• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
ads

জাতীয়

শতভাগ পেনশন তোলা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর স্বামী-স্ত্রীও সুবিধা পাবেন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০১ নভেম্বর ২০১৯

বাংলাদেশ সরকার শতভাগ পেনশন (এককালীন পেনশন সমর্পণ) তুলে নেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা স্বামী ও প্রতিবন্ধী সন্তানও পেনশন সুবিধা পাবেন। গত ২৮ অক্টোবর স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন গতকাল বৃহস্পতিবার জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর পেনশন ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পুনঃস্থাপিত হয়ে থাকলে মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা স্বামী ও প্রতিবন্ধী সন্তান (যদি থাকে) পেনশন সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে তারা ২০১৭ সালের ৩ আগস্টের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা পাবেন।

উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ পেনশন একবারে তুলে নেওয়ার সুযোগ চালু হয় ১৯৯৪ সালে। তবে ২০১৭ সালের ৩০ জুন এতে পরিবর্তন আনা হয়। ২০১৭ সালের ১ জুলাই জারি করা এক আদেশে পেনশনের ৫০ শতাংশ সরকারের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষণের কথা বলা হয়। এরপর ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর অর্থ বিভাগের অপর আদেশে বলা হয়, শতভাগ পেনশন তুলে নেওয়া সরকারি কর্মচারীরা অবসর নেওয়ার দিন থেকে ১৫ বছর সময় পার হওয়ার পর থেকে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৩ হাজার টাকা করে পেনশন সুবিধা পাবেন। অর্থ বিভাগের ওই প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, প্রচলিত পদ্ধতি ও নিয়ম অনুসরণ করে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীদের নতুন পেনশন সুবিধাদি নির্ধারণ করা হবে। আর পেনশন পুনঃস্থাপনের সুবিধা ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা যেতে পারে। তবে ওই তারিখের আগের কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে না।

ওই আদেশে আরো বলা হয়, শতভাগ পেনশন তুলে নেওয়া কর্মচারীর ২০১৭ সালের ১ জুলাই বা এর পরবর্তী সময়ে যে পেনশন নির্ধারিত হবে তার ওপর প্রতিবছরের ১ জুলাই ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও দেওয়া হবে। তবে অবসর নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৃত্যুর পর স্ত্রী বা স্বামী কিংবা প্রতিবন্ধী সন্তানের পেনশন পাওয়ার বিষয়টি ওই প্রজ্ঞাপনে ছিল না।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ সুবিধার আওতায় আসবেন প্রায় ২০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী। এ জন্য সরকারের পেনশন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১৪৫ কোটি টাকা। এদিকে, দীর্ঘ ২৩ বছরে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী পেনশনের একশ ভাগ টাকা তুলে নিয়ে অবসরে গেছেন। বর্তমানে এসব চাকরিজীবী বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী দুটি উৎসব বোনাস, বাংলা নববর্ষ ভাতা ও মাসিক চিকিৎসা ভাতা পাচ্ছেন। আর শতভাগ পেনশন উত্তোলনের পর ১৫ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে-এমন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৩৮ জন। এই প্রস্তাবটি ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হলে তাদের পেনশন বাবদ ব্যয় হবে প্রায় ১৩৯ কোটি টাকা। বিদ্যমান পেনশন পদ্ধতি অনুযায়ী, প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে পেনশন সুবিধাভোগীরা ইনক্রিমেন্ট (বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি) পাবেন। ফলে ওই হিসাবে প্রস্তাবিত সুবিধার আওতায় ২০১৮ সালে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট পাবেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য সরকারের আরো অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৬ কোটি টাকা। ফলে এ সুবিধা দিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১৪৫ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শতভাগ সমর্পণকারী পেনশনার্স ফোরাম গত বছর উল্লিখিত সুবিধা পেতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করে। পরবর্তী সময়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শতভাগ সমপর্ণকারী পেনশনার্স ফোরামের নেতারা এ বিষয়ে স্মারকলিপি দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি এবং বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশন পেনশন পুনঃস্থাপনের আবেদন করে। এ ছাড়া একই সুবিধা চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আলাদাভাবে আবেদন করেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads