• বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৭

জাতীয়

ক্ষমতা কমছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগারিক ও কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতি ঠেকাতে পরিচালনা কমিটির হাতে নিয়োগের ক্ষমতা আর থাকছে না। সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর নিয়োগে বা অব্যাহতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে পরিচালনা কমিটির হাত থেকে ক্ষমতা প্রত্যাহার করে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে প্রতি বছর পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) মাধ্যমে নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং প্রয়োজনে ডিআইএর জনবল বাড়াতেও বলা হয়েছে।

এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয় জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, সুপারিশ দুটি নতুন। আমার কাছে সুপারিশের কাগজ এলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ডিআইএর জনবল বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে অনেকটা অগ্রসরও হয়েছি। 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে বিভিন্ন সময় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় সারা দেশে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) গঠন করে সরকার। এনটিআরসিএ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিকে নিয়োগের সুপারিশ করে। কিন্তু গ্রন্থাগারিক ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সরাসারি শূন্যপদে নিয়োগ দিয়ে থাকে। কিন্তু এই নিয়োগ নিয়েও বার বার অভিযোগ ওঠে। তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট অভিযোগ প্রমাণের পর ব্যবস্থা নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যদিও উৎকোচ বা ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে অভিযোগ কম ওঠে। তবে যেসব অভিযোগ পাওয়া যায় প্রমাণের সুযোগ কম থাকায় সেগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

সম্প্রতি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়কোঠা ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আবু নছর মো. নেছারউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি ঘুষ নিয়ে ফারুক আহমেদ নামের একজনকে গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ দিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে উৎকোচের অভিযোগ তোলেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. কামরুজ্জামান। অভিযোগে বলা হয়, কলেজের অধ্যক্ষ আগে থেকেই মো. ফারুক আহমেদকে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ নেন। সেই মোতাবেক লোক দেখানো একটি পরীক্ষার আয়োজন করে ওই প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করেন। নিয়োগের পর নির্ধারিত প্রার্থী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অধ্যক্ষকে পুরো টাকা না দেওয়ায় গত বছর ১৫ ফেব্রুয়ারি ম্যানেজিং কমিটির সভায় নিয়োগ বাতিল করে আবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই অভিযোগ তদন্ত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রন্থাগারিক নিয়োগের লিখিত উত্তরপত্র ও ফলাফল বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায় ফারুক আহমেদ নিয়োগ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পান। ফলাফল বিবরণীতে নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম, মহাপরিচালকের প্রতিনিধি সরকারি ব্রজমোহন বলেজের অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান শিকদার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন মুন্সীর স্বাক্ষর রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের গভর্নিংবডি একবার নিয়োগ বাতিল করে আবার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে ফারুক আহমেদকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিষয়টি বিতর্কের সৃষ্টি করলেও মো. ফারুক আহমেদ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন এবং ওই পদের দাবিদার। তার নিয়োগ প্রদান যথাযথ বলে তদন্ত কমিটির কাছে প্রতীয়মান।

তদন্তে প্রতিবেদনের মতামতে আরো বলা হয়, অধ্যক্ষের অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে অসততা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। টেলিটকের শেয়ার মানি অভ্যন্তরীণ আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কলেজের হিসাব নম্বরে টাকা জমা দিয়েছেন। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে অভ্যন্তরীণ অডিট আপত্তির কারণে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা কলেজের হিসাব নম্বরে জমা দেন তিনি। অধ্যক্ষর অভিযোগ সম্পর্কে গভর্নিং বডি আগে থেকে জ্ঞাত ছিল। কিন্তু গাফিলতি করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এ তদন্ত প্রতিবেদন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পৌঁছার পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহে আলমের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের ওপর মতামত চেয়েছে অধিদপ্তর। অধ্যক্ষের কাছে পরবর্তী ৫ কার্যদিসের মধ্যে বিষয়টির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads