• বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
কুশিয়ারার বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জের ৩৫ গ্রাম প্লাবিত

কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙে নতুন করে ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

কুশিয়ারার বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জের ৩৫ গ্রাম প্লাবিত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২০ জুন ২০১৮

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙে গতকাল মঙ্গলবার নতুন করে ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে মনু ও ধলাই নদীর পানি নেমে যাওয়ায় মৌলভীবাজারের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মনু নদীর ভাঙন এলাকায় দুর্গতদের সহযোগিতায় আসা সেনাবাহিনীও গতকাল ফিরে গেছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

হবিগঞ্জ : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার নবীগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে উপজেলার ৩৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের দিঘিরপাড়, ইনাতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ও দীঘলবাক ইউনিয়নের দীঘলবাক, জামারগাঁও, রাধাপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তারা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে।

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বসত বাড়ি, বাজার ও রাস্তাঘাট। পানিতে পুকুর ও মৎস্য খামার তলিয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। রাস্তাঘাট ও বিদ্যালয় তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে স্কুল-কলেজ। দেখা দিয়েছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। গরু-বাছুর নিয়েও বেকায়দায় আছে গ্রামবাসী। পানিবন্দি মানুষেরা কোনো ধরনের ত্রাণসামগ্রী পায়নি। অনেকেই বিস্কুট খেয়ে জীবন-যাপন করছে।

উমরপুর গ্রামের আয়মনা বেগম জানিয়েছেন, চারদিক পানি আর পানি। বাড়ির ভেতরে মাচা বেঁধে থাকছেন তারা। এখন পর্যন্ত তারা সরকারিভাবে কোনো ধরনের সহায়তা পাননি। একই গ্রামের শরিফুন্নেছা জানান, গত দুই দিন ধরে খাবার পাচ্ছি না। বিস্কুট খেয়ে দিন পার করতে হচ্ছে। দীঘলবাক গ্রামের মজিদ মিয়া জানান, রাস্তাঘাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যাওয়ায় কোনো কাস্টমার দোকানে আসেনি। বেচাকেনা বন্ধ হয়ে গেছে। মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে তাদেরকে।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাওহিদ বিন হাসান বলেছেন, বন্যার কারণে লোকজন পানিবন্দি হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দীঘলবাক উচ্চ বিদ্যালয়কে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোকে স্কুলে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদেরকে শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার লোকজনকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।   

পানি কমছে মৌলভীবাজারে : টানা পাঁচ দিন পর জেলার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। মনু ও ধলাই নদের পানি নেমে যাওয়ায় প্লাবিত এলাকা থেকে দ্রতগতিতে পানি কমতে শুরু করেছে। বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা থাকা মানুষ। পানি যত কমছে রাস্তা ও ঘরবাড়ির বিধ্বস্ত চিত্র ফুটে উঠছে। তবে কুশিয়ারা নদীর বাঁকে হলদিগুল এলাকায় সোমবার রাত ৪টায় নতুন একটি ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে রাজনগর উপজেলার কাওয়াদিঘি সংলগ্ন ৭-৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজার কার্যালয়ের তথ্যমতে মনু নদীর পানি বিপদসীমার ১৮০ সেন্টিমিটার থেকে কমে এখন বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদীর পানিও স্বাভাবিক হয়ে আসছে। শহরের প্লাবিত হওয়া অংশ থেকে পানি নামছে। সিলেট বিভাগীয় শহরসহ জেলার চার উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। জেলার রাজনগর, কুলাউড়া ও কমলগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়েছে।  জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী মনু ও ধলাই নদীর ২৫টি স্থানে বাঁধ ভেঙে জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলার ৩০টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪৫ হাজার পরিবারের প্রায় দুই লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিন দশকের ভয়াবহ এই পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানিতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী তাদের মধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলায় পাঁচজন, কুলাউড়া উপজেলায় দুজন, রাজনগরে একজন ও সদর উপজেলায় একজন মারা যায়। গতকাল কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানি কমে যাওয়ায় নিজ ঘরে ফিরে তা মেরামত করছে ক্ষতিগ্রস্তরা।

মেননের ত্রাণ বিতরণ : মৌলভীবাজারে বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ করেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। এ সময় দুর্যোগ মোকাবেলায় নিজ মন্ত্রণালয় থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।  গতকাল মঙ্গলবার সকালে মৌলভীবাজার শহরের সৈয়ারপুর ও সদর উপজেলার খলিলপুর বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। পরে সেখানে নিজ দলের পক্ষে বন্যার্তদের ৭০০ জনকে ত্রাণ দেন। পরে উভয় স্থানে সরকারি ত্রাণ বিতরণ করেন মন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, পৌর মেয়র ফজলুর রহমানসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের নেতৃত্বে একটি দল দিনভর মৌলভীবাজারের নসিব উল্লাহ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র, সৈয়ারপুর আশ্রয়কেন্দ্র, গোবিন্দশ্রী আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads