• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫
ads

জাতীয়

ক্ষণ গুনছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার এখনই চায় না জাতিসংঘ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৮ নভেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার যখন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর ক্ষণ গণনা শুরু করেছে ঠিক তখনই এটি স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছে জাতিসংঘ। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার জেনেভায় এ নিয়ে জাতিসংঘের পক্ষে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেন সংস্থাটির মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ এবং মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি। মিয়ানমার সফররত সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান গত মঙ্গলবার রাজধানী নেইপিডোতে দেশটির নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এর আগের দিন তিনি বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন।  এক ফেসবুক পোস্টে সিঙ্গাপুরের মন্ত্রী লেখেন, সু চি আমাকে প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার সর্বশেষ অবস্থা জানিয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রথম ব্যাচের শরণার্থী গ্রহণের প্রস্তুতিও রয়েছে।

বালাকৃষ্ণান ও সু চি উভয়েই শরণার্থীদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেন। সিঙ্গাপুরের মন্ত্রী বলেন, এই কঠিন পরিস্থিতি উত্তরণে সিঙ্গাপুর ও আসিয়ান দেশগুলো মিয়ানমার ও বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে যাবে।

ঠিক এ সময়েই গত মঙ্গলবার জেনেভায় এ বিষয়ে জাতিসংঘের পক্ষে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেন সংস্থাটির মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ এবং মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি। তিনি বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যে এ মাসে প্রত্যাবাসন শুরু করা স্থগিত রাখতে বলেন যাতে তাদের ওপর নির্যাতন এড়ানো যায়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথভাবে গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জানায়, ১৫ নভেম্বর থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হবে। এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে।

লি তার বিবৃতিতে বলেন, প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গারা আবারো একই ধরনের নির্যাতন এবং সহিংসতার সম্মুখীন হবে না, এ মর্মে নিশ্চয়তা প্রদানে ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার সরকার। লি আরো বলেন, প্রথমেই এই সঙ্কটের অন্তর্নিহিত কারণের সমাধান করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে তাদের নাগরিকত্বের অধিকারের বিষয়টি।

লির এই সতর্কবাণীর আগে ফেসবুক স্বীকার করে যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকদের গণহারে হত্যার পেছনে সামাজিক মাধ্যমও ভূমিকা রেখেছিল। গত বছর আগস্ট মাসেই জাতিসংঘের তদন্তকারীরা ফেসবুককে এই বলে অভিযুক্ত করে যে, এই সামাজিক মাধ্যমটি সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সে দেশের বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর মনে ঘৃণা ছড়াতে ফেসবুকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত ধীর ও অকার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। তদন্তকারীরা বলেন, তারা এই নির্যাতনি অপরাধে ভূমিকা রেখেছে।

ইয়াংহি লি আরো বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে কোনো ধরনের অনুকূল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে, এমন কোনো আলামত চোখে পড়ছে না। ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার বিষয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি মিয়ানমার সরকার।

তিনি আরো বলেন, ২০১৬ এবং ১৭ সালে মিয়ানমারের সেনারা রোহিঙ্গাদের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছে তা ভোলার মতো নয়। ওই নির্যাতনের এখনো বিচার হয়নি এবং মিয়ানমার সরকার ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমার কাছে তথ্য আছে যে, প্রত্যাবাসনের জন্য যেসব রোহিঙ্গার নাম দেওয়া হয়েছে তারা এখন আতঙ্কে রয়েছে।

ইয়াংহি লি বলেন, যারা মিয়ানমার ফিরে যাবেন তাদের জন্য কয়েকটা অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এতেই কি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়? নিরাপদে বসবাস, পূর্ণ নাগরিক মর্যাদা, চলাফেরার স্বাধীনতা, কাজ করার স্বাধীনতা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসেবা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন ঝুঁকিপূর্ণ।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমার বিনীত অনুরোধ, এখনই প্রত্যাবাসনের কর্মসূচি স্থগিত করে সবার আগে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করুন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads