• মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬
ads

জাতীয়

উপজেলাভিত্তিক উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

উপজেলাভিত্তিক উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান করছে সরকার। দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই মাস্টার প্ল্যান করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা যায়, সারা দেশে সরকারের উন্নয়ন পৌঁছে দিতে মাস্টার প্ল্যান করতে এলজিআরডি মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি কাজ করছে। তারা এরই মধ্যে কয়েকটি বৈঠকও করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন পৌঁছে দিতে চায়। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহার বিশেষ অগ্রাধিকার ঘোষণা করে বলে— আমার গ্রাম, আমার শহর। এর আওতায় প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো এর ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে উপজেলাভিত্তিক মাস্টার প্ল্যান।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম গতকাল বাংলাদেশের খবরের প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অগ্রাধিকার প্রতিশ্রুতি হচ্ছে গ্রামে শহরের সেবা পৌঁছে দেওয়া। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করতে এই মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, আমরা প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কাজ করতে শুরু করব। এজন্য আগামী ৬ মাসের মধ্যে সুপারিশ করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। তারপর বিষয়টি একটি রূপরেখা পাবে।

মাস্টার প্ল্যানে কী কী বিষয় উঠে আসবে এমন প্রশ্নে তাজুল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, চিকিৎসাব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, শিক্ষাব্যবস্থা সবই থাকবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো কীভাবে কার্যকর ও সক্রিয় করা যায় উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সেটিও নিশ্চিত করা হবে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাস্টার প্ল্যানের আওতায় প্রান্তিক পর্যায়ে শিক্ষা, শিক্ষার অবকাঠামো, যোগাযোগ অবকাঠামো, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ড বাড়ানো, আইনশৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পরিকল্পনা নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকছে। আর লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের রূপ-নকশাও থাকবে এতে।

সরকারের সূত্রগুলো বলছে, সরকার কেবল উন্নয়ন নয়। একই সঙ্গে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কীভাবে সুশাসন বাড়ানো যায় সেটিও থাকবে মাস্টার প্ল্যানে। মহান স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ পূর্তির দ্বারপ্রান্তে উপনীত বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনকালে সুখী-সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে রূপকল্প-২০২১ সফলভাবে সম্পন্ন করা বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই অর্জনের মাধ্যমে দেশ এখন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, মানুষের আয় ও আয়ু দুটোই বেড়েছে।

ছেলেমেয়ে সবার জন্য শিক্ষা ও সুস্বাস্থ্যের নিশ্চয়তার বিধান করা হয়েছে। ঘরে ঘরে এখন বিদ্যুতের আলো, দুর্ভিক্ষ ও মঙ্গা নেই, গ্রামে গ্রামে পাকা রাস্তাঘাট, ডিজিটাল যোগাযোগের ফলে মানুষ বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে অগ্রগতির এই ধারা সুষমভাবে সব প্রান্তে পৌঁছে দিতে চায় সরকার। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বর্তমানে উন্নীত হয়ে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করেছে। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশের কাতারে শামিল হওয়ার পথে ধাবমান। বিষয়টি মাস্টার প্ল্যানে থাকবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র বলছে, বিগত ১১ বছরে দেশ পরিচালনায় আওয়ামী লীগ সরকার যেমন একদিকে জনগণের কাছে প্রদত্ত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি রক্ষার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। অন্যদিকে সংঘাত, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের উত্থান মোকাবেলায় সরকারের দৃঢ়তা ও সাফল্য জনমনে নতুন এক আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করে। উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে সেটি সূদূঢ় করতে চায় সরকার। তৃণমূলের জনসাধারণের নানামুখী চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কার্যকর স্থানীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। দারিদ্র্য নিরসন ও বৈষম্য হ্রাস করে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য দরকার স্বায়ত্তশাসিত কার্যকর ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার। ইতোমধ্যে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনকে শক্তিশালী করা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে অধিকতর স্বায়ত্তশাসন, ক্ষমতা ও দায়িত্ব। এই প্রক্রিয়াটি অগ্রসর করে নিতে আওয়ামী লীগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads