• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
ভারী বর্ষণ থাকতে পারে তিন দিন

সিলেটে সুরমা নদীর পাড়ে প্লাবিত কালীগাঠ এলাকা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

সুনামগঞ্জ, সিলেট ও লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ভারী বর্ষণ থাকতে পারে তিন দিন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ০৫ জুলাই ২০১৮

বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়ার প্রবণতার মধ্যেই উজানে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেশে বন্যার আশঙ্কা তৈরি করছে। আগামী তিন দিনের ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি অবনতির দিকে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর টানা বৃষ্টিতে এরই মধ্যে গতকাল বুধবার সুনামগঞ্জ শহরের নিচু এলাকায় পানি উঠেছে। তলিয়েছে সিলেটের কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল। এ ছাড়া তিস্তার পানি বেড়ে লালমনিরহাটের কিছু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। বাংলাদেশের খবরের নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট ব্যুরো এবং সুনামগঞ্জ ও লালমনিরহাট প্রতিনিধির দেওয়া খবর।

সুনামগঞ্জ : সুরমার পানি বেড়ে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র হোসেন আহমদ রাসেল বলেন, ‘শহরের সুরমা নদীর তীরবর্তী সাহেব বাড়িঘাট পশ্চিমবাজার, বড়পাড়া, কাজিরপয়েন্ট এলাকার রাস্তায় পানি উঠেছে। ফলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

শহরের উত্তর আরপিননগর এলাকার এক বাসিন্দা গতকাল বিকালে জানান, তাদের বাসার সামনের সড়কে পানি উঠে গেছে। আর সামান্য পানি বাড়লেই ঘরেও পানি ঢুকবে।

সিলেট : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ২ শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার পাল জানান, প্রতি ইউনিয়নে এক টন করে চাল দেওয়া হয়েছে।

কানাইঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষসহ সুরমাপাড়ের লোকজন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। জৈন্তাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলও আকস্মিক প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌরীন করিম এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে কয়েকদিন ধরে হওয়া বৃষ্টিতে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নগরীতে ৫২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

লালমনিরহাট : ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে তিস্তা, সানিয়াজান ও ধরলা নদীর পানি বাড়ায় নতুন করে লালমনিরহাটের কিছু জায়গা তলিয়েছে। পাটগ্রাম উপজেলার আঙ্গোরপোতা-দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, সিন্দুনা, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন এবং কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী এলাকা তলিয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড দোয়ানী-ডালিয়া কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, তিস্তার পানি বুধবার সকাল থেকে বিপদসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। যেকোনো সময় বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।

সাত নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে : সাতটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দেশের উত্তর, মধ্য ও উত্তরপূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু জায়গায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। আগামী তিন দিন অতিবৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি অবনতির দিকেও যেতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের গতকাল দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সুরমা নদীর কানাইঘাট এলাকায় বিপদসীমা থেকে ১০২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। একই সময় এই নদীর সিলেট অঞ্চলে বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং সুনামগঞ্জ অঞ্চলে ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি শেরপুর ও সিলেট অঞ্চলে ১ সেন্টিমিটার কমলেও তা এখনো বিপদসীমার থেকে ১ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। সারি ও গোয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। পুরনো সুরমা নদীর পানি দিরাই এলাকায় বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। জাদুকাটা নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁয়েছে। সোমেশ্বরীর পানি ১৪ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে, আর সাঙ্গু নদীর পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি আগামী শনিবার পর্যন্ত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। এই সঙ্গে শুক্রবার পর্যন্ত বাড়বে গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া বাংলাদেশের খবরকে জানান, বুধবার বিকাল পর্যন্ত দেশের ৭টি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে অতিবাহিত হয়, যা আগামী ৩ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের তথ্যানুযায়ী দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও এর আশপাশের ভারতীয় অংশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহমেদ জানান, যেসব নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে অতিবাহিত হচ্ছে ওই সব নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বিপজ্জনক কিছু ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আবহাওয়া অধিদফতরের জ্যেষ্ঠ আবহাওবিদ মো. আবদুর রহমান খান বলেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝি উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads