• সোমবার, ১ মার্চ ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭
এখনই প্রয়োগ নয় : ড. বিজন

সংগৃহীত ছবি

জাতীয়

এখনই প্রয়োগ নয় : ড. বিজন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২২ জানুয়ারি ২০২১

দেশে এসে পৌঁছেছে করোনার টিকা। শিগগিরই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তবে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীলের মতে টিকা প্রয়োগে অন্তত ১৫ দিন অপেক্ষা করা উচিত।

অণুজীববিজ্ঞানী, সার্সভাইরাসের কিট উদ্ভাবক ও করোনা শনাক্তে ‘জি র‍্যাপিড ডট ব্লট’ কিট উদ্ভাবক ড. বিজন জানান, ভারতে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ব্যাপক হারে ব্যবহার হচ্ছে। সেখানে এর ফল কী আসে সেটি দেখাটা জরুরি। এজন্য ১৫ দিন অপেক্ষা করা দরকার। দেশের মানুষও ভারতের ফলটা দেখতে পারে। প্রতিবেশী দেশটিতে টিকার প্রভাব ভালো হলে বাংলাদেশের মানুষের দুশ্চিন্তা কমবে।

বিজন বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ তো একই রকম। সেখানে যে ফল আসবে সেটা বাংলাদেশেও আশা করা যায়। ভারতে ভ্যাকসিন দেওয়ার পর যদি যদি প্রতিক্রিয়া হয়, তাহলে এই সময়ের মধ্যেই হয়ে যাবে। তখন মানুষের প্রশ্ন কম থাকবে।

বিখ্যাত এ অণুজীববিজ্ঞানী বলেন, দেশে টিকা আসা মানেই তো দেওয়া না। টিকা আসার পর সেটআপ করতেও তো সময় লাগবে। প্রথম দিন কাদের টিকা দেওয়া হবে তাদের নির্বাচন করা, যারা টিকা দেবে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া-এসব করতে সপ্তাহ দুই সময় লেগে যাবে। দুই সপ্তাহের মধ্যে ভারতের পরিস্থিতি বোঝা যাবে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যবিভাগ ও সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, তারা যদি ভারতের টিকা দেওয়ার ফলটা ভালো করে লক্ষ করেন বা তথ্য আদানপ্রদান করেন, তাহলে তারা ভালো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন।

প্রথম ধাপে মুক্তিযোদ্ধা, করোনা মোকাবিলায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, সম্মুখ সারির কর্মী, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাহীন জনগোষ্ঠী, বয়োজ্যেষ্ঠ জনগোষ্ঠী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী, শিক্ষাকর্মী ও গণপরিবহনকর্মীদের টিকা দেওয়ার বিষয়টি ঠিক বলে মনে করেন ড. বিজন।  বলেন, ফার্মসিউটিক্যালসে যারা আছেন এবং গার্মেন্টে আছে তাদেরও দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে, যদি সরকারের যথেষ্ট ভ্যাকসিন থাকে।

এছাড়া শিগগিরই দেশে আসছেন বলে জানিয়েছেন ড. বিজন। বাংলাদেশে কাজ করার জন্য অনুমতি পেয়েছেন বলে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি জানান। দেশে ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছুদিন আগে ড. বিজনকে সিঙ্গাপুরে চলে যেতে হয়েছিল। তিনি জানান, ওয়ার্ক পারমিটের কাগজ গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে তার কাছে পৌঁছেছে। ওয়ার্ক পারমিটের ভিত্তিতে ভিসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদন করবেন। সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ দূতাবাস তাকে ভিসা দিলে দেশে ফিরে তিনি গণবিশ্ববিদ্যালয়ে এবং কিট গবেষণার কাজে যোগ দেবেন। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরো এক মাসের মতো লাগতে পারে।

স্বাভাবিকভাবেই দেশে কাজের অনুমোদন পাওয়ায় খুবই আনন্দিত তিনি। বলেন, বাংলাদেশ থেকে যখন তাকে চলে যেতে হয়েছিল, মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল তার। অবশ্য, কারো প্রতি তার কোনো অভিযোগ ছিল না। এখন যখন সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তিনি ফের জন্মভূমিতে ফিরবেন এবং আরো ভালো কিছু করার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। উল্লেখ্য, ড. বিজন কুমার শীল গণবিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার নেতৃত্বে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডি কিট উদ্ভাবন করেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads