• সোমবার, ১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
রোজা শুরুর আগেই বাজার চড়া

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

রোজা শুরুর আগেই বাজার চড়া

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৬ মে ২০১৯

রোজা শুরু হতে পারে আগামীকাল মঙ্গলবার। কিন্তু এর মধ্যেই প্রতিবছরের মতো বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যদ্রব্যের বাজার চড়া করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কমবেশি বেড়েছে প্রায় সব পণ্যের দাম। রোজার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য ছোলা ও চিনির সঙ্গে বেড়েছে মসুর ডালের দাম। বাড়তির দিকে রয়েছে তেলের দামও। তবে স্থির রয়েছে পেঁয়াজের দাম।

অন্যদিকে সবজির বাজারে বাড়ছেই বেগুনের দাম। বেগুনের কেজি এখন ৮০ টাকার ঘর ছুঁইছুঁই করছে। রোজা সামনে রেখে রাজধানীর সব বাজারেই ক্রেতাদের বাড়তি চাপ রয়েছে। রোজার আগেই মাসের বাজার সেরে নিতে তৎপর ক্রেতারা। ফলে দম ফেলার ফুরসত নেই বিক্রেতাদেরও। এই সুযোগে রোজা শুরুর আগেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে ক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কারওয়ান বাজারের পাইকারি অংশে দেশি পেঁয়াজ ২৬ থেকে ২৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ২০ থেকে ২২ টাকা কেজি। বাজারের প্রতিটি দোকানে পেঁয়াজের মূল্য তালিকাও টানানো হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও যে পেঁয়াজ ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে, সেই দোকানেই এখন ঝুলছে ২৮ টাকার মূল্যতালিকা।

পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতা খালেক বলেন, মাস খানেক আগে দেশি পেঁয়াজের দাম ২০ থেকে ২২ টাকা ছিল। এখন ২৮ টাকা। আরেক বিক্রেতা শহিদুল বলেন, পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে মূল্য তালিকাও টানানো হয়েছে।

অন্যদিকে মহাখালীর বউবাজারে দেশি পেঁয়াজ ৩৫ ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দাম সপ্তাহান্তে কমলেও রসুনের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহ আগে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও রোববার ১০৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি রসুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে আদা ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে দাম পড়ছে ১৪০ টাকা।

এদিকে, রোজার অন্যতম ভোগ্যপণ্য ছোলা ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহ খানেক আগে একই মানের ছোলা ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ সপ্তাহ ব্যবধানে কেজিতে ছোলার দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের মায়ের দোয়া স্টোরের বাবলু জানান, ছোলা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, মসুর ডাল ৫৫  থেকে ১০০ টাকা, মটর ৪০ টাকা, বেসন ৬০ থেকে ১০০ টাকা ও চিনি ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, খেজুর প্রকারভেদে ২২০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। লবঙ্গর দাম স্থির থাকলেও বেড়েছে এলাচের। কিছুদিন আগেও ভালো মানের এলাচ কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ টাকা থাকলেও এখন দাম ২ হাজার ৮০০ টাকা কেজি। তবে তার দাবি, বাজারে নতুন করে কোনো পণ্যের দাম খুব একটা বাড়েনি। বরং রোজার দ্বিতীয় দিন থেকে পণ্যের দাম আরো কমবে বলে তার ধারণা।

আরেক বিক্রেতা চৌধুরী স্টোরের মালিক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, নতুন করে পণ্যের দাম বাড়েনি। যা বাড়ানোর তা ১৫ দিন আগেই বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সে সময় সব পণ্যের দামই কিছু না কিছু বেড়েছে।

মেসার্স এমআর ট্রেডার্সের প্রোপাইটার সেলিম আহমেদ বলেন, দুই-তিন দিন ধরেই বাজার কমতির দিকে। চিনি, ছোলা ও তেলের দাম কিছুটা কমেছ। তবে মসুর ডালের দাম বেড়েছে। বাজারে সব পণ্যেরই পর্যাপ্ত মজুদ আছে। গত কয়েক দিন খুব বেশি চাহিদা ছিল, এখন সেই চাহিদা কমতে শুরু করেছে। দুই রোজার মধ্যেই দাম কমে যাবে।

অন্যদিকে চালের বাজার স্থির রয়েছে। নতুন চাল উঠতে শুরু করায় কোনো কোনো চালের দাম কমতেও শুরু করেছে। তবে কিছুটা বেড়েছে পোলাওয়ের চালের দাম। এক মাসে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে কেজিতে পোলাওয়ের চাল বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে।

মগবাজার থেকে বাজার করতে এসেছেন আলাউদ্দিন। তিনি বলেন, সব পণ্যের দামই বেড়েছে। পোলাওয়ের চাল ৯৫ টাকা ছিল, এখন দাম চাচ্ছে ১১০ টাকা।

ফার্মগেট থেকে আসা ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘কয়েক দিন ধরেই সব পণ্যের দাম বাড়ছে। আজও বাড়তির দিকে। দাম বেশি থাকলেও তো কিনতে হবে। আর রোজার বাজার বলে কথা।’

সবজির বাজার স্থির থাকলেও বাড়তির দিকে রয়েছে বেগুনের দাম। এক সপ্তাহ আগে বেগুন ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও রোববার বিভিন্ন বাজারে তা ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কারওয়ান বাজারে পেঁপে ৬০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, টমেটো ৩৫ টাকা, করলা ৬০ টাকা ও কাঁচা আম ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা যায়।

এদিকে, গরু ও খাসির মাংসের দাম স্থির থাকলেও কিছুটা বেড়েছে ব্রয়লার ও পাকিস্তানি কক হিসেবে পরিচিত মুরগির দাম। তবে দাম কমেছে দেশি মুরগির। কারওয়ান বাজারে গরুর মাংস ৫৫০ টাকা ও খাশি ৭৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। সব দোকানেই ঝুলছে মূল্য তালিকা। আর মুরগি ব্রয়লার ১৬০ টাকা, পাকিস্তানি ৩০০ ও দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

সততা মুরগির আড়তের বিক্রেতা সুমন বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। পাকিস্তানি মুরগির দামও কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা। তবে দেশি মুরগির দাম কেজিতে ৫০ টাকা কমে এখন ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads