• বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৫
ads
বিত্তবৈভবে পচে যাবেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

সং ছবি

জাতীয়

বিত্তবৈভাবে পচে যাবেন

  • অমিত বণিক
  • প্রকাশিত ২২ জানুয়ারি ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা সততা রেখে চলবেন না। কেউ যদি বিত্তবৈভবের পেছনে ছোটেন, সেটা করতে পারবেন। কিন্তু সেটা করতে গেলে বিত্তবৈভবে পচে যাবেন। তিনি বলেন, যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে নতুনদের ঠাঁই দেওয়া হয়েছে তা প্রমাণের জন্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকে সারা দেশে অন্তত তিনটি স্থাপনা ‘বঙ্গবন্ধু’র নামে করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন মন্ত্রীরা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রীদের এসব প্রস্তাবের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে কোনো মন্তব্য করেননি।

গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকাল ১০টায় শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে নতুন মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, আমি আগের মন্ত্রিসভার অনেক বড় পরিবর্তন এনে নতুন মন্ত্রিসভা করেছি। এর আগে কোনো মন্ত্রিসভায় এত বড় পরিবর্তন আসেনি, কেউ এত বড় পরিবর্তন করেনি। আমি নতুনদের মন্ত্রিসভায় এনেছি। আপনাদের ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে মন্ত্রিসভায় এনেছি, আশা করি আপনারা সততা ও নিষ্ঠা নিয়ে প্রমাণ করবেন যে আপনাদের ওপর আমার আস্থা ও বিশ্বাস সঠিক ছিল। আর যদি সেটা না করতে পারেন তবে আমার উদ্দেশ্য সফল হবে না। অনেকে নানা কথা বলবে, শুনতে হবে অনভিজ্ঞদের নিয়ে আসার কারণে এটা হয়েছে। এ কারণে আপনারা সততা রেখে চলবেন। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়াকে ঘিরে বঙ্গবন্ধুর নামে মডেল সিটি করার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, বিশ্বের ২০টির মতো দেশে স্বাধীনতার নায়ক এবং জাতীয় নেতা যার নেতৃত্বে ওইসব দেশ প্রতিষ্ঠিত হয় সেসব দেশে তাদের নেতার নামে সিটি আছে। ভিয়েতনামে হো চি মিনের নামে ‘হো চি মিন সিটি’, যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ওয়াশিংটনের নামে ‘ওয়াশিংটন সিটি’সহ অনেক দেশেই জাতির পিতার নামে সিটি আছে। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে কোনো সিটি নেই। বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়াকে ঘিরে একটি মডেল সিটি করে বঙ্গবন্ধুর নামে নামকরণ করা যেতে পারে বলে মত দেন এই মন্ত্রী। এছাড়া চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর নিচে দিয়ে যে টানেল করা হচ্ছে তা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে করার প্রস্তাব করেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। এ ছাড়া সিলেটে নির্মাণাধীন একটি উল্লেখযোগ্য বড় সড়ককে বঙ্গবন্র নামে করার প্রস্তাব করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন গাড়িতে জাতীয় পতাকা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। সেই সঙ্গে তিনি বছরে একটি দিনকে ‘প্রবাসী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করারও প্রস্তাব দেন। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয় পতাকা ব্যবহার কেন উন্মুক্ত করা হবে? এটা করে কি রাজাকারদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের সুযোগ করে দিতে হবে। বরং আমি মনে করি, সবার গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কেউ জাতীয় পতাকা ব্যবহার করবে না। বৈঠকে প্রায় সব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী তাদের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads