• রবিবার, ৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭
ads
ফণীর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতি

ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডবে চাঁদপুরে বিধ্বস্ত একটি স্কুল ভবন

ছবি : সংগৃহীত

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

ফণীর তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ০৫ মে ২০১৯

ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ গত শুক্রবার সকালে ভারতের ওড়িশায় আঘাত হানার পর তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গতকাল শনিবার সকালে ঝড়টি বাংলাদেশে আঘাত হেনেছে। অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণী বাংলাদেশে দুর্বল হয়ে ঢোকার পরও বিভিন্ন জেলায় গাছ ভেঙে ও ঘরচাপা পড়ে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। ফণীর ছোবলে দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে শত শত ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। নোয়াখালী, ভোলা, চাঁদপুর, বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে পাঁচ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে এবং দমকা বাতাসে ঘরবড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর— 

নোয়াখালী : নোয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা সুবর্ণচরে ফণীর প্রভাবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সুবর্ণচর উপজেলার কন্ট্রোলরুমে দায়িত্বরত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইকবাল হাসান জানান, ফণীর প্রভাবে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

চাঁদপুর : চাঁদপুরে ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডবে শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে উপড়ে গেছে ওই এলাকার গাছপালাও। এখন খোলা আকাশের নিচে রয়েছে শতাধিক পরিবার।

রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিজানুর রহমান জানান, পদ্মা-মেঘনা বেষ্টিত রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে গাছপালা কম। গত রাত ৩টা ৪৫ মিনিটের পর থেকেই ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড়টি প্রথমে আঘাত হানে ইউনিয়নের মান্দেরবাজার এলাকায়। পরবর্তী সময়ে মজিদকান্দি ও শিলারচর এলাকায় ঝড়ের তাণ্ডব চলে। এছাড়া উড়ে গেছে চিরারচর আশ্রয়ণ প্রকল্পের চাল। তিনি জানান, মাইকিং করে আগেই এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। মিজানুর রহমান আরো জানান, চারদিক পদ্মা-মেঘনা বেষ্টিত এ ইউনিয়নে কোনো সাইক্লোন শেল্টার নেই। ঘূর্ণিঝড়ের খবরে আগেই মানুষকে মুজাফফরিয়া দাখিল মাদরাসা, রাজরাজেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চিরারচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়া হয়।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমা বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ৫০টি ঘর পুরোপুরি ধসে গেছে। আর বাকিগুলোর আংশিক ক্ষতি হয়েছে। নদীর ওপারে হওয়ায় এই মুহূর্তে সেখানে আমাদের যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেখানে শুকনো খাবার দেওয়ার জন্য। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। তাদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর : জেলায় বিধ্বস্ত হয়েছে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি। রামগতি উপজেলা র্নিবাহী র্কমর্কতা (ইউএনও) রফিকুল হক বলেন, ঝড়ে রায়পুর ও রামগতিসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়েছে। মেঘনার পানির উচ্চতা চার-পাঁচ ফুট বেড়ে যাওয়ায় জেলার রামগতি, কমলনগর, সদর ও রায়পুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

ফেনী : জেলার সোনাগাজীতে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে ও গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এসব ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে চরছান্দিয়া ও চরদরবেশ ইউনিয়নের চরাঞ্চল ও নদী উপকূলে ঝড়ো বাতাস শুরু হয়। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়ায় অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়।

চরদরবেশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর ইসলাম ভুট্টু জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। সোনাগাজীতে ঝড়ো হাওয়া ও ব্যাপক বৃষ্টি হয়। গতকাল সকাল থেকে সোনাগাজীতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে।

সোনাগাজী পল্লীবিদ্যুতের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আবু সাইদ জানান, বাতাসের প্রচণ্ড গতিবেগ থাকায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সকাল ৬টা থেকে সমগ্র উপজেলায় বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ জানান, দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে উপজেলার সব ইউনিয়নে সিপিপি ও রেড ক্রিসেন্ট স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে দেওয়া হয়েছে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার। সুচিকিৎসার জন্য মাঠে রয়েছে ১৪টি মেডিকেল ও উদ্ধার টিম।

চট্টগ্রাম : ফণীর প্রভাবে বেড়িবাঁধ ভেঙে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ইপিজেড থানাধীন আকমল আলী রোড এলাকা, আনোয়ারার গহিরা, সন্দ্বীপসহ নিম্নাঞ্চলের লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে পানি। ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, চিংড়ি ঘের ও ফসলের জমি। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে।

দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ড কমিশনার জিয়াউল হক সুমন বলেন, সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পের নির্মাণাধীন বাঁধ ভেঙে আকমল আলী রোড এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে।

সামুদ্রিক পানি থেকে হালিশহর, পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকাকে রক্ষা করতে ৩০ ফুট উচ্চতা ও একশ ফুট চওড়া বাঁধ নির্মিত হচ্ছে। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় নির্মাণাধীন বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। এদিকে বেড়িবাঁধ ভেঙে আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গহিরা গ্রামও পানিতে তলিয়ে গেছে।

ভোলা : ভোলায় ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডবে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া সকালে লালমোহনের কচুয়াখালী চর থেকে নিকটবর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে একটি ট্রলার ডুবে গেছে। এতে চার-পাঁচজন আহত হয়েছেন। তবে কেউ নিখোঁজ হননি।

কচুয়াখালীর চর থেকে জেলে নাছির উদ্দিন জানান, শনিবার সকালে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে মাইনুদ্দিনে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে ৪-৫ জন আহত হলেও কেউ নিখোঁজ নেই।

ভোলা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপ-পরিচালক সাহাবুদ্দিন মিয়া জানান, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ভোলায় ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০-৮০ কিলোমিটার। এখনো সাত নম্বর সংকেত বহাল রয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুল আমিন জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে ফসল ও গাছপালা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোলা জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক জানান, আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

বাগেরহাট : ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা, কানাইনগর, বৌদ্ধমারী ও জয়মণি এলাকায় শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাদ যায়নি গাছপালাও। ভেঙে পড়া ঘরবাড়ির বাসিন্দারা রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকায় হতাহতের হাত থেকে বেঁচে যান বলে জানান চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকার ইউপি সদস্য সেলিম শেখ। তিনি আরো বলেন, নদীপাড়ের কানাইনগরের ছয় হাজার ফুটের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়।

উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুজ্জামান বলেন, বাঁধটি ভেঙে পড়ার খবর শুনেছি। এরই মধ্যে সেখান থেকে ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মধ্যরাতের ঝড়ে উপজেলার সুন্দরতলা, জয়মণি, কাটাখাল, চিলা, বৌদ্ধমারী, কানাইনগর ও বুড়িরডাঙ্গা এলাকার কয়েকশ কাঁচা বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলেও তিনি জানান। এ সময় কোনো হতাহতের না ঘটলেও এলাকার গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে গতকাল সকালেও উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজনকে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

পটুয়াখালী : জেলায় গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছের ডাল ভেঙে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। কুয়াকাটার মনসাতলী এলাকায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে আহত হন মোটরসাইকেল আরোহী হাবিবুর রহমান মুসুল্লি (২৫) নামে এই তরুণ। পরে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

বরগুনা : জেলার পাথরঘাটায় ঘরচাপা পড়ে দাদি-নাতির মৃত্যুর পাশাপাশি অনেক গাছপালা ভেঙে পড়ে। 

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বরগুনা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি জাকির হোসেন জানান, এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা করার জন্য ইউপি সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। সকাল ৮টার দিকে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

খুলনা : ফণীর প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় খুলনার উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ ভেঙেছে। বিধ্বস্ত হয়েছে কাঁচা ঘরবাড়ি। উপকূলীয় উপজেলা কয়রা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটায় বেশ কয়েকটি এলাকার নদীর বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গাছ ও গাছের ঢাল ভেঙেছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে ওইসব এলাকার বেড়িবাঁধগুলোতে ভাঙন ধরলে এলাকাবাসী তা মেরামত করেন। তবে জোয়ারের কারণে এখন পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙনের স্থানগুলো প্রবল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কয়রা ও দাকোপ এলাকায়।

স্থানীয়রা জানান, রাতে দাকোপ উপজেলায় ভাটার সময় বানিয়াশান্তা এলাকায় বাঁধ ভেঙে যায়। এলাকাবাসী রাতভর সেই বাঁধ মেরামত করেন। কিন্তু জোয়ারের পানির চাপে আবারও তা ভেঙে গেছে। এছাড়া দাকোপের বরনপাড়া, বটিয়াঘাটার মল্লিকের মোড়ের কচি বানিয়া, বারোআড়িয়ার সুন্দরমহলের রাস্তা ভেঙে গেছে। কয়রার দক্ষিণ বেদকাশীর গোলখালী এলাকায় শুক্রবার গভীর রাতের জোয়ারে পানি ছাপিয়েছে। বাঁধের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ আংটিহারা এলাকা। কয়রার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আংটিহারা এলাকায় গতকাল সকালে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ মেরামতে স্বাধীন সমাজকল্যাণ সংস্থার সদস্যরা স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনার প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ রক্ষায় কাজ করছে।

এদিকে খুলনা মহানগরীতে থেমে থেমে দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি হয়। জেলা প্রশাসনের তথ্যাদি থেকে জানা যায়, খুলনায় ৯৯০টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৩ হাজার ৬৫০টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সাতক্ষীরা : জেলা উপকূলের প্রায় ৬০০ কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া জেলার দুই হাজার হেক্টর ফসলি জমি এবং শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার প্রায় ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল শনিবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের দফতর সূত্র জানায়, আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর কুড়িকাউনিয়া ও প্রতাপনগর এবং দেবহাটা উপজেলার খানজিয়া এলাকার ইছামতী নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও পদ্মপুকুরের কয়েকটি পয়েন্টের বেড়িবাঁধ। ঝড়ো হাওয়ায় আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝরে পড়েছে অনেক আম।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ছয়শ কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া জেলায় দুই হাজার হেক্টর ফসলি জমি এবং শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের আংশিক ক্ষতি হয়েছে।

দুর্যোগকবলিত মানুষের মাঝে এরই মধ্যে দুই হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৩১৬ টন চাল, ১১ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা, ১১৭ বান টিন, গৃহনির্মাণে তিন লাখ ৫১ হাজার টাকা ও ৪০ পিস শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বগুড়া : ঝড়ের কবলে জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছের ডালপালা ভেঙে পড়েছে। উপড়ে গেছে ছোট-বড় অনেক গাছপালা। এছাড়া বড় ধরনের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে অবিরাম বৃষ্টিপাতের সঙ্গে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বইছে।

গতকাল দুপুরে বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে বগুড়াসহ এ অঞ্চল অতিক্রম করে। দুর্বল হয়ে পড়ায় ফণীর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৩২ কিলোমিটার।

লালমনিরহাট : লালমনিরহাটে বৃষ্টির সঙ্গে বই দমকা হাওয়া। জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। লালমনিরহাট পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জাকির হোসেন জানান, গত শুক্রবার রাত থেকে কিছু কিছু এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) জহুরুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। এছাড়া সব আশ্রায়কেন্দ্র খুলে রাখা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম : জেলায় শুরু হয়েছে দমকা হাওয়াসহ মাঝারি থেকে হালকা বৃষ্টিপাত। এতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে পুরো জেলা। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের জনজীবন। গাছপালা ও ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ার ভয়ে বাইরে বের হচ্ছেন না স্থানীয়রা।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, দুদিন ধরে কখনো হালকা, কখনো মাঝারি আবার কখনো ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত শুক্রবার ভোর সোয়া ৫টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সময়ে ৬২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই মৌসুমে এটিই জেলায় সর্বোচ্চ রেকর্ডকৃত বৃষ্টিপাত।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে মাইকিং ও সতর্কবার্তা প্রচারসহ করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads