• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads
শেখ হাসিনা বাঁচলে সুবর্ণ রেখায় থাকবে দেশ : রানা দাশগুপ্ত

বাংলাদেশের খবরের নিয়মিত আয়োজন ‘আপন ভুবন’-এ গতকালের অতিথি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্তের (বাঁয়ে) সঙ্গে সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া 

ছবি : বাংলাদেশের খবর

জাতীয়

শেখ হাসিনা বাঁচলে সুবর্ণ রেখায় থাকবে দেশ : রানা দাশগুপ্ত

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৪ অক্টোবর ২০১৯

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রাখলে সুবর্ণ রেখায় থাকবে বাংলাদেশ’- বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত গতকাল রোববার দৈনিক বাংলাদেশের খবর-এর নিয়মিত আয়োজন সুবর্ণ রেখায় বাংলাদেশ-এর ‘আপন ভুবন’ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে এ কথা বলে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এ প্রসিকিউটর কৈশোরে রাজনীতি ও আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ার স্মৃতি থেকে শুরু করে দেশের সবকটি আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস বর্ণনা করেন। তার দেখা ও জড়িত থাকার এসব সংগ্রাম বলে দেয় বাংলাদেশ কতটা সময় ও ত্যাগ-তিতিক্ষা পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে। তিনি দেশের আগামীর পথচলায় করণীয় সম্পর্কেও বর্ণনা করেন। তার বক্তব্যে ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, একাত্তর এবং একাত্তর-পরবর্তী বাংলাদেশের চিত্র উঠে আসে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে দৈনিক বাংলাদেশের খবর-এর সম্পাদক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সব শাখা ক্রমশ সমৃদ্ধ হচ্ছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের খবর নিয়মিত আয়োজন করছে ‘সুবর্ণ রেখায় বাংলাদেশ : আপন ভুবন’। এ আয়োজনে কথা বলা যাবে দেশের সব সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের খবর পক্ষপাতদুষ্ট হবে। মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্যই আমরা পক্ষপাতী হব। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জায়গায় আমরা পক্ষপাতদুষ্ট। তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। আর তা করা একা সরকারের কাজ না। প্রতিটি নাগরিক তা করবেন। স্বাধীনতার পক্ষে থাকবে বাংলাদেশ নিউজ অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড। প্রসঙ্গত, এরই একটি প্রতিষ্ঠান দৈনিক বাংলাদেশের খবর। পরে প্রধান অতিথি রানা দাশগুপ্ত তার বক্তব্যে স্মৃতিচারণের মতো করে বাংলাদেশের পথচলা বর্ণনা করেন। তিনি জাতির পিতাকে কাছ থেকে দেখার স্মৃতিকাতর বর্ণনা করেন। এতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রীতিলতা ও মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রসঙ্গ আসে। আসে গোলাম আযম, খন্দকার মোশতাকদের মতো দেশবিরোধীদের কথাও। দেশের অনেক সূর্যসন্তানের নাম আসে তার স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে। আসে ভারত ও পাকিস্তান ভাগ হওয়ার নেপথ্য অনেক কথা। তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে। কিন্তু একটি ধর্ম, রাষ্ট্রধর্ম করায় তার সুরক্ষা হয়নি। এক থালায় ভাত খেয়েছি, কে মুসলিম, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ এসব ভাবিনি। সবচেয়ে চমকপ্রদ একটি তথ্য দেন তিনি। তিনি বলেন, একটি জাতি শুধু একজনের রেকর্ড বক্তব্য শুনে স্বাধীন হয়েছে, তা সারা পৃথিবীতে আর হয়েছে কি না জানা নেই। আরো বলেন, শেখ মুজিব যদি মুক্তিযুদ্ধের সময় সশরীরে থাকতেন তবে স্বাধীনতাবিরোধী ও সুবিধাবাদীদের চিনতেন; তিনি ফিদেল কাস্ত্রোর মতো হতেন। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের সফল সমাপ্তি করেন তাজউদ্দীন আহমদ, এও জানান রানা দাশগুপ্ত। তিনি মুজিব-তাজউদ্দীন মধ্যবর্তী দুই ব্যক্তির উপস্থিতির কথা জানান। তারা তাদের দুজনের মিলিত দেশ পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী এমনটাও বলেন তিনি। বর্তমান শেখ হাসিনার সরকারে এবং প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে তৎকালীন মুজিব সরকারের চাটুকারদের মতো সুবিধাবাদীরা আছেন বলেও মন্তব্য করেন। তিনি এও বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসব জানেন এবং তার জন্যই শুদ্ধি অভিযান।

রানা দাশগুপ্ত শেখ মুজিবের বাকশাল গড়ার উদ্দেশ্য জানান। বলেন, তিনি গণতন্ত্র সুরক্ষায় আপাত একটি কাঠামো গড়েছিলেন। মুজিব বলেছিলেন, বাকশাল চিরদিনের নয়। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুপরবর্তী অনেকটা বছর সামরিক-বেসামরিক শাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মোশতাক সরকার দেশের মাথায় টুপি পরিয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি আলোচনায় একটি প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে বলেই যুদ্ধাপরাধের বিচার করার সামর্থ্য অর্জন করে জাতি। অনেকেই ভেবেছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর (সাকা চৌধুরী) বিচার হবে না। রায় হওয়ার পর কার্যকর হওয়া নিয়েও সংশয় ছিল অনেকের। যেমনটা তার মধ্যেও হয়েছে বলে সরল স্বীকারোক্তি তার। তিনি জানান, এ মানবতাবিরোধী অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ঠেকাতে দেশ-বিদেশ থেকে নানা তদবির এসেছে। তিনি আরো জানান, সাকা ছিলেন পাকিস্তানের প্রধান এজেন্ট। 

তিনি দেশকে গড়ার জন্য এবং স্বমহিমায় এগিয়ে নেওয়ার জন্য সবার কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বলেন, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে গণমাধ্যমেরও এ জন্য ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বাংলাদেশের খবর-এর উপদেষ্টা সম্পাদক সৈয়দ মেসবাহ উদ্দিন, বার্তা সম্পাদক ওমর ফারুক শামীম প্রমুখ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads