• বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৬
ভোলা জেলা পাক হানাদার মুক্ত দিবস কাল

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

জাতীয়

ভোলা জেলা পাক হানাদার মুক্ত দিবস কাল

  • ভোলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

আজ ১০ ডিসেম্বর ভোলা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ভোলা পাকহানাদার মুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল চাপের মুখে পাকবাহিনী কোনঠাসা হয়ে পড়ে। নিজেদের জীবন বাঁচাতে ১০ ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনী কার্গো লঞ্চ যোগে ভোলা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। তাদের চলে যাবার সাথে সাথে সম্পূর্ণ রুপে পাকহানাদার মুক্ত হয় ভোলা জেলা।

পাকবাহিনী পালিয়ে যাওয়ার পর ১০ ডিসেম্বর সকালে বর্তমান ভোলা কালেক্টরেট ভবনের সামনের জেলা হিসাব রক্ষন অফিসের ছাদে পতাকা উড়িয়ে ভোলা কে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের চলে যাওয়ার পর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা আশপাশ থেকে শহরে প্রবেশ করে। এবং শহরের ওয়াপদা, পাওয়ার হাউজ ও পরবর্তীতে জেলা সরকারি বালক বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করে এবং শুরু হয় আনন্দ মিছিল।

১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম ও যুদ্ধের পর পাক-হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা ভোলার মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে ভোলা থেকে পালিয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভোলা শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস চত্বর দখল করে, পাক-হানাদার বাহিনী ক্যাম্প বসায়। সেখান থেকেই এক এক করে চালায় অমানবিক কর্মকান্ড। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী নিরীহ মানুষদের ধরে এনে হত্যা করা হয় এবং লাশগুলোও দাফন করা হয় সেখানেই। এছাড়াও ভোলার খেয়াঘাট এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে হত্যা করে তেঁতুলিয়া নদীতে ফেলে দেয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় তেঁতুলিয়া নদীর পানি। সেই সময়ে পাক-হানাদার বাহিনী বহু নারীকে ক্যাম্পে ধরে এনে রাতভর নির্যাতন করে সকাল বেলা লাইনে দাড় করিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। তৎকালীন সময়ে অগনিত মানুষ মারা যায় ওই হানাদার বাহিনীর হাতে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধারে দাফন ছাড়াই গনকবর দেয়া হয় । মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাক হানাদার বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ হয় ভোলার ঘুইংঘারহাট, দৌলতখান, বাংলাবাজার, বোরহানউদ্দিনের দেউলা ও চরফ্যাশন বাজারে। ওই সকল যুদ্ধে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেন। পাশাপাশি বহু পাক হানাদারও মারা যায়।

১৬ই ডিসেম্বর সারা দেশ স্বাধীন হলেও ভোলা স্বাধীন হয় ১০ ডিসেম্বর। ভোলা মুক্ত দিবস উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ভোলা জেলা প্রশাসক, ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও সামাজিক অঙ্গ সংগঠন র‌্যালী ও আলোচনা সভা সহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads