• শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৫
ads
এরশাদের কুকর্ম ঢাকার সুযোগ নেই

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

৯০’র ছাত্র নেতাদের প্রতিক্রিয়া

এরশাদের কুকর্ম ঢাকার সুযোগ নেই

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৫ জুলাই ২০১৯

এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রধান নিয়ামক শক্তি ছিল ছাত্রসমাজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত হয়েছিল সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য। ছাত্রসমাজের এই বিশাল ঐক্যের নেতৃত্ব দেয় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ওই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলই নিরঙ্কুশ বিজয়ী হয়। ডাকসু ভিপি হিসেবে আমান উল্লাহ আমান ছিলেন সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, ছাত্রলীগ (জাসদ) সভাপতি নাজমুল হক প্রধান, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জহিরউদ্দিন স্বপন প্রমুখ এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ছিলেন।

সাবেক ওই ছাত্র নেতাদের মধ্যে আমান ও হাবিব বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য। জহিরউদ্দিন স্বপন নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহ-সম্পাদক। নাজমুল হক প্রধান হচ্ছেন জাসদ (ইনু) নেতা।

হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘মানুষ মারা যাওয়ার পরে তো বলার কিছু থাকে না এটাই বাস্তবতা। কর্ম মুছে যাবে না, ইতিহাস থাকবে এবং তার কর্ম তার পরবর্তী জীবনে ধর্ম বিশেষে যে যেটা বিশ্বাস করে তার সাজাপ্রাপ্ত হলে সেটা হবে। তবে সাধারণ মানুষ মারা যায় তার একটা প্রতিক্রিয়া হয়। আর ইনি (এরশাদ) বৈধভাবে নির্বাচিত একটি সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন, অবৈধ ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য অনেকগুলো মানুষকে হত্যা করেছেন, যেমন দীপালী সাহা, জাফরুল, জয়নাল, সেলিম, দেলোয়ার, ময়েজউদ্দিন, মাহফুজ, তাজুল, জেহাদ, ডা. মিলন, নুর হোসেন। রাজনৈতিক ময়দানে শেখ হাসিনার (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) মিটিংয়ে গুলি করে হত্যা করেছে...। এসব করেছে ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য।’

ওই সময়ের স্মৃতিচারণায় হাবিব বলেন, ‘সেই লোক (এরশাদ) আজকে মারা গেছেন। তার এই অপকর্মগুলো, তার কারণে এতগুলো সম্ভাবনাময় মানুষের জীবন গেল, ময়েজউদ্দিন ভাই একজন ভালো রাজনৈতিক নেতা ছিলেন, তাজুল একজন শ্রমিক নেতা ছিলেন। আজকে তাদের পরিবারগুলোর কী অবস্থা? এর দায় কে নেবে? একজন রাজনীতিবিদ মারা গেলে আমরা সাধারণত একটা স্টেটমেন্ট দিই, মাগফেরাত কামনা করি। উনার ক্ষেত্রে এসব প্রযোজ্য না। কারণ উনি বয়স শেষ করে গেছেন। উনার আর এদেশের মানুষকে দেওয়ার কিছু ছিল না, ভালো কিছু দেওয়ার ছিল না। উনার জন্য দুঃখ, হা-হুতাশ করার প্রয়োজন নেই এখানে।’

হাবিব বলেন, ‘উনি (এরশাদ) রাজনীতি শুরু করেছেন অবৈধভাবে। লাস্ট দিন পর্যন্ত উনি কর্দমাক্ত রাজনীতিতে ছিলেন। উনি যে সংসদের বিরোধী দলের নেতা হয়েছেন, সেই সংসদে জনপ্রতিনিধিও নেই, উনি অবৈধভাবে হয়েছেন অবৈধ সংসদের মাধ্যমে। অর্থাৎ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে উনি অবৈধ একজন সংসদ সদস্য হয়েছেন। এর বিচার উনার পরবর্তী জীবনে যেটা হবার সেটা হবে। আমি শুধু এটুকু বলব, মানুষ চলে গেলে বলার কিছু নেই, কিন্তু অপকর্ম ঢাকার কোনো সুযোগ নেই।’

ওই সময়ে ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, ‘প্রথম কথা হলো যে, যে কোনো মানুষের মৃত্যুই শোকাবহ। এরশাদ সাহেব শুধু একজন স্বৈরশাসকই ছিলেন না, তিনি বাংলাদেশের রাজনীতির অনেক ঘটনা ও দুর্ঘটনার নায়ক। অবৈধ শাসক হিসেবে ওনার বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলন করার অভিজ্ঞতাও আমাদের রয়েছে। মানবিক শোকের পাশাপাশি তার এই রাজনৈতিক ভূমিকাও বাংলাদেশের ইতিহাসে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ থাকবে।’

এরশাদের শাসনামলে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ‘কারো মৃত্যুই আমরা কামনা করি না, এরশাদের মৃত্যুও আমরা কামনা করিনি। তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ অবস্থায় মারা গেছেন। একজন মুসলমান হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে এতে খুশি হওয়ার কারণ নেই।’

এরশাদের শাসনামলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বামপন্থী এই নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের কাছে এরশাদের একটা বিশেষ পরিচয় আছে সেই পরিচিতি হচ্ছে- উনি একজন ঘৃণিত স্বৈরশাসক। ওনার ৯ বছরের শাসনকালটা দেখবেন— উনি জনগণের একটি নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে জোর করে ক্ষমতা দখল করেছেন, গণতন্ত্রকে উনি হত্যা করেছেন, উনি দেশে স্বৈরশাসন কায়েম করেছেন, জোর-জবরদস্তিমূলক, নিপীড়নমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছেন। আমরা তার এই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ও জনগণ আন্দোলন করেছে। ছাত্র-জনতার এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে উনি নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছেন। ওনার হাতে আমাদের অসংখ্য সহকর্মীর রক্তের দাগ লেগে আছে। ওই সময়ের অসংখ্য ছাত্র, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, পেশাজীবী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে, উনি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর নিষ্ঠুর গ্রেফতার-নির্যাতন চালিয়েছেন। এসব ইতিহাস। এই ইতিহাস তো ভুলে যাওয়া যাবে না।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads