• বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬
ads
প্রস্তুত ইসি, সাড়া নেই সিঙ্গাপুর সরকারের

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয়

প্রস্তুত ইসি, সাড়া নেই সিঙ্গাপুর সরকারের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৭ অক্টোবর ২০১৯

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের ভোটার করে স্মার্টকার্ড বিতরণে চলতি বছরের জুন থেকেই সব ধরনের প্রস্তুতি নিলেও সিঙ্গাপুর সরকারের কোনো সাড়া নেই। ফলে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে দীর্ঘ হচ্ছে ইসির অপেক্ষা। ইসি সচিবালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায়, প্রবাসীদের ভোটার করা নিয়ে সিঙ্গাপুর সরকার এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একাধিকবার চিঠি চালাচালি হয়েছে। তবে ফলাফল শূন্য। সিঙ্গাপুরে অবস্থান করে সে দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ভোটার করার কার্যক্রমে সায় জানায়নি দেশটি। তবে সিঙ্গাপুর সরকার ইসির কাছ থেকে ভোটার হতে কতজন লোক একসঙ্গে জমায়েত হতে পারে, কীভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে এবং ভোটার কাজের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিয়েছে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে সিঙ্গাপুর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করেছিল ইসি। সেই মোতাবেক সব ধরনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় সিঙ্গাপুর সরকারের অনুমতি। এর আগে কমিশনের একাধিক প্রতিনিধিদল সিঙ্গাপুরে গিয়ে সফলভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ সম্পন্ন করে।

জানা গেছে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার অংশ হিসেবে গত বছরের ১৯ এপ্রিল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে প্রবাসী অধ্যুষিত রাষ্ট্রের বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে একটি সেমিনার আয়োজন করে ইসি। সেমিনারে প্রবাসে থাকা বাংলাদেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রদূত, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা দ্রুত প্রবাসীদের ভোটার করার সুপারিশ করেন। এরপর চলতি বছরের ৩-৯ মার্চ নির্বাচন কমিশন সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলটি সিঙ্গাপুর যায়। সিঙ্গাপুরে ভোটার নিবন্ধন বিষয়ে ইসির ইন্সপেকশন টিম ফিজিবিলিটি স্টাডি করে। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরীও সিঙ্গাপুরে যান। প্রবাসীদের ভোটার করার বিষয়ে ইতিবাচক সুপারিশ উপস্থাপন করেন সবাই।

এ প্রসঙ্গে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সিঙ্গাপুর সরকারের অনুমতি এখনো মেলেনি। তবে আমরা আশাবাদী সহসাই অনুমতি মিলবে। অনুমতি পাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা কার্যক্রম শুরু করব।

তিনি আরো বলেন, সিঙ্গাপুরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। কাছের দেশ। এরপর আমরা মধ্যপ্রাচের দিকে যাব। এরই মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা সৌদি আরবে এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে এসেছেন। সেখানে দূতাবাস ও প্রবাসীদের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে ব্যাপক আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে।

জানতে চাইলে ইসির এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেন জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের এনআইডি দেওয়ার জন্য অনলাইনেও আবেদন নেওয়া হবে। যারা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না, তারা সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে বসানো ডেস্ক থেকে এ সংক্রান্ত সহায়তা পাবেন। ইসির প্রতিনিধিদল নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রেশন সেন্টারে সংশ্লিষ্টদের ছবিসহ আইরিশ ও ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করবেন। প্রবাসীদের লেমিনেটিং নয়, অচিরেই সরাসরি স্মার্টকার্ড তুলে দেওয়া হবে।

প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হবে। পাশাপাশি অনলাইনে ভোটার হওয়ার ফরম ছাড়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই ফরম পূরণ করবেন আগ্রহীরা।

অনলাইনের ফরমগুলো দেশের বিভিন্ন উপজেলা অফিসের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে। অনলাইনে পূরণকৃত ফরমের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের ছবি, আইরিশ ও ফিঙ্গার প্রিন্ট নেবে ইসির ৫ সদস্যর একটি টিম। যারা অনলাইনে ফরম পূরণ করতে ব্যর্থ হবেন, তাদেরকে তাৎক্ষণিক ভোটার করার জন্য ফরম দেওয়া হবে। ওই ফরমগুলো ইসির নির্ধারিত বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা প্রবাসীদের সব ডকুমেন্টস দেশে সংশ্লিষ্ট (স্থায়ী ঠিকানায়) উপজেলা নির্বাচন অফিসে অনলাইনের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেবেন। প্রবাসীদের জন্য যে ভোটার ফরম তৈরি করা হয়েছে তাতে তিনটি ঠিকানা লেখার অপশন রাখা হয়েছে। ফরমে থাকবে- দেশের স্থায়ী ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা এবং যে দেশে ভোটার হবেন, সেই দেশে অবস্থানের ঠিকানা। বাংলাদেশের মতো কয়েকটি নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে নিবন্ধন কেন্দ্রে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিয়ে আসতে পারবেন প্রবাসীরা। এরপর নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের নামে জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করবে। এনআইডিগুলো তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে পাঠানো হবে। দূতাবাস থেকে প্রবাসীরা তাদের স্মার্ট এনআইডি সংগ্রহ করতে পারবেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads