• মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭
ads

জাতীয়

‘বায়ুদূষণে নষ্ট হচ্ছে জিডিপির ৫ শতাংশ’

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশকে যে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে, তার পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশ। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার এবং গ্রিনপিসের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া শাখার করা এক গবেষণায় এ কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানি যে বায়ুদূষণ ঘটাচ্ছে, তাতে বিশ্বের প্রতিদিন ৮০০ কোটি ডলারের (প্রাক্কলিত) আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। টাকার এ অঙ্ক বিশ্বের মোট জিডিপির ৩.৩ শতাংশ।  আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, যা মোট জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ।

বিষাক্ত বাতাস : জীবাশ্ম জ্বালানির খেসারত শীর্ষক এ প্রতিবেদন বায়দূষণের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও একটি ধারণা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বাতাসে ২.৫ পিএম (পার্টিকুলেট ম্যাটার) আকারের ভারী কণার দূষণে ২০১৮ সালে ৪৫ লাখ মানুষের জন্য ডেকে এনেছে অকাল মৃত্যু। এর মধ্যে ৪০ হাজার শিশু মারা গেছে বয়স পাঁচ বছর হওয়ার আগেই। আর বাংলাদেশে অকালমৃত্যু হয়েছে ৯৬ হাজার মানুষের। ওই বছর বায়ুদূষণের কারণে বিভিন্ন বয়সী ৭৭ লাখ মানুষকে অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।

বায়ুদূষণজনিত অসুস্থতায় ২০১৮ সালে পুরো বিশ্বের মানুষ যত কর্মদিবস ছুটি কাটাতে বাধ্য হয়েছে, সব যোগ করলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১৮০ কোটি দিন। কয়লা ও পেট্রোলিয়ামের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে যে দূষণ ঘটছে মূলত তার ভিত্তিতেই এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, ওজন এবং ২.৫ পিএম (পার্টিকুলেট ম্যাটার) আকারের ভারী কণার দূষণের জন্য ক্ষতির মাত্রা হিসাব করা হয়েছে আলাদা করে। আর ক্ষতি হিসাব করার ক্ষেত্রে অকালমৃত্যুজনিত ক্ষতি, চিকিৎসা ব্যয় এবং কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতির কারণে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্বের দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় চতুর্থ খারাপ অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে (একিউআই) ঢাকার স্কোর ছিল ২০২, যার অর্থ হচ্ছে এ শহরের বাতাসের মান খুবই অস্বাস্থ্যকর।

একিউআই মান ২০১ থেকে ৩০০ হলে স্বাস্থ্য সতর্কতাসহ তা জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়, যার কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে নগরবাসী। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

চীনের বেইজিং, ভারতের কলকাতা ও আফগানিস্তানের কাবুল যথাক্রমে ৩০০, ২৭৮ ও ২৬৬ একিউআই স্কোর নিয়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে। প্রতিদিনের বাতাসের মান নিয়ে তৈরি করা একিউআই সূচক একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটুকু নির্মল বা দূষিত সে সম্পর্কে মানুষকে তথ্য দেয় এবং তাদের জন্য কোন ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে তা জানায়।

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই দূষিত বাতাস নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। মূলত নির্মাণকাজের নিয়ন্ত্রণহীন ধুলা, যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা প্রভৃতি কারণে রাজধানীতে দূষণের মাত্রা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাংক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান কারণ হিসেবে এ শহরের চারপাশে অবস্থিত ইটভাটাকে চিহ্নিত করেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads