• বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৫
ads
সামাজিক নিরাপত্তায় পরিবর্তন আসবে

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

সামাজিক নিরাপত্তায় পরিবর্তন আসবে

  • জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ১১ জুন ২০১৯

চার লাখ দরিদ্রকে দিয়ে চালু করা বয়স্ক ভাতার আওতায় এসেছেন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৪০ লাখ মানুষ। বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় প্রায় ৭৬ লাখ অসচ্ছল মানুষকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে সরকার। তবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী নির্ধারণ ও অর্থ হস্তান্তরে বরাবরই অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। তাই সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য আসছে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থা চালু হলে সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের কর্মীরাও অবসর পরবর্তী সময়ে ভাতা পাবেন। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে সরকার। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা থাকবে বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা। আর সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু হলে অনেকটাই কমে আসবে বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার মতো কার্যক্রম।

সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে কর্মে নিয়োজিত আছেন ৫ কোটি ৪১ লাখ মানুষ। হাতেগোনা কয়েক লাখ কর্মী ছাড়া প্রায় সবাই নিয়োজিত আছেন বেসরকারি খাতে। সরকারের কয়েক লাখ কর্মী ছাড়াও বেসরকারি খাতের কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা তহবিল চালু করেছে। তবে পেনশন ব্যবস্থা না থাকায় বেসরকারি খাতের বিপুলসংখ্যক কর্মীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে রয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের চলমান ৭৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তায় সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর শর্ত রেখেছে বহুজাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বাংলাদেশে সরকারের পেনশন ব্যবস্থায় অনেক ত্রুটি রয়েছে। এসব ত্রুটি দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি পর্যায়ে বেতনভাতা বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যৎ পেনশন পরিশোধে চাপ তৈরি হতে পারে। বেসরকারি খাতে পেনশন চালু করতে হলে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে। এতে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্মীর কতটুকু অংশ থাকবে এ বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। তা ছাড়া সব প্রতিষ্ঠানকে পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে বাধ্য করাও একটু কঠিন হবে। তবে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হলে বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার মতো কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই ফুরিয়ে আসবে বলেও তিনি মনে করেন।

বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রণীত জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়ন করছে সরকার। সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে জিইডির সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, বেসরকারি খাতে চাকরির নিশ্চয়তা নেই বললেই চলে। সারা জীবন কাজ করে অনেকেই প্রভিডেন্ড ফান্ডের সামান্য অর্থ নিয়ে অবসরে যেতে বাধ্য হন। অনেকের ভাগ্যে তাও জোটে না। এ অবস্থায় বেসরকারি খাতের কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বড় অবলম্বন হতে পারে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা। আমাদের প্রতিবেশী অনেক দেশেই এ ব্যবস্থা আছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার ধারণা সামনে আনেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এরপর টানা তিন বছর এ বিষয়ে কাজ করেছে সরকারের বিভিন্ন পক্ষ। আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিষয়টা অনেকটাই দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এক্ষেত্রে সরকারি পর্যায়ে পেনশনভোগীদের জমা করা অর্থ কীভাবে বিনিয়োগের কাজে লাগানো যায়, আগে সে পথ খুঁজে বের করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। বিনিয়োগকৃত অর্থ থেকে পাওয়া লভ্যাংশেই পেনশন কার্যক্রম পরিচালনার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত সরকারের রয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে সবার জন্য পেনশন সুবিধা চালু করতে চায় সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশনের মতোই একটি কাঠামো তৈরি করা হবে। পেনশনভোগীদের প্রতি জনের আলাদা একটি হিসাব নম্বর থাকবে। মাস শেষে সে হিসাবে টাকা জমা দেবেন। টানা কত মাস এ তহবিলে টাকা জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীকে এ কার্যক্রমের বাইরে রাখা হবে তাও নির্ধারণ করা হবে। আগামী অর্থবছরের বাজেটে তহবিল সংগ্রহ, কর্তৃপক্ষ গঠন, পেনশনের টাকা বিনেয়োগের খাত নির্ধারণ, চাকরির ধরনসহ সার্বিক বিষয়ে ধারণা দেওয়া হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারি বেতন থেকে যে অর্থ পেনশনের জন্য কাটা হয়, তা বিনিয়োগ হয় না। এসব অর্থ সরকারি বন্ড কেনা অথবা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিলে ২০ বা ২৫ বছর পর বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়া যাবে। ওই লাভের অঙ্ক থেকে পেনশনভোগীদের সুবিধা দেওয়া সম্ভব। এতে সরকারের দায় কমবে। সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হচ্ছে। প্রায় ১৩ লাখ গরিব মানুষকে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর ফলে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসবে প্রায় ৮৯ লাখ গরিব মানুষ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads