• শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ৮ মাঘ ১৪২৭

জাতীয়

ডোপ টেস্টের পর চাকরি হারালেন ৮ পুলিশ সদস্য

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ৩০ নভেম্বর ২০২০

ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় কুষ্টিয়া জেলায় কর্মরত আট পুলিশ সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মাদক সেবন করে সন্দেহভাজন এমন ১২ জন পুলিশকে ডোপ টেস্ট করা হয়েছে। চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই হামিদুর রহমান, এসআই নাজিম উদ্দিন, এএসআই জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই নাঈম মাহমুদ, কনস্টেবল বিপ্লব হোসেন, কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল নাহিদ হাসান, কনস্টেবল মাজহারুল ইসলাম।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত আজ সোমবার সকালে পুলিশ লাইনে এক প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পরীক্ষায় ও অধিকতর তদন্তে নিয়মিত মাদক সেবন প্রমাণিত হলে পুলিশ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তে ওই আটজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এদের মধ্যে দুজন উপপরিদর্শক (এসআই), দুজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও বাকিরা কনস্টেবল। এছাড়াও মাদক সেবনে পজিটিভ রিপোর্ট আসা আরো দুইজনের চাকরিচ্যুত করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। আর ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্ট সৈয়দ আরাফাত আলীসহ অন্য দু’জনের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, আইজিপির নির্দেশে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার অভিযান জোরদারের পাশাপাশি পুলিশেও শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। ২০১৯ সালের মে মাস থেকে কুষ্টিয়ায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সময় সহেন্দভাজন ও গোয়েন্দা দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রথম কয়েকজন পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্ট করানো হয়। গত দেড় বছরে পর্যায়ক্রমে ১২ জনের ডোপ টেস্ট করা হয়। পরীক্ষায় ১০ জন নিয়মিত মাদক সেবন করেন বলে রিপোর্ট (পজিটিভ) আসে। তারপর এসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত শুরু হয়। তদন্ত শেষে আটজনকে চাকরিচ্যুত করেছে পুলিশ অধিদপ্তর। এদের মধ্যে দুজন এসআই ও দুজন এএসআই ও চারজন কনস্টেবল রয়েছে। মাদক সেবনকারী এসব পুলিশ সদস্য বিভিন্ন থানা ও ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। বাকি দুইজনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আরও দুই জনের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। 

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত বলেন, মাদকের বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওইসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি প্রথমদিকে অন্য জেলায় বদলি করা হয়। এর মধ্যে এক এসআইকে রাঙামাটিতে বদলি করা হয়। মাদক সেবনের বিষয়টি ধরা পড়া অন্য সবাইকে বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়। আর যে দুজনের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে তাদের মধ্যে ট্র্যাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টকে কুষ্টিয়া পুলিশলাইনে সংযুক্ত রাখা হয়েছে। 

পুলিশ সুপার আরও বলেন, মাদকের সঙ্গে কোনো আপোস নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপিও মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই পুলিশে শুদ্ধি অভিযান চলছে। চলবে। আমরা কুষ্টিয়া থেকে মাদক নির্মূলের পাশাপাশি পুলিশ থেকেও চিরতরে মাদকাসক্তদের বাড়িতে পাঠাতে চাই। পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কোনো মাদক সেবনকারী থাকতে পারবে না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads