• শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
সক্ষমতা বাড়ছে গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের

লোগাে বাংলাদেশ পুলিশ

জাতীয়

সক্ষমতা বাড়ছে গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের

  • আজাদ হোসেন সুমন
  • প্রকাশিত ১২ জানুয়ারি ২০১৯

গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের সাইবার ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে এক হাজার ২৭২ কোটি ২৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের জুন মাসের মধ্যে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় ডিজিএফআইয়ের টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি অবকাঠামো, মানবসম্পদ এবং কারিগরি সক্ষমতা বাড়বে। এতে অপরাধ ও জঙ্গি কার্যক্রম শনাক্ত করাসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

সূত্র জানায়, ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স বা প্রতিরক্ষা  গোয়েন্দা মহাপরিদফতর (ডিজিএফআই) এখন দেশের অন্যতম প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা। সংস্থাটি দেশের অভ্যন্তরীণ দেশের বাইরের সম্ভাব্য আশঙ্কা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে সরকারকে আগাম জানান দেয়। এ ছাড়া জঙ্গি কার্যক্রম ও তাদের অবস্থান সম্পর্কেও এই সংস্থা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির ঘাটতি থাকায় আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে স্বার্থান্বেষী মহলের তৈরি করা বিভিন্ন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যথাযথভাবে মোকাবেলার জন্য সংস্থাটির আধুনিকায়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ফলে দেশ ও দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিজিএফআইয়ের বিদ্যমান টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি অবকাঠামোগত আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্ত্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।

ডিজিএফআইয়ের একজন কর্মকর্তা বাংলাদেশের খবরকে বলেন, শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, রোহিঙ্গাদের ছদ্মাবরণে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্র আছে কি না? পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিভিন্ন সময় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে অপতৎপরতায় লিপ্ত হওয়ার আগাম খবরসহ বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণে ডিজিএফআই বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার ঘটছে সবক্ষেত্রে। সে কারণে ডিজিএফআইকেও এই সেক্টরে এগিয়ে নিতে হবে। যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে সেটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত প্রক্রিয়া আরো এগিয়ে নেওয়া যাবে। এতে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত হয়ে দেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে আরো এগিয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ অক্টোবর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পের ডিপিপির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিইসি সভায় কিছু সিদ্ধান্ত বা শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর পিইসি সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠন করে পুনরায় পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। পুনর্গঠিত ডিপিপিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ব্যয় এক হাজার ২৭২ কোটি ২৯ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়ন  মেয়াদ ২০২১ সালের ৩০ জুন নির্ধারণ করে।

এ ব্যাপারে সাইবার বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজিএফআই একটি কার্যকরী গোয়েন্দা সংস্থা এ প্রকল্পটি তাদের জন্য খুব দরকার ছিল। এতে তারা আরো ক্ষিপ্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে। দেশ আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে দেশের এসব প্রশাসন বা গোয়েন্দা যন্ত্রও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন হয়ে উঠুক এটাই দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যাশা।

 

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads