• শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ইতিহাস কলঙ্কের ১৫ বছর আজ

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

ইতিহাস কলঙ্কের ১৫ বছর আজ

তারেকসহ পলাতক আসামিরা অধিকাংশই দেশের বাইরে

  • আজাদ হোসেন সুমন
  • প্রকাশিত ২১ আগস্ট ২০১৯

২০০৪ সালের বর্বরোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৫তম বছর আজ। এদিন ঢাকায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে তার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায় হরকাতুল জিহাদ। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও নিহত হন আইভী রহমানসহ দলের ২২ নেতাকর্মী। আহত হন ৫ শতাধিক। মামলার চূড়ান্ত রায়ে ৫২ জনের মধ্যে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন  

কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাকি ১৮ জনকে দেওয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড। কারাগারে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, মেজর  জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আবদুর রহিম, জঙ্গি শাহদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মো. আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম, মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু উমর আবু হোমাইরা ওরফে পীর সাহেব, মাওলানা সাব্বির আহমদ ওরফে আবদুল হান্নান সাব্বির, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে ওভি, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, হোসাইন আহমেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আরিফ হাসান ওরফে সুজন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ, মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া ও আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, সাবেক আইজিপি শহুদুল হক, সাবেক আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আবদুর রশীদ, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম। 

এ ছাড়া মামলার ১৮ জন পলাতক আসামি হলেন-তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, মাওলানা মো. তাজউদ্দীন, মহিবুল মোত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মোরসালিম ওরফে  মোরসালিন, মো. খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর, মো. ইকবাল, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ওরফে  দেলোয়ার  হোসেন ওরফে জোবায়ের, কাজী শাহ  মোফাজ্জল  হোসেন কায়কোবাদ,  মো. হানিফ, মুফতি আবদুল হাই, রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে বাবু ওরফে রাতুল বাবু, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার, মেজর  জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন, খান সাঈদ হাসান, ওবায়দুর রহমান খান, মুফতি শফিকুর রহমান। 

ইতোমধ্যে একাত্তরেরর যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের এবং অন্য একটি মামলায় জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও শহিদুল আলম বিপুলের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। 

জানা গেছে, গ্রেনেড হামলার দিনই পুলিশ বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করে। পরদিন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করতে গেলে সেটা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে ২০০৪ সালের ২২ আগস্ট বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনকে চেয়ারম্যান করে এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে চারদলীয় জোট সরকার। ঘটনার ১০ মাসের মাথায় ২০০৫ সালের ৯ জুন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীরকোট গ্রামের বাড়ি থেকে জজ মিয়া নামের এক যুবককে সিআইডি আটক করে। জজ মিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়। এর প্রায় দুই বছর পর ২০০৬ সালের আগস্টে এই নাটকের পেছনের ঘটনা ফাঁস করে দেন জজ মিয়ার মা জোবেদা খাতুন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিআইডি এ মামলার অধিকতর তদন্ত করে এবং ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়। তাতে আরো ৩০ জনকে আসামি করা হয়।  

সেদিন যা ঘটেছিল : দুপুর ২টা থেকে সমাবেশস্থলে লোক জড়ো হতে থাকে। বিকাল ৪টায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের সমাবেশস্থল। বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের সময় সমাবেশস্থলে আসেন শেখ হাসিনা। তিনি ৫টার দিকে ট্রাক মঞ্চে ওঠেন। ভ্যাপসা গরমে অস্থির সবাই। ঠিক বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে হঠাৎ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল চারপাশ। শক্তিশালী ১৩টি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটল পরপর। মুহূর্তেই রক্তস্রোতে ভেসে গেল রাজপথ। ছিন্নভিন্ন মানবদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ল সবখানে। মেয়র হানিফের নেতৃত্বে একদল নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগ কর্মী মানবঢাল তৈরি করে শেখ হাসিনার প্রাণ বাঁচান। গ্রেনেড ছাড়াও শেখ হাসিনার বুলেটপ্রুফ গাড়ি লক্ষ্য করে ছুটে আসে ১২টি গুলি। এতে আওয়ামী লীগ অফিসের চারপাশে রক্তগঙ্গা বয়ে যায়। বীভৎস ওই গণহত্যার পরমুহূর্তে ঘটনাস্থলে হাত-পাসহ মানবদেহের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। ফিনকি দিয়ে মানবদেহ থেকে তখনো বেরিয়ে আসছিল রক্তস্রোত। ট্রাকের চারপাশেও ছিল জমাটবাঁধা রক্ত। চেয়ারের ওপর ছোপ ছোপ রক্ত। কমবেশি সবাই আহত হয়ে স্তূপাকারে মাটিতে পড়ে আছেন। শত শত মানুষ মরণ যন্ত্রণায় চিৎকার করছেন। চারদিকে ধ্বংসযজ্ঞ, আহাজারি। ছড়িয়ে আছে অসংখ্য জুতা-স্যান্ডেল, ব্যানার-ফেস্টুন। মুমূর্ষুদের আকুতি, কাতর গোঙানি, আর্তনাদের অবর্ণনীয় মর্মান্তিক দৃশ্য।  

আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। প্রাণভয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি। রিকশা-ভ্যানে ও ঠেলাগাড়িতে করে আহতদের নেওয়া হয় বিভিন্ন হাসপাতালে। আহতদের উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা ছিল না। উল্টো বেধড়ক লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল ছুড়েছে। সেদিন হিংস্র শ্বাপদের ভয়ংকর গ্রেনেড হামলার টার্গেট ছিলেন শেখ হাসিনা। আর জীবনবাজি রেখে মানববর্ম তৈরি করে তাকে বাঁচিয়েছেন প্রিয় সহকর্মীরা। আর পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিল। যে পুলিশ রক্ষক, তারাই ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল।  

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads