• রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ডেঙ্গু রোগী ভর্তির হার কমেছে

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

ডেঙ্গু রোগী ভর্তির হার কমেছে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১০ আগস্ট ২০১৯

রাজধানী ও বাইরের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ২ হাজার ২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে সারা দেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে গিয়ে দাঁড়াল ৩৬ হাজার ৬৬৮ জনে। এর মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৮ হাজার ৭৬৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, তার আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২ হাজার ৩২৬ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। তারও আগের ২৪ ঘণ্টায় এই সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪২৮ জন। ফলে গত বুধবারের চেয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হতে আসা ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫ শতাংশ কমেছে বলে হিসাব দেখিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল এই পরিস্থিতির আরো উন্নতি হয়েছে।

গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৯৪৭ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫৫ জন ডেঙ্গু রোগী। তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন মোট ১ হাজার ১৫৯ জন। ঢাকার বাইরের জেলাগুলোর হাসপাতালে ভর্তি হন ১ হাজার ১৬৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৬৬৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। গতকাল সকাল নাগাদ সারা দেশে মোট ৮ হাজার ৭৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৫ হাজার ৪৬ জন। বাকি জেলাগুলোর বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩ হাজার ৬৮৭ জন।

সরকারি হিসাবে চলতি বছর এপ্রিলে ৫৮ জন, মে মাসে ১৯৩ জন, জুনে ১৮৮৪ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। জুলাই মাসে তা এক লাফে ১৬ হাজার ২৫৩ জনে পৌঁছায়। আর আগস্টের প্রথম আট দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৮ হাজার ২০৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, রোগীর সংখ্যা বাড়লেও রোগমুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে গেছেন। এসব জেলায় ভর্তি হয়েছেন মোট ২৩৮ জন। আগের দিন ২৮৩ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছিল। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২২৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৪৯ জন, বরিশাল বিভাগে ১৬৭ জন, রাজশাহী বিভাগে ১০৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭০ জন, রংপুর বিভাগে ৭৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ২৯ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে গেছেন।

ডেঙ্গুর বাহক মশা এইডিস এজিপ্টি প্রধানত শহরে পাওয়া গেলেও মানুষের ভ্রমণসঙ্গী হয়ে যানবাহনে করে তা পৌঁছে যাচ্ছে সারা দেশে। ফলে কোরবানির ঈদের ছুটিতে লাখো মানুষের দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। সে অনুযায়ী সরকারও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। কারো মধ্যে জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা গেলে ঢাকার বাইরে যাওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সরকার চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করলেও সংবাদমাধ্যমে আসা সংখ্যা এর কয়েকগুণ বেশি। এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার একটি গণমাধ্যমে জানান, এডিস মশা কামড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বোঝার উপায় নেই। ভাইরাসবাহিত এডিস মশা কামড়ানোর ৩-৪ দিন পর জ্বর আসে। এর আগে, কোনোভাবেই বোঝার উপায় নেই এডিস মশা কামড় দিয়েছে। এই মুহূর্তে যারা বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে, এমনটি প্লেনে যাচ্ছেন তাদের জন্য ঝুঁকি রয়েছে। কারণ পোকামাকড়ের বিস্তার পরিবহনের মাধ্যমেই হয়।

তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি এখন যেমন দাঁড়িয়েছে, তাতে বাংলাদেশে এখন সারা বছরই এডিস মশা দেখা যাবে। এই মুহূর্তে মশা কমানো খুব কঠিন। তবে ডেঙ্গুজ্বর কমতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে জনগণ সম্পৃক্ত হলে, সিটি করপোরেশন সক্রিয় থাকলে আগেও কমতে পারে। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে পাঁচ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে। সেটির অনুমোদন পেলে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads