• মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৪
ads
জবাবদিহিতায় পুলিশ

লোগো বাংলাদেশ পুলিশ

জাতীয়

জবাবদিহিতায় পুলিশ

  • আজাদ হোসেন সুমন
  • প্রকাশিত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

পুলিশ বাহিনীকে আরো বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে জবাবদিহিতার বিষয়টি সামনে আনছে সরকার। পুলিশ সম্পর্কে জনমনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো অনেক বেশি উন্নত হবে বলে মনে করছেন পুলিশের দায়িত্বশীল বিভাগের কর্তারা। চলছে যুগোপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়ন কাজ।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সর্বস্তরের জনসাধারণকে জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে। যেসব পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিন শাখা থেকে অন্যায়, দুর্নীতি অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধে যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলবে তাদের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টি অফিসিয়ালি জানানো হবে এবং সেটা মিডিয়া শাখা থেকে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে।

বিষয়টি নিয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মনিরুজ্জামান বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘এটা বাস্তবায়ন করা গেলে পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা বাড়বে বৈ কমবে না। কারণ অসাধু ও অপরাধী পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে অথরিটি অন করে না। আইজিপি মহোদয় অন্যায়, অনিয়ম, মাদক ও অপরাধী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন এবং সে অনুযায়ী তিনি কাজ অব্যাহত রেখেছেন।’ তিনি বরাবরই বলে আসছেন, ‘ব্যক্তির দায় বাহিনী নেবে না, সেভাবেই চলছে, বর্তমানে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পার  পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

জানা গেছে, উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৬৪ জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রত্যেক জেলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সাব ইন্সপেক্টরদের কাজের তদারকি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক, ঘুষ বা দুর্নীতির অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে জবাবদিহিতার আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া সেলের এআইজি মো. সোহেল রানা বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীতে দুই রকমের শাস্তির বিধান রয়েছে। একটা হচ্ছে গুরুদণ্ড অপরটি লঘুদণ্ড। এটা এক ধরনের নৈমিত্তিক কাজ। দায়িত্বে অবহেলা, ডিসিপ্লিন ব্রেক, অসৌজন্যমূলক আচরণসহ নানা ছোটখাট ত্রুটি-বিচ্যুতির কারণে লঘুদণ্ড যেমন— পদোন্নতি স্থগিত, স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। আবার ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ, জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা ও অযাচিতভাবে হয়রানি করাসহ কোনো ধর্তব্য অপরাধে যুক্ত থাকার প্রমাণ পেলে গুরুদণ্ড যেমন— সাসপেন্ড ও মামলা দায়ের এবং ক্ষেত্র বিশেষে চাকরিচ্যুতি ও গ্রেফতারও করা হয়ে থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনমনে একটা ধারণা প্রচলিত থাকতে পারে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা সম্ভবত পার পেয়ে যান। যদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রচার করা হয় তাহলে সেটা জনগণ জানতে পারল এবং এতে ধারণাগত বিষয়টি বদলে যাবে এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

পুলিশ সদর দফতরের মতে, বাহিনী সম্পর্কে জনমনে বিদ্যমান নেতিবাচক ধারণার উন্নতি হচ্ছে। অর্থাৎ দিন যত যাচ্ছে পুলিশের কাজের ব্যাপ্তি বাড়ছে। এক সময়ের হাজারো সমস্যা জর্জরিত পুলিশ বাহিনীর নানা সমস্যা গত ১০ বছরে সমাধান করেছে সরকার। পুলিশ বাহিনী বর্তমানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি বাহিনী। এই বাহিনীর আচরণের ওপরও অনেকটা সরকারের ভাবমূর্তি নির্ভরশীল। বর্তমান সরকার চায় পুলিশ সরকারের দর্পণ হিসেবে কাজ করুক। ফলে পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি প্রথমে মাদক নির্মূলের কথা বলেন, এরপর বলেন বাহিনীর মর্যাদা বাড়াতে। তিনি পরামর্শ দেন পুলিশের মাঠপর্যায়ের সদস্যরা যাতে বিনয়ের সাথে জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলেন আইনের সহায়তার জন্য থানায় আগত লোকজন যাতে সন্তুষ্টচিত্তে বাড়ি ফেরেন সেটার ওপর  গুরত্বারোপ করেন।

অপরদিকে পুলিশের অনেক উন্নতির মাঝেও এখনো অনেক অসঙ্গতি রয়েছে বলে জানান, পুলিশ সদর দফতরের অনেক কর্মকর্তা। তারা বলেন, এখনো অনেক সমস্যা বিদ্যমান। সরকার সমস্যা সমাধানে আগ্রহী, কিন্তু সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে সেটা হয়ে ওঠে না। দেশের থানাগুলোকে আরো সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য কমপক্ষে ৫টি করে যানবাহন দরকার। কিন্তু থানাগুলোতে গড়ে রয়েছে ২টি গাড়ি। সরকার ইচ্ছা করলেই দেশের ৬৩৩টি থানায় আরো ৩টি করে গাড়ি দিতে পারছে না। এসব সীমাবদ্ধতা নিয়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করতে হচ্ছে থানা পুলিশকে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads