• বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৬
বিদেশি বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে : জয়

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

বিদেশি বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে : জয়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১১ জুলাই ২০১৯

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের দেশে বিনিয়োগের জন্য বিদ্যমান নীতি ও আইনের পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতবিষয়ক উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।

তিনি বলেন, আমরা ডিজিটাল সেক্টরে এখন যেটা ফেস করছি তা হলো বাইরের অনেক কোম্পানি আসতে চায়। বিনিয়োগ করতে চায়। তবে আমাদের অনেকের মধ্যে একটি ধারণা রয়ে গেছে, বিদেশি কোম্পানি এসে খালি প্রফিট নিয়ে চলে যায়। ভেবে দেখুন, আজকে যদি বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে না আসত থ্রিজি, ফোরজি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারতাম না। তিনি আরো বলেন, তারা কিন্তু দেশে এসে শুধু প্রফিট নিয়ে চলে যায়নি। তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। কত মানুষের লাভ হয়েছে, তারা ট্যাক্স দিচ্ছে। আজকের যুগ বিশ্বায়নের। নিজেদের আলাদা করে রাখতে পারি না। অর্থনীতি আরো ওপেন করতে হবে। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।

গতকাল বুধবার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ : সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ শীর্ষক এক কর্মশালায় সজীব ওয়াজেদ জয় এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের আয়োজনে সংসদ সদস্যদের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে ধারণা দিতে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতিযোগী হিসেবে না দেখে তাদের সঙ্গে পার্টনারশিপ করে এগিয়ে যেতে হবে। এটা করতে হলে নীতিমালা, আইনের দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন। করতে পারলে আমরা আরো দ্রুত এগিয়ে যেতে পারব।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ায় যেকোনো কোম্পানি বিনিয়োগ করতে পারে। আমাদের সেদিকে যেতে হবে। সরকার একা সব পারে না। সরকারের সবকিছু করা উচিতও না। কারণ সরকার যদি সবকিছু করতে যায়, তখন আরেকটি বিষয় দাঁড়ায়। সেটা হলো সিস্টেম লস। বেসরকারি খাত লাভ-লোকসান বেশি দেখে। সেখানে সিস্টেম লস কম।

বিনিয়োগ বাড়াতে মানসিকতার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, প্রয়োজন হলো আমাদের নিজেদের মাইন্ড সেট পরিবর্তন করা। তরুণ প্রজন্ম এবং সিনিয়রদের মধ্যে একটা জেনারেশন গ্যাপ থাকে। এটা বাস্তব। আমি একটু অনুরোধ করব, আমরা এখন আধুনিক পদ্ধতিতে নিজেদের চিন্তাধারা, ভয় ছেড়ে আরো অন্য যেসব দেশ এগিয়ে গেছে যেমন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া তাদের কাছ থেকে উদাহরণ নিয়ে নিজেদের নিয়ম-আইন-নীতিমালা একটু দ্রুত পরিবর্তন করব।

তিনি বলেন, দশ বছর আগে আমাদের দেশে শুধু টুজি ছিল। দশ বছরে আমরা শুধু থ্রিজি নয়, ফোরজিতে চলে এসেছি। আর আমাদের এখন পরিকল্পনা আছে যে সারা বিশ্বে যখন ফাইভজি আসবে তার সঙ্গে সঙ্গে এগোনোর।

টেলিযোগাযোগ নীতিমালা পরিবর্তনের ইঙ্গিত : অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিদ্যমান টেলিযোগাযোগ নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের আইসিটি অবকাঠামো যেটা করেছি-যেমন হাইটেক পার্ক, ডেটা সেন্টার, এগুলো আপনারা দেখেছেন। আরেকটা হলো আমাদের টেলিকমিউনিকেশন। আমাদের ডেটা নেটওয়ার্কটাই আইসিটির রাস্তা। আপনারা যেমন নির্বাচনী এলাকায় রাস্তার কাজ করেন। সেই টেলিকমিউনিকেশনের রাস্তার কাজ আমরা করছি। দশ বছর আগে আইসিটি মন্ত্রণালয় বলতে কিছু ছিল না। বাংলাদেশ সংসদ বিভিন্ন আইন করে এই মন্ত্রণালয় আজকে বাস্তবায়ন হয়েছে। সেগুলো আমরা নতুন করে করার সুযোগ পেয়েছি। তিনি এও বলেন, কিন্তু আমাদের টেলিকমিউনিকেশন এখনো সেই ২০ বছর আগের। এটাকে আমাদের নতুন করে মডেল পদ্ধতিতে আনার প্রয়োজন। আমি উদ্যোগ নিয়েছি। প্রায় ১৫ বছরের পরিকল্পনা করেছি। আমরা সম্পূর্ণ নতুন একটা টেলিকমিউনিকেশন পলিসি করব। সজীব ওয়াজেদ বলেন, এটা লংটার্ম ভিশন। এটা না করলে একপর্যায়ে আমরা আটকে যাব। ইনফ্যাক্ট আমরা প্রায় সেই পর্যায়ে চলে এসেছি। এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, টেলিকমিউনিকেশন পলিসিটাকে সম্পূর্ণ পাল্টাতে হবে।

গত দশ বছরে আইসিটি খাতে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনি যখন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে যাবেন বা জমির রেকর্ড নিতে যাবেন আগে কী করতে হতো? আপনার পরিচয়ের প্রমাণ দিতে হতো। জন্মসনদ আনতে হতো। ইউএনওর কাছ থেকে সনদ আনতে হতো। এখন সেই তথ্য সরকারি ডেটাবেইসে আছে। ন্যাশনাল আইডিতে আছে। এখন আর সনদ আনতে হয় না। এখন শুধু এনআইডি দেবেন।

তিনি আরো বলেন, এখন আমি এটাকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আপনার এখন আর ন্যাশনাল আইডিও লাগবে না। আপনার আঙুলের ছাপ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চলে আসবে। এই তথ্য আমাদের নিজস্ব ডেটাবেইসে আছে। সুবিধা কী হচ্ছে? সময় বেঁচে যাচ্ছে।

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা বর্তমান প্রক্রিয়া শুধু ডিজিটাইজ করছি না। আমরা প্রক্রিয়াটা সরল করে ডিজিটাইজ করছি। সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করব, এই পয়েন্টটা মাথায় রাখবেন। আপনারা যখন বিভিন্ন প্রকল্প নেবেন, একটু মনে রাখবেন আগে কীভাবে এসেছে, কী ফাইল, ডকুমেন্ট প্রয়োজন সেভাবেই যে করতে হবে, তা কিন্তু না। যেসব কাগজপত্র আর প্রয়োজন নেই আপনারা নতুন পদ্ধতিতে প্রকল্প যাতে হয়, সেটা নজর রাখবেন।

সংসদ সচিব জাফর আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads