহায়ণের শেষে তীব্রতা বাড়বে।

আর রাজশাহী আবহাওয়া অফিস বলছে, উত্তর-পূর্ব দিক থেকে হিমেল বাতাস ঢুকতে শুরু করেছে। এ কারণে কার্তিকের শুরু থেকেই কমতে শুরু করেছে রাজশাহীর তাপমাত্রা। কয়েক দিন আগের বৃষ্টি সেখানে প্রাক শীতের আবহ সৃষ্টি করেছে। রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির কাছাকাছি নেমে যায়। আর কুয়াশা পড়ে শীতকালের মতোই।

তবে শীত আসতে আরো কিছুদিন বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে তার প্রস্তুতি। খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন এলাকার  গাছিরা গাছ প্রস্তুতের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। শহরের মোড়ে মোড়ে শীতের পিঠা বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা দোকানে তুলতে শুরু করেছেন শীতের কাপড়সহ লেপ-কম্বল। আর পত্রঝরা কোনো কোনো গাছের পাতায় লাগতে শুরু করেছে হলুদের ছোঁয়া।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads