• মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ৫ মাঘ ১৪২৭
মানসিক চাপে শিক্ষার্থীরা

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

মানসিক চাপে শিক্ষার্থীরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৫ নভেম্বর ২০২০

আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি কোর্সের পরীক্ষা। এ নিয়ে মানসিক চাপে রয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। কী করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। তারা জানান, আমরা পরীক্ষার বিপক্ষে নই। তবে এমনভাবে পরীক্ষা নেওয়া উচিত, যাতে কারো কোনো সমস্যা না হয়। পরীক্ষার দিন নির্ধারণ করে গত ১৬ নভেম্বর সময়সূচি প্রকাশ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ। একই দিনে পরীক্ষাসংক্রান্ত একটি নির্দেশনাও প্রকাশ করে। একই দিন এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ চিকিৎসা শিক্ষা-২ থেকে পরীক্ষা গ্রহণের সম্মতি নির্দেশ দেওয়া হয়। 

পরীক্ষাসংক্রান্ত নির্দেশিকায় শিক্ষার্থীদের ১৪ দিন আগে হোস্টেলে আসতে বলা হয়েছে। যাদের করোনা পজিটিভ তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর পরীক্ষা না নেওয়া হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী হবে না, এ মর্মে অবিভাবকদের নিকট থেকে অঙ্গীকারনামা নিতে হবে। এ ছাড়া টেস্টে নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত আক্রান্তরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। এ নির্দেশনায় অনেকেটা হতাশ হয়েছে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরা। তারা বলছেন ১৩ দিন আগে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ১৪ দিন আগে হোস্টেলে আসতে বলাটা হাস্যকর ছাড়া আর কিছু না। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা আইএইচটির রেডিওলজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি বাসায় আছেন। এখনো হোস্টেলে যাননি। বুধবার হয়তো হোস্টেলে যাবেন। তার সহপাঠীরা কেউ কেউ হোস্টেলে গেছেন। তাদের কাছে শুনেছেন এখনো ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী  হোস্টেলে আসেনি। হোস্টেলে স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হলেও সেখানে কোনোভাবেই মানা সম্ভব হচ্ছে না। এক রুমে ৪ থেকে ৫ জনকে থাকতে হয়। ডাইনিংয়ে অনেককে একসঙ্গে বসে খেতে হয়। এক ওয়াশরুমই অনেকে ব্যবহার করে।  সবচেয়ে দুঃখজনক হলো, পরীক্ষা দিতে এসে কেউ আক্রান্ত হলে তার দায় তো কেউ নেবে না। আক্রান্তের একটা বছর নষ্ট হয়ে যাবে। আগে থেকেই কেউ আক্রান্ত থাকলেও তিনি পরীক্ষা দিতে পারবেন না। তাহলে তাদের কী হবে? ঢাকা আইএইচটি ল্যাব মেডিসিন বিভাগের প্রথম বর্ষের এক পরীক্ষার্থী জানান, তিনি মঙ্গলবার হোস্টেলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানকার অবস্থা দেখে আবার চলে এসেছেন। বলেন, সেখানে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এক রুম তিন-চারজনের নিচে নেই। পরীক্ষার বিপক্ষে আমি না। কিন্তু আমি যদি পরীক্ষা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হই তাহলে সে দায় তো কেউ নেবে না। এ জন্য অবিভাবকদেরও লিখিত দিতে হবে। আমার কথা হচ্ছে পরীক্ষা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার দায়িত্ব ও ভার কর্তৃপক্ষ নেবে না, এটা হতে পারে না। যদি দায়িত্ব নিতে না পারে, তাহলে আমি দাবি করব অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা। আর না হলে আরো দেরিতে পরীক্ষা নেওয়া। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন শীতে আমরা অনেক বেশি করোনা ঝুঁকিতে পড়ব। তা সত্ত্বেও এমন সিদ্ধান্ত কেন হলো, তা আসলে আমরা বুঝতে পারছি না। আরেক শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষার জন্য অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়। মানসিকভাবেও প্রস্তুত হতে হয়। এ জন্য রুটিন একটু দেরিতেই দেয়। আর আমাদের হুট করে সূচি দেওয়া হলো। ১৬ নভেম্বর সূচি দিয়ে বলা হলো ২৯ নভেম্বর পরীক্ষা! ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ অথচ আমাদের পরীক্ষার ঘোষণা দেওয়া হলো এটা কেমন কথা। আমার কি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আওতায় নই?

শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন যদি করোনা পজিটিভের কারণে কেউ অংশ নিতে না পারেন, পরবর্তীতে তার কী হবে? তিনি কি বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দিতে পারবেন। যদি না পারেন, তাহলে তো তার একটা বছর নষ্ট হয়ে গেল। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, পরীক্ষা দিতে এসে আক্রান্ত হলে বা আগে থেকে আক্রান্ত থাকলে অবশ্যই তাদের সুযোগ দেওয়া উচিত। বিশেষ ব্যবস্থায় পরবর্তীতে তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থার করতে হবে। ১৩ দিন আগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পরীক্ষার ১৪ দিন আগে হোস্টেলে আসতে নির্দেশনার নিয়ে বলেন, এটা ঠিক করেনি। এ জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন আছে। এ মুহূর্তে পরীক্ষা নেওয়া ঠিক হচ্ছে কি না জানতে চাইলে বলেন, প্রত্যেকটা জায়গায়ই আমাদের ঝুঁকি আছে। জীবন চালাতে আমাদের কিছুটা ঝুঁকি নিতেই হবে। তবে তা খুবই সতর্কভাবে। সবদিক খেয়াল রাখতে হবে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএইচএম এনায়েত হোসেনের কাছে এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদে কথা বলার পরামর্শ দেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সচিব ডা. মো. জাহিদুর রহমান বলেন, করোনা পজিটিভের কারণে কেউ নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা দিতে না পারলে পরবর্তীতে বিশেষ ব্যবস্থা তার পরীক্ষা নেওয়া হবে। এ জন্য তাদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করতে হবে। প্রসঙ্গত, গত ২০ নভেম্বর কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ২২তম সভায় বলা হয়, ছাত্রছাত্রীরা ভ্যাকসিন না পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ খোলা কঠিন হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ চিকিৎসা শিক্ষা-২ এর উপসচিব বদরুন নাহার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীনে পরিচালিত ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি কোর্স ও ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ট্রেনিং কোর্সসমূহের পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাক্রমে নভেম্বর-২০২০ এর ৪র্থ এবং ডিসেম্বর-২০২০ এর ৪র্থ সপ্তাহে গ্রহণের সম্মতি নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো।

একই দিনে পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ। এ ছাড়া পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়। বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সচিব ডা. মো. জাহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত নিদেশনায় বলা হয়, পরীক্ষার ১৪ দিন পূর্বে শিক্ষার্থীদেরকে প্রতিষ্ঠানের হোস্টেলে অবস্থান করতে হবে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নিমিত্তে শুধু অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা হোটেলে অবস্থান করতে পারবে। সব পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষায় বসতে হবে।  কোনো পরীক্ষার্থী মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছে মনে করে পরীক্ষা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে অবশ্যই সরকারিভাবে করোনা পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত হাসপাতাল থেকে গৃহীত উপযুক্ত প্রমাণ পেশ করতে হবে। করোনা পজিটিভ শিক্ষার্থী আসন্ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads