• শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
‘ল্যাম্বরগিনি’ বানালেন নারায়ণগঞ্জের আকাশ

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

‘ল্যাম্বরগিনি’ বানালেন নারায়ণগঞ্জের আকাশ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৭ জুন ২০১৯

প্রথম দর্শনে ভাবতে পারেন বিদেশি কোনো গাড়ি, কিংবা মনে হতে পারে বিদেশি গাড়ির বডি খুলে এনে নতুন করে রিকন্ডিশন করা হয়েছে। কিন্তু মোটেও তা নয়। পুরোপুরি নিজের হাতে বিখ্যাত স্পোর্টস কার ‘ল্যাম্বরগিনি’-এর আদলে গাড়ি তৈরি করেছে ফতুল্লার লামাপাড়ার আকাশ আহমেদ।

আকাশের এ ব্যাটারিচালিত গাড়ি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে প্রায় ১০ ঘণ্টা চলতে পারে। পুরো গাড়িটি তৈরি করতে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা।  খবর ইউএনবির।

লামাপাড়ার মো. নবী হোসেনের ছেলে আকাশ। ছোটবেলা থেকেই শখ ছিল নিজের তৈরি গাড়িতে চড়বেন। তবে তার এ স্বপ্নকে পরিচিতজনরা খুব একটা গুরুত্ব দেননি। কিন্তু সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন তিনি।

স্বপ্নের বাস্তবায়ন শুরু দেড় বছর আগে। ওয়ার্কশপে অটোরিকশার বডি তৈরি করতে করতে এক সময় আকাশ বাবার কাছে প্রস্তাব দিল গাড়ি বানাবেন তিনি। বাবা না করতে গিয়েও চিন্তা করল, ছেলেটাই সবচেয়ে বেশি কাজ করে পুরো ওয়ার্কশপে। না করে দিলে হয়ত মন খারাপ করে কাজে মন দেবে না। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছেলেকে অনুমতি দিলেন গাড়ি নির্মাণের। আর সেই থেকেই যাত্রা শুরু। ক্যালেন্ডারের পাতায় ইতালির বিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘ল্যাম্বরগিনি’ গাড়ির মডেল দেখে সেটিকে অনুসরণ করে সামনে এগোতে থাকেন আকাশ।

বাবার কাছ থেকে প্রতিদিন ১-২ শ টাকা নিয়েই ধীরে ধীরে কাজ শুরু। সেই সাথে ইউটিউব থেকে টিউটোরিয়াল অনুসরণ। জাহাজ কাটার অভিজ্ঞতা থেকে ইস্পাতের পাত কেটে কেটে তৈরি করা হয় গাড়ির বডির আকার। নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ আর জোড়াতালি সবই নিজের হাতে করেন আকাশ।

 ‘গাড়ির চাকা আর স্টিয়ারিং হুইলটাই কেবল কিনে আনা হয়েছে। বাকি সব কিছু আমার নিজের হাতে তৈরি। চাকার সাসপেশন, হেডলাইট, ব্যাকলাইট ও গিয়ার- এসবও নিজের হাতে তৈরি করেছি, যা অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রায় দেড় বছরের টানা প্রচেষ্টায় আজ সেটি পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে পরিণত হয়েছে,’ বলেন আকাশ। 

তিনি জানান, গাড়িটিতে পাঁচটি ব্যাটারি লাগানো হয়েছে, যেটি প্রায় ১০ ঘণ্টা চলতে সক্ষম। আর ব্যাটারি চার্জ হতে লাগে ৫ ঘণ্টা। দুজন আরোহী নিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে গাড়িটি।

‘ঈদের ছুটিতে গাড়িটি রাস্তায় নামানোর পরই অসাধারণ সাড়া পেয়েছি। তবে এতে আরও কিছু কাজ বাকি আছে। যেমন গাড়ির দরজাগুলো সুইচের মাধ্যমে অটো করা হবে,’ যোগ করেন তিনি।

নিজের পরবর্তী লক্ষ্য নিয়ে আকাশ বলেন, ‘সরকারের কাছে অনুরোধ করব যাতে আমাকে গাড়িটি বাজারজাত করার অনুমতি দেয়। অন্য কারও কাছে আমি এটির নকশা বিক্রি করতে চাই না। দেশীয় প্রযুক্তি ও পরিবেশ-বান্ধব এ গাড়ি দেখে আমি আরও ২৫টি গাড়ি তৈরির অর্ডার পেয়েছি। উন্নতভাবে বাজারজাত করলে ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকাতেই মানুষ পরিবেশ-বান্ধব এ গাড়ি ব্যবহার করতে পারবে।’

নিজের জন্য আরেকটি গাড়ি বানানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তা কোন মডেল অনুসারে হবে সেটি বলতে চাননি আকাশ।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads