• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০, ৭ কার্তিক ১৪২৭
ছয় পণ্যের এলসি খোলা বেড়েছে

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

ছয় পণ্যের এলসি খোলা বেড়েছে

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ০৯ মে ২০১৯

অত্যাবশ্যকীয় ছয় ভোগ্যপণ্যের ঋণপত্র (এলসি) খোলা ও নিষ্পত্তি বেড়েছে। এবার রমজান ঘিরে ৫০ লাখ ৫১ হাজার ৬১০ টন পণ্য আমদানির এলসি খোলা হয়েছে। এর মধ্যে এলসি নিষ্পত্তি হয়ে দেশে পণ্য ঢুকেছে ৪৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৭ টন। এ পরিমাণ আগের বছর ছিল যথাক্রমে ৪৬ লাখ ১৪ হাজার ২২৫ ও ৪৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩২ টন। সে হিসাবে এবারের রমজানে এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি বেড়েছে ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮৫ টন ও ৭ হাজার ৯৪৫ টন। এর মধ্যে ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, ছোলা ও মসুর ডালের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি বাড়লেও কমেছে চিনি ও খেজুরের।

গত ৬ মে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান। এ মাসকে ঘিরে ইতোমধ্যে নানা প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে রমজানে অত্যাবশ্যকীয় ৬টি পণ্যের আমদানিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, রমজানে দুই ভোগ্যপণ্য চিনি এবং খেজুর নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। কারণ এবার এই দুই পণ্যের আমদানি কম হয়েছে। গত বছর রোজা সামনে রেখে চিনি ও খেজুর আমদানি হয় ১৯ লাখ ২৯ হাজার ১৯৪ টন। এবার এসেছে ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৬ টন। অর্থাৎ গত রোজার তুলনায় এবার ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪৮ টন কম আমদানি হয়েছে। তবে অন্য চার পণ্য চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট মজুত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, শুধু আমদানি কম দুই পণ্য নয়, মজুত থাকা পণ্যেরও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসা উচিত। এ ক্ষেত্রে মনিটরিং জোরদার করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চিনির লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) বা ঋণপত্র খোলা হয়েছে ১৫ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টন। এ সময় ১৪ লাখ ২৩ হাজার ৯৭ টন চিনির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে চিনির এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি হয় যথাক্রমে ১৬ লাখ ৮৪ হাজার ৮৯৩ ও ১৯ লাখ ২ হাজার ৭৮৭ টন। সে হিসাবে চিনির এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি কমেছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৭৭ ও ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৬৯০ টন।

একইভাবে খেজুরের এলসি খোলা হয়েছে ২৪ হাজার ৯২২ টন। এ সময় ১৬ হাজার ৫৪৯ টন খেজুরের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে খেজুরের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি যথাক্রমে ৩০ হাজার ৭২৬ ও ২৬ হাজার ৪০৭ টন। সে হিসাবে খেজুরের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি কমেছে ৫ হাজার ৮০৪ ও ৯ হাজার ৮৫৮ টন।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৮ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রোজার মাসেই এ চাহিদা ৩ লাখ টন। একইভাবে দেশে খেজুরের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৫ হাজার টন। এর মধ্যে শুধু রোজার মাসে চাহিদার পরিমাণ প্রায় ১৮ হাজার টন। এখন পর্যন্ত দেশে উভয় পণ্য আমদানিতে যে পরিমাণ এলসি খোলা হয়েছে, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

কমিশনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৮ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রমজানে চাহিদা প্রায় ৩ লাখ টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোজ্যতেলের এলসি খোলা হয়েছে ২১ লাখ ২৫ হাজার ৩৬৬ টন। এ সময় ১৭ লাখ ৯৫ হাজার ২৭১ টন ভোজ্যতেলের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ভোজ্যতেলের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি যথাক্রমে ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৪২১ ও ১৬ লাখ ৪০ হাজার ১৫৩ টন। সে হিসাবে গত রোজার তুলনায় ভোজ্যতেলের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি উভয় বেড়েছে। একইভাবে দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রমজানে চাহিদা প্রায় ৫ লাখ টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পেঁয়াজের এলসি খোলা হয়েছে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৪৪ টন। এ সময় ৯ লাখ ১০ হাজার ৭১৮ টন পেঁয়াজের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে পেঁয়াজের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি যথাক্রমে ৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৬৮ ও ৭ লাখ ৫১ হাজার ১৭৪ টন। সে হিসাবে পেঁয়াজের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি যথেষ্ট সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে। দেশে ছোলার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রমজানে চাহিদা প্রায় ৮০ হাজার টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৭ টন। এ সময় ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০৯ টন ছোলার এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছোলার এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি যথাক্রমে ৫৫ হাজার ৯৫৫ ও ৪০ হাজার ৬৭৬ টন। সে হিসাবে ছোলার এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি যথেষ্ট সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে।

দেশে মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রমজানে চাহিদা প্রায় ৮০ হাজার টন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত মসুর ডালের এলসি খোলা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৫ টন। এ সময় ২ লাখ ২৬ হাজার ১৩৩ টন মসুর ডালের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে মসুর ডালের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি যথাক্রমে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬২ ও ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৫ টন। সে হিসাবে মসুর ডালের এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি উভয় বেড়েছে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, সাধারণত রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম কিছুটা বেড়ে যায়। তবে কেউ যেন কৃত্রিমভাবে পণ্যের সঙ্কট সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার কারসাজি করতে না পারে, সেদিকে সরকারের সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, রমজানে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads