• শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৫
ads
ঝড় শিলা বৃষ্টিতে শ্রীপুরে লিচু উৎপাদন কমেছে

ছবি: বাংলাদেশের খবর

জাতীয়

ঝড় শিলা বৃষ্টিতে শ্রীপুরে লিচু উৎপাদন কমেছে

  • রেজাউল করিম সোহাগ, শ্রীপুর
  • প্রকাশিত ১৬ মে ২০১৯

গাজীপুরের শ্রীপুরে এবার লিচুর গ্রামগুলোতেই লিচুর আকাল দেখা দিয়েছে। লিচুর এ ভরা মৌসুমে অধিক লিচু উৎপাদন হওয়া গ্রামের বাগানগুলো লিচু শূন্য হয়ে পড়ে আছে। বাজারেও নেই লিচুর বিক্রির হাকডাক। বাগানগুলোতেও নেই পাইকাদের আনাগোনা। এর প্রভার পড়েছে ক্রেতার ওপরে। লিচুর ফলন বির্পযয়ের কারণে বাজারে বেশি দামে লিচু কিনছে ক্রেতারা। লিচুর ফুলের সময় অধিক শিলা বৃষ্টির কারনেই এ ফলন বিপর্যয় হয়েছে লিচুর। এখনো বিভিন্ন গ্রামের লিচু বাগানের গাছগুলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে আছে। কোনো কোনো বাগানের অনেক গাছই গোড়া থেকে উপড়ে পড়ে আছে। সবুজ পাতার লিচু গাছগুলো কঙ্কালসার হয়ে দাড়িয়ে আছে  বাগানে বাগানে। 

লিচু চাষিরা জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে বেশ কয়েকবার শ্রীপুরের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে  ঝড় ও শিলাবৃষ্টি। এতে এ অঞ্চলের লিচুর মোট উৎপাদনের সমীকরণ পাল্টে গেছে। বিপর্যয় ঘটেছে লিচুর ফলনে। ঝড়ে শিলাবৃষ্টিতেই কৃষকের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। এ মৌসুমে অনেক পরিবারেই লিচু কিনে খেতে হবে।

কৃষি অফিস বলছে, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে এই উপজেলার ৮ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের নিচে লিচুর ফলন কম হয়েছে। তবে বাগান মালিকদের হিসাবে তা ৬০-৭০ শতাংশ। ঝড়ের কবলে পড়ে কোনো কোনো বাগান মালিক তাদের বাগানের সবগুলো গাছই হারিয়েছেন। অনেক বাগান মালিক গত বছর ৬-৭ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু এ বছর কোনো লিচুই নেই তাদের বাগানে। এবার লিচুর ফলন বিপর্যয় চাষিরা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলো। তার আরো জানান শ্রীপুরে লিচু বাগানের সংখ্যা আড়াইশর বেশি। অঞ্চলে ৭২৫ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। এ মৌসুমেই কয়েক হাজার মানুষর এ লিচুকে ঘিরে জীবিকা নির্বাহ করে।  

স্থানীয় চাষিরা  জানান উপজেলার কেওয়া, শ্রীপুর, টেপিরবাড়ি, উজিলাব ও রাজাবাড়ি এলাকা লিচুহীন হয়ে পড়ে রয়েছে লিচু বাগানগুলো। বাগানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে ভেঙে যাওয়া মরা লিচু গাছ। লিচু বাগান দেখলেই কান্না চলে আসে।

কেওয়া গ্রামের আলমাস আকন্দ জানান, লিচুর ফুলের সময় (মুকুল) বাগান বিক্রির জন্য দাম করা হয়েছিল পাঁচ লক্ষ টাকা।  একদিন পড়েই শিলাবৃষ্টি আর ঝড়ে সব লিচুর মুকুল মাটিতে পড়ে গেছে। গাছ উপড়ে পড়ে তছনছ হয়ে যায় লিচু বাগান। সে পাঁচ লক্ষ টাকার বাগান এখন লিচু শূন্য হয়ে পড়ে আছে।

টেপিরবাড়ি গ্রামের রুহুল আমীন বলেন, গত বছর তার দেড় লাখ টাকার লিচু বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এ বছর কেবল ঝড়ের কবলে পড়ে তার বাগানে কোনো লিচুই আসেনি। এবার লিচু খেতে হলে তাকে বাজার থেকে কিনে খেতে হবে।

তিনি বলেন, প্রতি বছরই সোনারগাও থেকে পাইকাররা এসে গাছতলায় অস্থায়ী বাসস্থান করে লিচু পাহারা দিয়ে রাখত। এবার কোনো বেপারি নাই বাগানগুলোতে।  গত ৪০ বছরে এমন ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হয়নি শ্রীপুরের লিচু বাগান মালিকেরা।এখন ক্ষতবিক্ষত লিচু গাছগুলো অসাড় দাড়িয়ে আছে।

উপসহকারী কৃষি অফিসার আইরিন সুলতানা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাগানের এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চাষীদের কয়েক বছর সময় লাগবে। ঝড়ে অনেক বেশি লিচু গাছ ভেঙে পড়েছে। এসব গাছ ফলনশীল হতে সময় লাগবেই। 

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এস এম মূয়ীদুল হাসান জানান, যখন লিচু গাছে মুকুল পরিপক্ক হচ্ছিল ঠিক সে সময়ই কবলে পড়ে লিচু গাছগুলো। শ্রীপুরের উৎপাদিত লিচু স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার বাজারেও যেতো। এ অঞ্চলের লিচুর স্বাদ ও গন্ধ আলাদা। কিন্তু এবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে বাগান মালিকেরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এ ক্ষতি পুষাতে সময় লাগবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads