• বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭
ব্যক্তিগত দুর্নীতিই বেশি

ফাইল ছবি

জাতীয়

ব্যক্তিগত দুর্নীতিই বেশি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৩ জানুয়ারি ২০২১

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জোর দিয়ে বলেছেন, কিছু খাতে অবশ্যই দুর্নীতি হচ্ছে। দুর্নীতির নিশ্চয় একটা ভিত্তি আছে, তা না হলে এটা নিয়ে এত আলোচনা কেন হবে। যারা দুর্নীতি করছে তাদের দুর্নীতি করার ব্যবস্থা রয়েছে বলেই দুর্নীতি করছে। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ‘উন্নয়ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনের খসড়া রূপরেখা চূড়ান্তকরণ’ কর্মশালায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘একটা বিষয় বলতে চাই না তবুও বলতে হয়। যেখানে যাই সাধারণ মানুষ প্রকল্পের বিষয়ে জানতে চায়। আমি যে টকশোতে কিংবা সেমিনারে যাই সেখানে ঘুরেফিরে দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, পকেটমার ও দুর্নীতি একটি ক্রিমিনাল বিষয়। আমি তাদের বলি দুর্নীতি নিয়ে গবেষণার কিছু নাই। এটা নিয়ে ডিসকাস করা সেমিনার করার কোনো মানে হয় না। এম এ মান্নান বলেন, প্রকল্পের কেনাকাটায় টিমওয়ার্ক দুর্নীতি হয়। তবে ব্যক্তিগত দুর্নীতি বেশি হয়।

এম এ মান্নান বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে সরাসরি কাজ করে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা হলো কোনো প্রকল্প একনেকে যাওয়ার আগে আমার কাছে ডিপিপি’র ডকুমেন্ট আসে। সেখানে ফিজিবিলিটির বিষয়টা রয়েছে। যেটা আমি নিয়মিত পড়ি। সেখানে ফিজিবিলিটির বিষয়টি খুবই দুর্বল মনে হয়েছে আমার কাছে। শুধু আমি না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এ নিয়ে কথা বলেছেন। সেখানে একটি কলাম থাকে ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে কি না। সেই কলামে লিখে দেওয়া হয় ‘করা হয়েছে’। কিন্তু কখন, কোথায়, কে করেছে, কীভাবে হয়েছে তার কিছুই লেখা থাকে না। এ নিয়ে অনেক সময় কাগজও খুঁজে পাওয়া যায় না। শুধু কলাম ফিলাপ করেই শেষ।’ 

মন্ত্রী বলেন, যারা এসব করছে তারা দুটি কারণে করছে। একটি কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক কারণে। তবে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে অর্থনৈতিক বিষয়টি নিয়ে আমি বেশি উদ্বিগ্ন। কারণ সব টাকা জনগণের। তিনি বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি একটি প্রকল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা অবশ্যই করতে হবে। আমরা অন্ধভাবে কোনো প্রকল্পে হাত দিতে পারি না। কিন্তু এর নামে যা হচ্ছে তা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। না হলে এ ধরনের অনিয়ম পদ্মা সেতুর বেলায়ও হতে পারে। তিনি বলেন, এটি আমাদের সবচেয়ে দুর্বলতম দিক। প্রথম দিকে এত বেশি প্রকল্প ছিল না। তাই এই দিকটাতে বেশি নজর দেওয়া হয়নি। এ কারণে বিষয়টি গড়িয়ে গড়িয়ে এ পর্যন্ত এসেছে। কিন্তু এখন এটি সম্ভব নয়। বর্তমানে প্রায় ১৮-১৯শ প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পে আকৃতিও অনেক বড়। তাই এত টাকা খরচ করার আগে অবশ্যই প্রকল্পের আর্থিক দিকটা যাচাইবাছাই করে দেখতে হবে।

মান্নান বলেন, ‘আমার মন্ত্রণালয় নিয়ে যখন প্রশ্ন করে তখন আমি বলি, আমি তো বাস্তবায়ন করি না। তখন অনেকে বলে আরে মান্নান সাহেব আপনি কি জানেন দুর্নীতি আপনিই তো বাড়িয়ে দেন। যাক দুর্নীতি নিয়ে একটা আলো-আঁধারি বিষয় আছে। সচেতন থেকে দুর্নীতি এড়িয়ে চলতে হবে।’

সাবেক এই আমলা বলেন, আমরা যারা অস্থায়ীভাবে সরকারের দায়িত্বে আছি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে, আমাদেরকে অবশ্যই এসব বিষয় দেখতে হবে এবং এটিই আমাদের মূল দায়িত্ব। তিনি ফিজিবিলিটি স্টাডির বিষয়ে নতুন ফরম্যাট তৈরির নির্দেশনা দেন। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের অবস্থান স্বচ্ছ। দুর্নীতিকে কেউ প্রশ্রয় দেবে না। তিনি তার মন্ত্রণালয়ের সবাইকে দুর্নীতি এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়ে বলেন, কেউ যদি ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতি করে এবং সেটি প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads