• বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২ ফাল্গুন ১৪২৭
শিল্পবর্জ্যে মরছে শীতলক্ষ্যা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

জাতীয়

শিল্পবর্জ্যে মরছে শীতলক্ষ্যা

  • আব্দুল কাইয়ুম, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) 
  • প্রকাশিত ২৫ জানুয়ারি ২০২১

নারায়ণগঞ্জের ইতিহাস-ঐতিহ্যের ধারকবাহক শীতলক্ষ্যা নদী। যে নদীকে ঘিরেই জেলার গোড়াপত্তন। জেলাটি শিল্প-বাণিজ্যসমৃদ্ধ নগরীতে রূপান্তরিত হওয়ার অন্যতম মাধ্যম আদি ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে সৃষ্ট শত কিলোমিটার দীর্ঘ শীতলক্ষ্যা। স্বার্থান্বেষী মহলের দখল আর দূষণের কবলে পড়ে নদীটি আজ মৃতপ্রায়।

জানা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর দুই তীর ও আশপাশ এলাকায় গড়ে উঠেছে শিল্প কারখানা। এসব প্রতিষ্ঠানের শিল্প ও তরল বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে নদীতে। বহু ডাইং কারখানার বর্জ্য ফেলার পাইপগুলো পানির নিচ দিয়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে দৃশ্যমান না হয়। সারা বছর অবিরাম শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষিত বর্জ্য নদীতে ফেলায় বর্ষাকালে তেমন প্রভাব ফেলতে না পারলেও শুকনো মৌসুমে দূষণের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নেয়। পানির রঙ কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। নদীর এ দূষণ রোধ না করলে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় আর জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মধ্যে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নারায়ণগঞ্জ পরিবশে অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শীতলক্ষ্যা নদীর দুইপাড়ে ছোট-বড় দুই হাজারের অধিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। যার মধ্যে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী কারখানা রয়েছে পাঁচ শতাধিক। বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) রয়েছে চারশ সাতটি প্রতিষ্ঠানের। তবে একশ ছয়টি প্রতিষ্ঠান ইটিপি ব্যবহার করছে না।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় শীতলক্ষ্যা নদীই ছিল দুইপাড়ের বাসিন্দাদের ভরসা। গোসল, রান্না-বান্না এমনকী নদীর পানি পান করা হতো। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত জেলেরা। নদীরপাড়ের পরিবেশ ছিল সুন্দর। আজো নদীর বিভিন্ন স্থানে পাকাঘাট থাকলেও গোসল আর গৃহিনীদের হাঁড়ি পাতিল ধোঁয়ার দৃশ্য হারিয়ে গেছে। সেইসব ঘাট দিয়ে এখন উঠানামা করছে পাথর বালু আর বিভিন্ন মালামাল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদী দখল ও দূষণের চিত্র। নদী ও তীর দখল করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর সংখ্যা কমপক্ষে শতাধিক। নদীর পাড়ের সৌন্দর্যের জন্য তৈরি করা ইকোপার্কের গাছ ও ওয়াকওয়ে নষ্ট করে ফেলেছে দখলকারী ব্যবসায়ীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দি পোর্ট অ্যাক্ট ১৯০৮ ও পোর্ট রুলস ১৯৬৬ অনুযায়ী নদী বন্দরের সংরক্ষকের অনুমতি ছাড়া বন্দর এলাকায় বা সীমানায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রকার কার্যক্রম গ্রহণের এখতিয়ার নেই। এরূপ কার্যক্রম বন্দর আইন ও হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করার শামিল।

নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) শেখ মাসুদ কামাল জানান, আমরাসহ শীতলক্ষ্যা নিয়ে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। 

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, শীতালক্ষ্যা আগের অবস্থায় ফিরে না এলেও অন্তত দূষণমুক্তভাবে যেন পরিচালিত হয় এবিষয়ে সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।  

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads