• বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
‘৩২ লাখ মানুষ খোলা জায়গায় মলত্যাগ করেন’

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

‘৩২ লাখ মানুষ খোলা জায়গায় মলত্যাগ করেন’

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১২ জুলাই ২০১৯

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশের প্রায় ৩২ লাখ মানুষ এখনো খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগ করেন। সরকারের নানা উদ্যোগ এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে ধীরে ধীরে এই সংখ্যা কমে এলেও তা নির্মূল করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ২ শতাংশ মানুষ মলত্যাগ করে খোলা আকাশের নিচেই। পল্লী অঞ্চলের ৬ লাখ ২৯ হাজার ৩৯০ জন মানুষ অর্থাৎ ২ দশমিক ২৯ শতাংশ মানুষ খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগ করছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্ট অব বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০১৮-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৫ সালে দেশে খোলা আকাশের নিচে মলত্যাগ করত নয় দশমিক এক শতাংশ। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটি কমে আসছে। ২০০৬ সালে এ হার দাঁড়ায় আট দশমিক নয় শতাংশে। এভাবে ২০০৭ সালে সাত দশমিক দুই শতাংশ, ২০০৮ সালে ছয় দশমিক ছয় শতাংশ, ২০০৯ সালে সাত দশমিক দুই শতাংশ, ২০১০ সালে দুই দশমিক দুই শতাংশ, ২০১১ সালে দুই দশমিক সাত শতাংশ, ২০১২ সালে দুই দশমিক ছয় শতাংশ, ২০১৩ সালে দুই দশমিক দুই শতাংশ, ২০১৪ সালে দুই দশমিক এক শতাংশ, ২০১৫ সালে তিন দশমিক তিন শতাংশ, ২০১৬ সালে দুই দশমিক সাত শতাংশ, ২০১৭ সালে দুই দশমিক ছয় শতাংশ এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে খোলা জায়গায় মলত্যাগ করা মানুষের হার কমে দুই শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে এখন স্যানিটারি পায়খানা ব্যবহার করে ৭৮ দশমিক এক শতাংশ মানুষ। এছাড়া অন্যান্য পায়খানা ব্যবহার করে ১৯ দশমিক নয় শতাংশ মানুষ।

এ প্রসঙ্গে মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, ১৯৮০ সাল থেকে দ্বৈত পদ্ধতিতে জন্ম-মৃত্যু, বিবাহ, স্থানান্তর এবং খানার (পরিবারের) বৈশিষ্ট্য সংক্রান্ত নানা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ১৯৮০ সালে মাত্র ১০৩টি নমুনা এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হতো। পরবর্তীকালে ১৯৯৫ সালে নমুনা এলাকার সংখ্যা ৫০০টিতে উন্নীত করা হয়। এছাড়া জেলা পর্যায়ের তথ্য উপস্থাপনের জন্য ২০০০ সালে একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০০২ সালে নমুনা এলাকা বৃদ্ধি করে এক হাজার করা হয়। ২০১৮ সালে সারা দেশের ২ হাজার ১২টি নমুনা এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই নমুনা এলাকার পরিবারের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৯৭ হাজার ২৩৩টি। তাই এই জরিপের তথ্য সঠিক বলা যায়।

তিনি আরো বলেন, এ জরিপটি পরিচালনা করা হয়েছে পল্লী এলাকায়। তাই চরাঞ্চলের বেশিরভাগ বাড়িতেই দেখা গেছে পায়খানা নেই। তারা খোলা জায়গায় মলত্যাগ করেন। এছাড়া একেবারেই হতদরিদ্র কিছু মানুষ রয়েছেন যারা বাঁধের ওপর কিংবা কোনো খাসজমিতে অস্থায়ী ভিত্তিতে বসবাস করছেন। তারা তো দু’বেলা দু’মুঠো খাবারই জোগাড় করতে পারেন না ঠিকমতো। তাই তাদের পায়খানা নিয়ে কোনো ভাবনাও নেই।

এর আগে গত রোববার প্রকাশ করা হয় কৃষি ও পল্লি পরিসংখ্যান রিপোর্ট ২০১৮-এর প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, দেশের পল্লি এলাকার ২ দশমিক ২৯ শতাংশ মানুষ এখনো খোলা জায়গায় মলত্যাগ করছে। এর সংখ্যা হচ্ছে, ৬ লাখ ২৯ হাজার ৩৯০ জন। এছাড়া স্যানিটারি পায়খানা ব্যবহার করে ৩২ দশমিক ১২ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ ৮৮ লাখ ২৭ হাজার ৩২১ জন। কাঁচা পায়খানা ব্যবহার করে ২৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৩৯ জন। কূপ বা ইঁদারায় মলত্যাগ করেন সবচেয়ে বেশি- ৩৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ অর্থাৎ ১ কোটি ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৩০৩ জন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads