• বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

জাতীয়

ভ্যাকসিন আসছে কাল

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২০ জানুয়ারি ২০২১

বহুল প্রতীক্ষিত করোনার ভ্যাকসিন দেশে আসছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। বিষয়টি গতকাল মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে ভারতীয় দূতাবাস। যদিও এর আগে জানানো হয়েছিল ভারতের উপহারস্বরূপ সেরামের ২০ লাখ ভ্যাকসিন আজ বুধবার এসে পৌঁছবে। এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ ফ্লাইটে আসছে ভ্যাকসিন।  এর আগে গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহদে মালেকও জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই ভারত থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ভ্যাকসিন এসে পৌঁছবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপহারের ভ্যাকসিন ছাড়া সেরামের কাছ থেকে কেনা ভ্যাকসিন আগের শিডিউল অনুযায়ী আসবে। তবে ফ্লাইট শিডিউল হাতে পেলে বলে দেওয়া হবে কবে কোন সময় আসবে। আশা করছি আমাদের যে শিডিউল আছে সেই অনুযায়ী আসবে। এটাই সর্বশেষ খবর। ভারত এই ভ্যাকসিন আমাদের কাছে পৌঁছে দেবে। আমি বিমানবন্দরে গিয়ে ভ্যাকসিন গ্রহণ করব। ভ্যাকসিনর চালান হাতে পাওয়ার পর প্রতিদিন ২ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করে ভ্যাকসিন দান কার্যক্রম শুরু হবে। প্রথমে ইউনিয়ন পর্যায়ে দেওয়া হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই ভ্যাকসিন নিচ্ছেন- বাংলাদেশে এমন হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, আপাতত এ ধরনের চিন্তা নেই। যাদের সবচেয়ে আগে প্রয়োজন- ফ্রন্টলাইনার, তাদের আগে দেব। ডাক্তার, নার্স, পুলিশ প্রথমে পাবেন। সাংবাদিকদেরও দেওয়া হবে। যেটা প্ল্যান করা আছে সেভাবেই হবে। ভিভিআইপিরা আগে পাবেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ এ সময় বলেন, এসব ভ্যাকসিন সিএমএসডি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইপিআই এবং তেজগাঁও হেলথ কমপ্লেক্সের কোল্ডস্টোরেজে সংরক্ষণ করা হবে। সরকারের কেনা ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের প্রথম চালান হাতে পাওয়ার পর সব জেলায় একসঙ্গে ভ্যাকসিন দান কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের কিছু টিকা দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এক সপ্তাহ পর সব জেলায় শুরু করা হবে। এটাই আমাদের পরিকল্পনা। ভারতের উপহার ২০ লাখ ডোজ টিকা কখন কাকে দেওয়া হবে জানতে বলেন, মন্ত্রণালয় আমাদের যেভাবে জানাবে, সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভারত থেকে উপহার হিসেবে বাংলাদেশকে দেওয়া এ ভ্যাকসিনে সব ধরনের কর মওকুফ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি ইতোমধ্যে দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সিনিয়র সহকারী সচিব তৌহিদ ইমাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি এনবিআর চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারকে উপহারস্বরূপ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ২০ লাখ ডোজ করোনা টিকা সরবরাহ করবে। টিকার চালানটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিশেষ বিমানযোগে ঢাকায় পৌঁছবে। বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে ও জনস্বার্থ বিবেচনায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভারত সরকারের পাঠানো টিকার চালানের ওপর সব ধরনের কর, শুল্ক ও অন্যান্য শুল্ক মওকুফ করে দ্রুত ছাড় করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে ভারত থেকে বিশেষ বিমানযোগে ২০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশে আসার পর সেগুলো বিমানবন্দর থেকে পরিবহনের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ট্রাক ও ভ্যান এবং সংরক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে ভারতীয় হাইকমিশন। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (জনসংখ্যা-২) সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা স্বাক্ষরিত একটি চিঠি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় হাইকমিশন ভ্যাকসিনের ইমপোর্ট লাইসেন্স ইস্যু করা, বাংলাদেশ কীভাবে ভ্যাকসিনটি গ্রহণ করবে, কাস্টমসে শুল্ক ছাড়, ভ্যাকসিন টেস্ট না করার বিষয়ে জানতে চেয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরের কাছাকাছি ভ্যাকসিন সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা এবং সংরক্ষণের জায়গাটির অবশ্যই ২ থেকে ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা নিশ্চিত করতে হবে বলেও এতে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জাতীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে মাঠপর্যায়ে করোনার টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আগামী ২৬ জানুয়ারি থেকেই অনলাইনে নিবন্ধন শুরু হবে। সে লক্ষ্যে আইসিটি বিভাগের তৈরি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সুরক্ষা ২৫ জানুয়ারির মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছেন আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।

গত ১১ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি মাসের ২১ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে দেশে আসবে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন। দেশে আনার পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস তাদের ওয়্যারহাউজে রাখবে ভ্যাকসিন। এরপর সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের জেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেবে। প্রথম দফায় টিকা দেওয়া হবে ৫০ লাখ মানুষকে। 

টিকা বিতরণ কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজরি গ্রুপ অব এক্সপার্টসের (এসএজিই) নির্দেশনা এবং দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রথম মাসে সবচেয়ে বেশি টিকা বরাদ্দ থাকছে ৭৭ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য। ২৪ লাখ ১৬ হাজার ৬২৬টি টিকা পাবেন তারা। এদের আবার দুই ভাগে করা হয়েছে। ৮০ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য ১৩ লাখ ১২ হাজার ৯৭৩ টিকা, আর ৭৭ থেকে ৭৯ বছরের মধ্যে ১১ লাখ তিন হাজার ৬৫৩ টিকা।

স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জনগোষ্ঠীর জন্য (যক্ষ্মা, এইডস রোগী, ক্যানসার রোগী) ছয় লাখ ২৫ হাজার টিকা রাখা হবে। এরাও প্রথম মাসে ভ্যাকসিন পাবেন। ৭৪ থেকে ৭৬ বছরের মধ্যে ব্যক্তিদের জন্য ৯ লাখ ৫৩ হাজার ১৫৩টি টিকা থাকবে। প্রথম পর্যায়ের দ্বিতীয় মাসে এই বয়সের সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় মাসে ৭০ থেকে ৭৩ বছরের জনগোষ্ঠীর ২০ লাখ ৬ হাজার ৮৭৯ জনকে টিকা দেওয়া হবে। ৬৭ থেকে ৬৯ বছরের ২৪ লাখ ৭৫ হাজার এবং ৬৪ থেকে ৬৬ বছরের ২৪ লাখ ৭৫ হাজার জনকে টিকা দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads