• শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯, ৯ চৈত্র ১৪২৪
ads
গোপালগঞ্জে শুটকিতে স্বাবলম্বী হচ্ছে শত পরিবার

আশ্বিন-ফাল্গুন এই ছয় মাস গোপালগঞ্জ জেলার চান্দার বিলসহ অন্যান্য বিলের শুটকি তৈরির মৌসুম

ছবি: বাংলাদেশের খবর

জাতীয়

গোপালগঞ্জে শুটকিতে স্বাবলম্বী হচ্ছে শত পরিবার

  • গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ঐতিহ্যবাহী চান্দার বিলসহ বিভিন্ন বিলগুলোর এলাকায় প্রতিবছরের মতো এবছরও শুরু হয়েছে মিঠাপানির মাছের শুটকি তৈরির কাজ । আর একে কেন্দ্র করে উপজেলার বানিয়ারচর, জলিরপাড়, কলিগগ্রাম, রাহুথর, সাতপাড় গড়ে উঠেছে শুটকি কেনাবেচার কেন্দ্র ও আড়ৎ । আর কয়েক দিন পরেই এসব কেন্দ্রে লাখ লাখ টাকার শুটকি কেনাবেচা শুরু হবে ।

জানা যায়, সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্রগ্রাম, সৈয়দপুর, রংপুর, কিশোরগঞ্জ ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে এখানকার মানসম্পন্ন শুটকি কিনে নিয়ে যায় । এ অঞ্চলের বৃহত্তম চান্দার বিলসহ অন্যান্য বিলের সুস্বাধু শোল, টাকি, পুটি, ভেদা, টেংরা, বাইম, কাকিলাসহ ছোট ছোট বিভিন্ন জাতের চিংড়ির শুটকির ব্যাপক চাহিদার জন্যই মৌসুমের প্রথমেই এখানে প্রচুর শুটকি তৈরী হয় । আর বিভিন্ন জেলার পাইকাররাও  সেগুলো কেনার জন্য ভিড় জমায় এ আড়ৎগুলোতে ।

আশ্বিন-ফাল্গুন এই ছয় মাস গোপালগঞ্জ জেলার চান্দার বিলসহ অন্যান্য বিলের শুটকি তৈরির মৌসুম । আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ন পর্যন্ত বিলে জেলেদের জাল, বরশি, আলোধারায় প্রচুর মাছ ধরা পড়ে ও পৌষ থেকে ফাল্গুন পর্যন্ত বিলের কুয়া বা পুকুরগুলোতে সেচ দিয়ে মাছ ধরা হয় । আর এই মাছের সিংহভাগই ব্যবহৃত হয় এখানকার শুটকি তৈরীতে । বাকি মাছ চলে যায় ঢাকার বিভিন্ন পাইকারী বাজারে । আর কিছু মাছ বিক্রি হয় স্থানীয় হাটবাজারে ।

শুটকি তৈরির মৌসুমে পুরুষদের পাশাপাশি এখানকার নারীরাও হয়ে পড়ে কর্মব্যস্ত । মাছ বাছাই, মাছ কাটা-ধোয়া,শুকানো এবং ঘরে তোলার কাজ নারীরাই করে থাকে । শুটকি মৌসুমে এলাকার টেকেরহাট বন্দর, রাজৈর, জলিরপাড়, বানিয়ারচর ও সাতপাড়ের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোরও কর্মতৎপরতা অনেকগুন বেড়ে যায় । শুটকি মাছের উচ্চমান, নিরাপদ ব্যবসার সুযোগ থাকার জন্যই বহিরাগত পাইকাররা প্রতিবছরই এলাকায় আসে । শুটকি ব্যবসার জন্য ডিডি বা টিটির মাধ্যমে পাইকারদের আনা টাকা এখানকার বানিজ্যিক ব্যাংকগুলো দ্রুত সরবরাহ করতে না পারায় সময়মতো শুটকি ক্রয়ে বিঘ্ন ঘটে বলে অনেকেই অভিযোগ করেন ।

মাছ বাছাই করতে আসা মহিলারা জানায়, আমরা এখানে মাছ কাটা ,ধোয়া, বাছাইয়ের কাজ করে অনেকেই স্বাবলস্বী । প্রতিদিন কাজ করে ৬০-৭০ টাকা মজুরি পাই। অনেকেই মাছের পেটা বা তেলের বিনিময়ে কাজ করে। 

বানিয়ারচরের অমল বালা জানান, আমি অনেক বছর যাবৎ শুকটি তৈরি করে আসছি। প্রাকৃতিক মাছ ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়ার কারনে আগের তুলনায় শুটকির উৎপাদনও কমে যাচ্ছে । তিনি আরো জানান মিঠা পানির মাছের শুটকির চাহিদা বেশি থাকায় এখানকার জেলেরা শুটকি তৈরি করে থাকে। তাছাড়া এখানকার প্রায় শত পরিবার শুটকি তৈরি সেগুলো বাজারজাত করে পরিবারের অভাব অনটন দুর করে স্বাবলম্বী হয়েছে।

জলিরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান অখিল বৈরাগি জানান এখানকার অভাবি পরিবার ও শিক্ষিত বেকার যুবকেরাও এ কাজের মনোযোগী হয়েছে। অনেকেই মিঠাপানির শুটকি তৈরি করে সেগুলো বাজারজাত করে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছে। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads