• শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৫ কার্তিক ১৪২৭
পাত্তাই দিচ্ছেন না মাংস ব্যবসায়ীরা

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

দাম নির্ধারণ নির্দেশনা

পাত্তাই দিচ্ছেন না মাংস ব্যবসায়ীরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৯ মে ২০১৯

পবিত্র রমজান উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নির্দেশকে পাত্তাই দিচ্ছেন না মাংস ব্যবসায়ীরা। ২৬ রমজান পর্যন্ত গরুর মাংস ৫২৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও রাজধানীর প্রায় প্রতিটি বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৫০০ টাকায়। কোথাও কোথাও ৬০০ টাকা রাখারও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ডিএনসিসির নির্দেশের কথা বললে মাংস ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশন থেকে মাংস কেনার পরামর্শ দেন।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী কাঁচাবাজার ও রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি মাংসের দোকানে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি সাড়ে ৫০০ টাকা দরে। ক্রেতাদের কথার কোনো পাত্তাই দিচ্ছেন না তারা।

যারা একটু কথা বলছেন বা জানতে চাইছেন দোকানদাররা তাদের বলছেন, সিটি করপোরেশনকে বলেন কম দামে গরু কিনে দিতে, আমরা কম দামেই বিক্রি করব। আর যদি এই দামে না পোষায় তাইলে যারা দাম নির্ধারণ করেছে অর্থাৎ সিটি করপোরেশন থেকে মাংস কিনে নিয়ে আসেন।

মেরাদিয়া বাজারে কথা হয় কবিরের মাংস বিতানের স্বত্বাধিকারী মো. কবিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, গরুর দাম বেশি, তাই বেশি দামে মাংস বিক্রি করতে হচ্ছে। বিদেশি গরু আসা প্রায় বন্ধ, চামড়ার দামও কমেছে। যার কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত রেটে কেন বিক্রি করছেন না এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. কবির বলেন, যারা এসি রুমে বসে দাম নির্ধারণ করেছেন তাদের কমদামে গরু কিনে দিতে বলেন, আমরা ৫২৫ টাকা কেন আরো অনেক কমে বিক্রি করব। চামড়ার দাম আশঙ্কাজনহারে কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতি সপ্তাহে ৪৫ হাজার টাকা চামড়ার বিল পেতাম এখন তা আট হাজারে ঠেকেছে।

‘শুধু ওপরে বসে নির্ধারণ করলে হয় না, বাস্তবতা জানতে হয় এবং বুঝতে হয়’ মন্তব্য করেন এই দোকানি।

তিনি বলেন, গত সোমবার ৭৬ হাজার টাকায় গরু কিনে ৫৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। মাংস হয়েছে ১৫০ কেজি। আমিসহ ৪ জন কর্মচারীর বেতন দেওয়ার পর পকেটে লাভের টাকা নাই। শুধু মাংসের দাম নির্ধারণ করে লাভ কী? মাছ, সবজি ও মুদি দোকানের পণ্যের দামও নির্ধারণ করে দিতে বলেন।

দক্ষিণ বনশ্রী কাঁচাবাজারে কথা হয় সদাই কিনতে আসা লিয়াকত আলীর সাথে। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন দাম নির্ধারণ করলেও ৫২৫ টাকায় কোথাও মাংস বিক্রি হচ্ছে না। বাজারে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকায় মাংস বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হাড় দিচ্ছে বিক্রেতারা।

তিনি বলেন, দাম নির্ধারণ করে দায় এড়িয়ে গেলে হবে না। বরং বাজার মনিটরিং করে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৬ মে) নগর ভবনে মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে মাংসের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

এসময় দেশি গরুর মাংসের দাম সর্বোচ্চ ৫২৫ টাকা, বোল্ডার গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ৫০০, মহিষের মাংস ৪৮০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ টাকা ও ভেড়ার মাংস ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, বাজার মনিটরিংয়ে একাধিক টিম কাজ করছে। দাম বেশি রাখার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি সাবধান করে দিয়ে বলেন, তাদের ঈদের আনন্দ মাটি হয় যাবে। কারণ কারাগারে কাটবে তাদের ঈদ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads