• বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৫
ads
খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই বাঁধের সব স্পিলওয়ে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

ফাইল ছবি

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই বাঁধের সব স্পিলওয়ে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

  • রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৭ জুলাই ২০১৯

টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই বাঁধের সবকয়টি স্পিলওয়ে খুলে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ১৬টি স্পিলওয়ে ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। স্বাভাবিক নিয়মে এই সময় কাপ্তাই হ্রদে ৮৬.৪০ এমএসএল (মিনসসি লেভেল) পানি থাকার কথা থাকলেও মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত পানি রয়েছে ১০৬.৩০ এমএসএল। কাপ্তাই বাঁধের সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। বর্তমানে স্বাভাবিকের চেয়ে হ্রদে ১৯.৯ ফুটপানি বেশি রয়েছে।

কাপ্তাইপানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্র জানায়, ১৬টি স্পিলওয়ে দিয়ে ৯ হাজার কিউসেক পানির পাশাপাশি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট চালু রেখে টারবাইনের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে আরো ২৪ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে সর্বোচ্চ ১৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ১৬টি স্পিলওয়ে ও ৪টি টারবাইনের মাধ্যমে এক সাথে সেকেন্ডে ৩৩ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে পড়ছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আরেকটি ইউনিটে বিকেলে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ওই ইউনিটে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ইউনিটটি চালু হলে বিদ্যুৎউৎপাদন ২১২ মেগাওয়াট হতো বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, উজানে পাহাড়ি এলাকায় কয়েক দিনের অতি বর্ষণে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দিনে হ্রদে প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট পানি বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে পানির স্তর।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক ড. এমএম এ আব্দুজ্জাহা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৬.৩০ ফুট এমএসএল। স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৯.৯ ফুট বেশি পানি থাকায় স্পিলওয়ে খুলে দিয়ে পানির চাপ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, পানির স্তর বাড়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পাঁচটি ইউনিটের সবগুলো দিয়ে একযোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার বিকেলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। সেটার মেরামতের কাজ চলছে। দ্রুত সেটাও চালু করা হবে বলে তিনি জানান।

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই বাঁধের সবকয়টি স্পিলওয়ে খুলে দিয়ে কর্নফুলী নদীতে পানি ফেলার কারণে চট্টগ্রামের হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়াখালী ও পটিয়ার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। নদী চ্যানেলে তীব্র স্রোতের কারণে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

এদিকে গতকাল বিকেল থেকে রাঙ্গামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ঝুলন্তব্রীজ পানিতে প্রায় ১০ ইঞ্চির মতো তলিয়ে গেছে ।

পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন কুমার বিকাশ জানান, গতকাল বিকেল থেকে পর্যটক বা দর্শনার্থীদের ব্রীজের উঠার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads