• রবিবার, ৭ জুন ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
ঘরে রাখতে কঠোর প্রশাসন

সংগ‍ৃহীত ছবি

জাতীয়

ঘরে রাখতে কঠোর প্রশাসন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৩ এপ্রিল ২০২০

মানিকগঞ্জ জেলা সদরের বাংলাদেশ হাটে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে দেখা যায়, হুইসেল বাজিয়ে পুলিশের গাড়ি যাচ্ছে। সেই সঙ্গে ঘোষণা করা হচ্ছে ‘করোনা প্রতিরোধে ঘরে থাকুন। অযথা বাইরে ঘোরাঘুরি করলে জরিমানা করা হবে।’ মাইকিং আর পুলিশের গাড়ির হুইসেল শুনে রাস্তায় থাকা মানুষজন দৌড়ে ঘরে চলে যাচ্ছে। শুধু মানিকগঞ্জ নয়, রাজধানীসহ সারা দেশেই করোনা প্রতিরোধে মানুষকে ঘরে রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন জায়গায় টহল ও হ্যান্ডমাইক দিয়ে মানুষকে সচেতন করতে দেখা গেছে। ‘করোনা যুদ্ধ করবো জয়, ঘরের বাইরে আর নয়’-এমন স্লোগানে বিভিন্ন স্থানে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাইকিং করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

শরীয়তপুর জেলার পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামান গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাংলাদেশের খবর বলেন, করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা উল্লেখ করে তা প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী ও সিভিল প্রশাসন একযোগে কাজ করছে। জেলার প্রতিটি অঞ্চলে সমন্বয় করে নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে। গাড়ির হুইসেল বাজিয়ে এবং মাইকিং করে জনগণকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। সচেতনতায় একটি গান বানিয়ে সেটা বাজানো হচ্ছে। একযোগে ১৫টি গাড়ির হুইসেল বাজিয়ে জনগণকে ঘরে থাকার জন্য বলা হচ্ছে। যারা যেতে চাচ্ছেন না তাদের বোঝানো হচ্ছে। আইন ভাঙলে তাদের আইনের আওতায়ও নিয়ে আসা হবে বলে জানান তিনি।

রাজধানীতেও গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সেনাবাহিনীসহ আইশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর ছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় ছিল সেনাবাহিনীর চেকপোস্ট। সকালে দেখা যায়, যানবাহনে যারা রাস্তায় যাচ্ছিল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ছাড়া পায়ে হেঁটে যারা ফুটপাত দিয়ে যাচ্ছিল তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা কী কারণে রাস্তায় বের হয়েছেন এবং কোথায় যাচ্ছেন এসব প্রশ্ন করা হয়। যারা এক রিকশায় দুজন ছিলেন তাদের দুই রিকশায় যাওয়ার জন্য বলা হয়। মোটরসাইকেল আরোহীদের দুজন থাকলে একজন নামিয়ে দেওয়া হয়। একজনের বেশি যাত্রী যাতে না ওঠে সেদিকে জোর দেওয়া হয়। আবার যারা মাস্ক ছাড়া বের হয়েছিলেন তাদের মাস্ক পরতে বলা হয়।

মোহাম্মদপুর এলাকায় দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর মেজর বেলাল জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করতে তারা পুলিশ প্রশাসনকে সহায়তা করছেন। যারা অযথা ঘোরাঘুরি করছেন তাদের ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন। গলিতে যারা আড্ডা দিচ্ছেন তাদের ঘরে ফিরে যেতে বলা হচ্ছে। আগের তুলনায় বৃহস্পতিবার পেট্রোল বাড়ানো হয়েছে। সবাইকে আইন মানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা অযথা ঘোরাঘুরির জন্য বেরিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, রাস্তায় যারা অযথা ঘোরাঘুরি করছে তাদের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ চেষ্টা করছে করোনা সম্পর্কে সচেতন করে মানুষকে ঘরে রাখতে। তারপরও যারা আইন মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর হবে। তবে কাউকে অযথা হয়রানি করবে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ফেনী শহরের ট্রাংক রোড, দোয়েল চত্বর, খেঁজুর চত্বর ও বড় বাজারে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটসহ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। এ সময় তারা পথচারীদের ঘরে ফেরা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলা হয়। একই সঙ্গে আইন অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দোকানদারকে ২০০ টাকা জরিমানা করে।

সেনাবাহিনীর ২৮ মিডিয়াম রেজিমেন্ট আর্টিলারির মেজর নাইম রেজওয়ান বলেন, ফেনীতে সেনাবাহিনীর একটি পেট্রোলের স্থলে বৃহস্পতিবার থেকে কাজ করছে তিনটি পেট্রোল। আমরা চাইব যেকোনো মূল্যে মানুষকে ঘরে ফেরাতে। অনুরোধ না শুনলে কঠোরতা আরোপ করব।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জে সামাজিক দূরত্ব ও হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কাজ করতে দেখা যায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেলিম রেজা বলেন, আগামী এক সপ্তাহ আমাদের সবার জন্য বিশেষ সতর্ক হওয়ার সময়। কারণ এ সময়টায় ভাইরাস বেশি ছড়াতে পারে। তাই সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও আমাদের প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ সময় মানুষকে বিশেষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে অনুরোধ করছি।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জায়েদুল আলম বলেন, আমরা নিজেরা নিরাপদ থাকি অন্যকেও নিরাপদে রাখি। আর এ জন্য সবাইকে সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আমাদের তল্লাশি চৌকিগুলোতেও মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। প্রতিটি এলাকায় আমাদের টহল বাড়ানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads