• মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
মেধার মূল্যায়ন না হওয়ার শঙ্কা

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা

মেধার মূল্যায়ন না হওয়ার শঙ্কা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২১ অক্টোবর ২০২০

অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শঙ্কিত শিক্ষার্থীরা। এর ফলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন নাও হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতে, বিষয়টি চূড়ান্ত করার আগে আরো সময় নেওয়া উচিৎ, না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অটো প্রমোশন হওয়ার কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা চাচ্ছেন ভর্তি পরীক্ষাগুলো যাতে ভালোভাবে হয়। তবে অনলাইনে নয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের বিভাগভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে মত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকরা।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে মিটিংয়ে প্রত্যেকটি অনুষদের ডিনরা অনলাইন মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষা না নেওয়ার বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। পরিবর্তে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের বিভাগভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানান তারা। ডিনরা মনে করছেন, এভাবে পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীদের ঢাকা আসার প্রয়োজন নাও হতে পারে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম।

মিটিংয়ে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। মিটিংয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনলাইনে না নেওয়ার পক্ষে যে মতামত দিয়েছেন সে বিষয়ে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাকাডেমিক সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, আমরা ভর্তি পরীক্ষা নেবো। ডিনস কমিটির মিটিংয়ে সব ডিন এ বিষয়ে একমত হয়েছেন। ডিসেম্বরের পরে এইচএসসির ফল হলে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে কোনো ডিনের মত নেই। 

এসএসসি এবং এইচএসসির ফলাফল দেখে কী পরিমাণ নম্বর ধরা হবে, তা মিটিং করে ঠিক করবো। ঢাবির কোয়ালিটি ঠিক রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা হয়তোবা বিভাগভিত্তিক হিসেবে পরীক্ষা নেবো। যেমন- খুলনার পরীক্ষার্থীরা সে বিভাগেই পরীক্ষা দিতে পারবে। তাদের ঢাকায় আসতে হবে না।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, ভর্তি পরীক্ষা হবে সর্বমোট ১০০ নম্বরে- যা আগে হতো ২০০ নম্বরে। আগে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার নম্বর ধরা হতো ৮০। আর ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো ১২০ নম্বরে। এখন এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার নম্বরের ওপর থাকবে ২০। ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে ৮০ নম্বরের ওপর। এক্ষেত্রে লিখিত থাকবে ৫০, আর বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) থাকবে ৩০। পরীক্ষার কেন্দ্রগুলো বিকেন্দ্রীকরণ করাও হতে পারে। বিভাগভিত্তিক যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রয়েছে সেগুলোতে বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধীন কলেজে ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র করা হতে পারে।

এদিকে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিলে মেধার সঠিক মূল্যায়ন নাও হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এমনই একজন গাজী শরীফ। এইচএসসি পরীক্ষায় অটো প্রমোশনে নিয়ে এমনিতেই মন খারাপ তার। বলেন, এসএসসির ফলাফল গড়পড়তা হওয়ায় অটোপাশের কারণে এর প্রভাব পড়বে এইচএসসিতেও। পরীক্ষা হলে হয়তো আগের চেয়ে ভালো ফল করতাম। ভর্তি পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়ার বিষয়ে বলেন, এতে অনেক ধরনের জালিয়াতির সুযোগ থাকবে। এএইচসির ফল খারাপ হলেও ভর্তি পরীক্ষার নম্বর বেশি পেলে একটা সুযোগ থাকে। এবার হয়তো সেটাও পাবো না। দেখা যাবে পরীক্ষায় অনেকে অবিশ্বাস্যভাবে দুইশ নম্বরের মধ্যে ১৯০ বা ১৯৫ নম্বর তুলে ফেলবে। আর আমরা তুলবো ১৩০। অথচ এর আগে বি-ইউনিটে ১৩০ পেলেও সাবজেক্ট পাওয়া গেছে।

সাধারণত, ভর্তি পরীক্ষা হয় সাধারণ জ্ঞান, বাংলা, ইংরেজিসহ বিভিন্ন বিষয়ের সর্বশেষ ও চৌকষ বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন নিয়ে। এসব প্রশ্নের উত্তর গুগল থেকে সহজেই সংগ্রহ করা সম্ভব। ঘরে বসে পরীক্ষা নিলে এই সুযোগটা সবার জন্য থাকবে। সেক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে শহুরে উচ্চবিত্তের সন্তানেরা। ফলে ভর্তি পরীক্ষায় সমতার বিষয়টি আর থাকবেনা বলেই মনে করেন অনেক শিক্ষার্থী।

এবিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের বদলাতে হবে। অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তটি এমনই এক বদলে যাওয়া সিদ্ধান্ত। তবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবকিছু বিবেচনা করে দেখতে হয়। এখানে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার পরিবেশ আছে কিনা সেটি আগে খতিয়ে দেখতে হবে। সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু পরীক্ষা নেওয়া যায়। এর ফল পক্ষে এলে তারপর সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে। তার আগে কিছু করা হলে সেটি সবার জন্য মঙ্গল নাও হতে পারে।

ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, এটি অনেক বড় সিদ্ধান্ত। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকবছর ধরে কেবল গ্রাউন্ড স্টাডিই করতে হয়, কাজটি সঠিকভাবে শেষ করা সম্ভব কিনা। এ সিদ্ধান্ত চালুর আগে আরো বিবেচনা করে দেখা উচিৎ।

প্রসঙ্গত, মূল্যায়নের মাধ্যমে এইচএসসির রেজাল্ট হলেও এবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা। উপাচার্যদের সংগঠন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায় গত শনিবার এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনলাইনে অনুষ্ঠিত হওয়া এ সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা যুক্ত ছিলেন। বেশিরভাগ মত পড়েছে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে।

পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, আমরা অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোনাজ আহমেদ নূরের উদ্ভাবিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া কঠিন হওয়ায় অনলাইনের ওপর সবাই জোর দিয়েছেন।

পরীক্ষা নেওয়ার মতো উপযোগী একটি ডামি (নমুনা) সফটওয়্যার উপস্থাপন করেছেন ড. নূর। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। সফটওয়্যারটি তৈরির কাজ শেষ হলে সেটি সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে দেখানো হবে। তারা অনুমতি দিলে এটি দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads