• সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
শহীদ আসাদ দিবস আজ

১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছাত্র মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান

ছবি : সংরক্ষিত

জাতীয়

শহীদ আসাদ দিবস আজ

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২০ জানুয়ারি ২০১৯

শহীদ আসাদ দিবস আজ। পাকিস্তানি সামরিক শাসক আইউব শাহীর বিরুদ্ধে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছাত্র মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন গ্রুপ) নেতা আসাদের আত্মদানের পথ ধরে ২৪ জানুয়ারি স্বৈরাচার আইউবের পতন ঘটে। দিনটি শহীদ আসাদ দিবস হিসেবে পালিত হয়। আজ শহীদ আসাদের ৫০তম শাহাদতবার্ষিকী।

শহীদ আসাদ দিবস স্মরণে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি মাইলফলক।  তিনি আরো বলেন, তার অসামান্য অবদান দেশের তরুণ প্রজন্মকে সব সময় গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করবে। শহীদ আসাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি একটি অবিস্মরণীয় দিন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদ আসাদের নাম অমর হয়ে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ বাঙালির মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করে। স্বাধিকারের দাবিতে সোচ্চার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। পর্যায়ক্রমে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। পরবর্তীতে সে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। শহীদ আসাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।

শহীদ আসাদ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ছয়-দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছয়-দফার স্বপক্ষে প্রবল জনমতের জোয়ার দেখে আতঙ্কিত সামরিক জান্তা আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে, যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত। বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয়-দফা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন বাঙালির মুক্তির মহান নেতা।’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্যমূলক আচরণ এবং দমন-পীড়নে বাংলার মানুষ যখন দিশাহারা, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয়-দফা তখন বাঙালির মুক্তির দিশারী হিসেবে আবির্ভূত হয়। ছয়-দফা হয়ে ওঠে বাঙালির প্রাণের দাবি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ আসাদের এই আত্মত্যাগ চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করে। যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতন হয় স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের।’ বাণীতে তিনি শহীদ আসাদসহ বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং শহীদ আসাদের আত্মদানকে ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের সিঁড়ি’ অভিহিত করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বিবৃতিতে বলেন, শহীদ আসাদের রক্তদানই আইউব শাহীর পতনের পথ তৈরি করে। এই গণঅভ্যুত্থানের পথ ধরেই স্বাধীনতা সংগ্রাম ত্বরান্বিত হয়। বিবৃতিতে ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে শহীদ আসাদের আত্মদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল ৮টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে শহীদ আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। এ সময় পার্টির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এ দিকে আসাদের নিজগ্রাম নরসিংদীর শিবপুরের ধানুয়ায় তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads