• বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭

জাতীয়

মানবিক বিবেচনায় ভারতকে পানি -পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৭ অক্টোবর ২০১৯

তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো সুরাহা না হলেও ফেনী নদী থেকে দেশটিকে পানি দিতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় গত শনিবার দুই দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত এমওইউ স্বাক্ষর হয়।

তবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১০ সালেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় এমওইউ স্বাক্ষর হলো। মানবিকতা ও সুপ্রতিবেশী সুলভ মানসিকতা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্তে সম্মতি দিয়েছেন।

গতকাল রোববার পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত শনিবার নয়াদিল্লিতে ঢাকা-নয়াদিল্লির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। দুই দেশের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে ফেনী নদী থেকে ত্রিপুরায় সাবরুম শহরে পানি সরবরাহ প্রকল্পের বিষয়টি স্বাক্ষরিত হয়। ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি শুধু পানের জন্য বিধায় প্রতিবেশীসুলভ মানসিকতা ও মানবিক বিবেচনায় তাতে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পানির পরিমাণ হলো, ১ দশমিক ৮২ কিউসেক, যা পরিমাণে খুব সামান্য (১ কিউসেক সমান ২৮ দশমিক ৩২ লিটার/সেকেন্ড)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় ‘ডিসকাশন অব ওয়াটার রিসোর্স’ শিরোনামে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সেক্রেটারি লেভেলের সভা হয়। ওই সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তপত্রের ৯ নম্বর আর্টিকেলে বলা হয়, টেকনিক্যাল লেভেল সভার সুপারিশের ভিত্তিতে ফেনী নদীর ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি পানের জন্য দেওয়া যেতে পারে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়।

একই বছর মার্চে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকেও ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি দেওয়া যেতে পারে বলে সম্মতি আসে। পরে ২০১২ সালে সম্পাদিত টেকনিক্যাল লেভেলের সভায় বিভিন্ন দিক বিস্তারিত পর্যালোচনার পর কিছু শর্তসাপেক্ষে পানি দেওয়া যেতে পারে বলে সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, পাম্পের সক্ষমতা ও অবস্থান, সরবরাহের জন্য একক পাইপ, নদীতীর ভাঙনসংক্রান্ত দায়সহ একাধিক শর্তের অধীনে এটি অনুমোদিত হয়। শুকনো মৌসুমে ফেনী নদীর পানির গড় পরিমাণ ৭৯৪ কিউসেক এবং বার্ষিক পানির গড় পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৮৭৮ কিউসেক। তাহলে দেখা যায়, ফেনী নদীর ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার শুষ্ক মৌসুমের গড় পানিপ্রবাহের ০ দশমিক ২৩ শতাংশ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads