• বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬
ads
বিশ্বে তামাকে মৃত্যু বছরে ৭০ লাখ

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

বিশ্বে তামাকে মৃত্যু বছরে ৭০ লাখ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২০ জুন ২০১৯

তামাকের কারণে পৃথিবীতে প্রতিবছর ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ অকালে মারা যায়। যার মধ্যে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়ে মারা যায় ৯ লাখেরও বেশি মানুষ। বাংলাদেশে তামাকের ভয়াবহতা অত্যন্ত ব্যাপক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০০৪ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ধূমপান ও তামাক সেবনের কারণে ১২ লাখ মানুষ ১৮টি প্রাণঘাতী অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়। এজন্য তামাক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বাবলু কুমার সাহা।

গতকাল সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাবলু কুমার সাহা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে জাতীয়ভাবে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তামাকের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর ৭০ লক্ষাধিক মানুষ অকালে মারা যায় জানিয়ে তিনি বলেন, তামাক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন-প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির ওপর প্রভাব পড়ে। তামাক সেবন প্রাণঘাতী নেশা। তামাক সেবনের কারণে হূদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ দেখা দেয়। প্রাণঘাতী এসব রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে তামাকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী (যুগ্ম সচিব) মো. খায়রুল আলম সেখ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তামাক উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির ওপর তামাকের প্রভাব অত্যন্ত নেতিবাচক। ধূমপান ও ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন দুটিই ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী নেশা। পরোক্ষ ধূমপানও অধূমপায়ীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তামাক সেবনের কারণে হূদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার, ডায়াবেটিস, ক্রনিক লাং ডিজিজসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ দেখা দেয়। প্রাণঘাতী এসব রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি।

ডব্লিউএইচও-এর ২০০৪ সালের গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, বাংলাদেশে ধূমপান ও তামাক সেবনের কারণে ১২ লাখ মানুষ আটটি প্রাণঘাতী অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়, এর মধ্যে ৩ লাখ ৮২ হাজার মানুষ অকাল পঙ্গুত্বের শিকার হয়। টোব্যাকো এটলাস শিরোনামের আন্তর্জাতিক এক প্রকাশনায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে ১ লাখ ৬১ হাজারের অধিক মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যায়।

জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী বলেন, ধূমপান মাদক সেবনের প্রবেশপথ। তামাক সেবনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম মাদকের দিকে ধাবিত হয়ে পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এজন্য তামাক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সক্রিয় হতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে তামাকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে শামিল হতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, তামাক ব্যবহার রোধে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি প্রণীত হতে যাচ্ছে। আইন ও বিধি বাস্তবায়নে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি ও তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রণয়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া বর্তমানে প্রচলিত তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বড় করার পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে ২০৪০ সালের মধ্যে অবশ্যই তামাকমুক্ত করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads