• সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
সম্পদ জব্দ হচ্ছে ১৩ প্রতিষ্ঠানের

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

ক্যাসিনোকাণ্ড

সম্পদ জব্দ হচ্ছে ১৩ প্রতিষ্ঠানের

নামে-বেনামে বেরিয়ে আসছে সম্পদের তথ্য

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ক্যাসিনো সম্রাট ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৩ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করা হচ্ছে। ব্যাংক হিসাব তলব, জব্দ করার পাশাপাশি তাদের যাবতীয় স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের জিরো টলারেন্স নীতি আদৌ কতটা সামনে এগিয়ে যাবে তার ওপর নির্ভর করবে এই কার্যক্রম।

বিশেষ করে এসব প্রতিষ্ঠানের অর্থ বা সম্পদ কোনো ব্যাংকের লকার বা ভল্টে থাকলে তা জব্দ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কেউ যদি সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে থাকে তাও জব্দ করতে হবে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে এসব হিসাব ও সম্পদ জব্দের একাধিক চিঠি পাঠায় সিআইসি। এতে বলা হয়, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ১১৬ (এ) মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও তার স্ত্রী, যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও তার স্ত্রী, জি কে শামীম, তার স্ত্রী ও তার মা এবং খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার সব ধরনের ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ)। এর পর ওই সাত ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেয় সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)।

ব্যক্তির পরিচিতিতে দেখা যায়, নুরুন্নবী চৌধুরী, পিতা-মো. নুরুল ইসলাম চৌধুরী, মাতা-হোসনে আরা বেগম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-১৯৬৮২৬৯৬৬৫৫৩০০৬৪২। ফারজানা চৌধুরী, স্বামী-নুরুন্নবী চৌধুরী, পিতা-মৃত কাউসার উদ্দিন আহমেদ, মাতা-সকিনা বেগম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-১৯৭৫২৬৯৬৬৫৫৩০০৬৪৩। ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, পিতা-ফয়েজ আহমেদ চৌধুরী, মাতা-সায়েরা খাতুন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-১৯৭১৩০১৫১৪৭৭৮৭৪৯৭। শারমিন চৌধুরী, স্বামী-ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, পিতা-মফিজ মিয়া, মাতা-মিসেস হনুফা বেগম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-১৯৭৮২৬৫০৮৯৮৫০৮০৭২। এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে (জি কে শামীম), পিতা-হাজি আফসার উদ্দিন মাস্টার, মাতা-আয়েশা আক্তার ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-১৯৭২২৬৯৬৮২৭৮২৯০৪৪। শামীমা সুলতানা, স্বামী-এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম বা জি কে শামীম, পিতা-মো. নুরুজ্জামান, মাতা-মিসেস পিয়ারা বেগম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-১৯৭৯২৬৯৬৮২৭৮২৯০৪৫। আয়েশা আক্তার, স্বামী-হাজি আফসার উদ্দিন মাস্টার, পিতা-সমির উদ্দিন, মাতা-গুলেশাহ বেগম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-১৯৪০৬৭১০৪৯৪৭৮০৬৭৭ এবং খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, পিতা-মো. আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, মাতা-খালেদা বেগম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-১৯৭৫২৬৯৬৮২৭৮৭২৮৮৯।  

জানা যায়, ব্যাংক হিসাবের বিভিন্ন লেনদেন জব্দের মধ্যে নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের নিজের ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সাতটি, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তিনটি, জি কে শামীমের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দুটি ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের পরিচিতিতে দেখা যায়, মেসার্স নাওয়াল কনস্ট্রাকশন ও মেসার্স আয়েশা ট্রেডার্সের মালিকের নাম উল্লেখ নেই। তবে উভয় প্রতিষ্ঠানের টিআইএন নম্বর-৩৬০২২৫৬৯২৪০৯। মেসার্স নাওয়াল কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড বিদ্যা নিকেতন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রোপাইটর নুরুন্নবী চৌধুরী। এ ছাড়া নাওয়াল কনস্ট্রাকশন নামের আরো একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো ঠিকানা উল্লেখ নেই তবে টিআইএন নম্বর দেওয়া আছে-১৫৯৪৪১৬৩৮৯৬৫। মেসার্স ফারজানা বুটিকের প্রোপ্রাইটর ফারজানা চৌধুরী এবং মেসার্স ইনটিশার ফিশারিজ ও মেসার্স ডিজিটাল টেকের প্রোপাইটরের জায়গায় নুরুন্নবী চৌধুরীর নাম উল্লেখ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান নুরুন্নবী চৌধুরী ও তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন।

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো- মেসার্স শারমিন এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির প্রোপ্রাইটর তার স্ত্রী শারমিন চৌধুরী আর মেসার্স হিজ মুভিজের স্বত্বাধিকারী ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। তবে প্রিন্সিপাল রিয়েল এস্টেটের কোনো মালিক উল্লেখ নেই। জি কে শামীমের দুই প্রতিষ্ঠান হলো- মেসার্স জি কে বিল্ডার্স। এর প্রোপ্রাইটর জি কে শামীম নিজেই। আর জি কে বি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের কোনো মালিক উল্লেখ করা হয়নি। তবে টিআইএন দেওয়া আছে ৩৭৮০৭০১৬৩২৪৫ এবং মেসার্স অর্পণ প্রোপার্টিজের মালিকানায় রয়েছেন খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

সিআইসির চিঠিতে বলা হয়, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত যেকোনো মেয়াদি আমানত (এফডিআর এসটিডি), মেয়াদি সঞ্চয়ী হিসাব, চলতি হিসাব, ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্ট জব্দ করতে হবে। এ ছাড়া এসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংকের লকার বা ভল্টে রাখা যেকোনো সম্পদ, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ জব্দ করার পাশাপাশি অন্য যেকোনো ধরনের সেভিংস ইনস্ট্রুমেন্ট বা ইনভেস্টমেন্ট স্কিম বা ডিপোজিট থাকলে তাও জব্দ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২০ সেপ্টেম্বর র্যাব সদস্যরা জি কে শামীমের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হানা দিয়ে তাকে ও তার সাত দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করেন। এরপর সেখান থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) কাগজপত্র (তার মায়ের নামে ১৪০ কোটি), ৯ হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরী ডলার, একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং মদের বোতল জব্দ করে র্যাব। অস্ত্র ও মাদক মামলায় জি কে শামীম এখন ১০ দিনের রিমান্ডে আছেন। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে বুধবার অবৈধ অস্ত্র ও ইয়াবা রাখার অপরাধে খালেদকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরদিন তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং মামলা করা হয়। এর মধ্যে মাদক ও অস্ত্র মামলায় সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এ ছাড়া মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় মহানগর গোয়েন্দাকে (ডিবি)।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads