• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
খুলনায় রেকর্ড বৃষ্টিতে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

খুলনায় রেকর্ড বৃষ্টিতে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৭ আগস্ট ২০১৯

প্রবল বর্ষণে খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ এলাকা তলিয়ে গেছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খুলনাবাসীর জনজীবন। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত মুষলধারে এবং পরে থেমে থেমে চলে বৃষ্টি।

আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস তথ্যে জানা গেছে, অল্প সময়ের মধ্যে অতিবর্ষণে খুলনাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত পড়েছে। জেলায় এ বৃষ্টিপাত বছরের সর্বোচ্চ হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, শুক্রবার রাত ৩টা থেকে খুলনায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়, যা শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ সময় ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ বছরের সর্বোচ্চ। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় খুলনাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের আনাগোনা কমে যায়। সকালের দিকে অফিসগামী মানুষের চলাফেরা বেশি থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে আনাগোনা কমতে থাকে। পেশার তাগিদে বা জরুরি কাজে যারা বের হয়েছেন, জলাবদ্ধতার কারণে রিকশা বা ইজিবাইক না পেয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে তাদের।

বৃষ্টিতে মহানগরীর শান্তিধাম মোড়, রয়্যাল মোড়, বাইতি পাড়া, তালতলা, মডার্ন ফার্নিচার মোড়, পিকচার প্যালেস মোড়, পিটিআই মোড়, সাতরাস্তার মোড়, শামসুর রহমান রোড, আহসান আহমেদ রোড, দোলখোলা, নিরালা, বাগমারা, মিস্ত্রিপাড়া, ময়লাপোতা, শিববাড়ি মোড়, বড় বাজার, বড় মির্জাপুর রোড, ছোট মির্জাপুর রোড, স্যার ইকবাল রোড, খানজাহান আলী রোড, খালিশপুর মেঘার মোড়, দৌলতপুর, নতুনবাজার, পশ্চিম রূপসা, রূপসা স্ট্যান্ড রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড, বাবুখান রোড ও লবণচরা বান্দা বাজারসহ প্রায় সব এলাকার রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

এসব এলাকার অনেক ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানিতে তলিয়ে গেছে। নিম্নাঞ্চলের বস্তি ঘরগুলোতে দেখা গেছে হাঁটুপানি।

বেসরকারি চাকরিজীবী নিয়ামুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে খালিশপুর এলাকা যানবাহন শূন্য। অফিসে যেতে ভীষণ বেগ পেতে হয়েছে। তিনি জানান, নগরীর মুজগুন্নী এলাকায় শিশুপার্কের সামনে প্রায় হাঁটুপানি। এছাড়া ভারী বৃষ্টিতে খালিশপুরের অধিকাংশ রাস্তা তলিয়ে গেছে। সব জায়গায় পানি আর পানি।

পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার বাসিন্দা শেখ রফিক বলেন, পানিতে সবাই গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। পূর্ব বানিয়াখামারের বি কে মেইন রোডে হাঁটুপানি জমে আছে। আশপাশের প্রায় সব ঘরবাড়ির নিচতলা তলিয়ে আছে। পানি উত্তোলনের পাম্প মেশিন তলিয়ে আছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অধিকাংশ পরিবারে রান্নার অভাবে সদস্যরা সকাল থেকে না খাওয়া। দোকান সব বন্ধ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছেন না।

নগরবাসী বলছেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ময়লা-আবর্জনা, খাল-ভরাট, অবৈধ দখল ও বাঁধ দিয়ে মাছ চাষসহ নানা কারণে সামান্য বৃষ্টিতে নগড়জুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুর্ভোগের শিকার হন নগরবাসী।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads