• বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৫
ads
ঝুঁকিতে ৪০ লক্ষাধিক মানুষ

ছবি : সংগ‍ৃহীত

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

ঝুঁকিতে ৪০ লক্ষাধিক মানুষ

বানভাসিদের দুর্ভোগ বেড়েছে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২০ জুলাই ২০১৯

বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও রোগের ঝুঁকিতে।

এদিকে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ (আইএফআরসি) জানিয়েছে, কয়েক দিনের ব্যাপক বৃষ্টিতে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ৪০ লাখের বেশি মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ও রোগের ঝুঁকিতে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আটকে পড়েছে। ৬৬ হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। খাদ্য ও খাবার পানির সংকটের সঙ্গে পানিবাহিত রোগ বাড়ার খবরও পাওয়া গেছে।

আইএফআরসির বাংলাদেশ প্রধান আজমত উল্লাহ বলেন, এসব মানুষ মৌসুমি বৃষ্টি, বন্যার প্রকোপ ও ভূমিধসের মধ্যে নাকাল হচ্ছে। বৃষ্টি কমলেও উজান থেকে নদীগুলোর উপচেপড়া প্রবাহে সামনের দিনগুলোতে বন্যার অবনতি ঘটাবে।

বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চলে বন্যায় খাদ্যশস্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যাতে খাদ্য সংকটের হুমকিও তৈরি হয়েছে। এর ফলে শিশু, প্রসূতি মা, গর্ভবতী মা ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ৮ সেমি. কমলেও বিপদসীমার ১৫৭ সেমি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও বেড়েছে বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ। চারপাশে অথৈ পানি থাকায় ঘর থেকে বের হতে পারছে না। ঘরের মজুত খাবারও পানিতে ভেসে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এবারের বন্যা স্মরণকালের ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বকশীগঞ্জ পৌর শহরসহ মেরুরচর, সাধুরপাড়া, বগারচর, ধানুয়া কামালপুর ও নিলক্ষিয়া ইউনিয়নের প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে পানিতে ডুবে আবু বক্করের (৭০) মৃত্যু হয়েছে। তিনি বগারচর ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার নিখোঁজ হওয়া সাধুরপাড়া ইউনিয়নের বটতলা এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে মাজ্জাদ মিয়ার (১২) মরদেহ শুক্রবার বিকালে উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলায় গত ৭২ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

হাতে কাজ নেই, ঘরে নেই খাবার। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এবং হাটবাজার ডুবে যাওয়ায় খাবার সংগ্রহ করতে পারছে না। ত্রাণের আশায় বসে থাকলেও কপালে জুটছে না ত্রাণ। বানভাসিদের ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগে জনপ্রতিনিধিরা বলছেন ইউনিয়নের সব মানুষ পানিবন্দি। বরাদ্দ যা পাওয়া যাচ্ছে তা ২৫ ভাগ বন্যাকবলিতের মাঝেও দেওয়া সম্ভব নয়।

রেল ও সড়কপথে পানি ওঠায় ভেঙে পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থা। দুর্গত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা চালু রয়েছে নৌকা ও কলার ভেলা চলাচলে। দুর্গত এলাকাগুলোয় নতুন করে দেখা দিয়েছে নৌ-ডাকাত আতঙ্ক। দেওয়ানগঞ্জের দুর্গত এলাকায় নৌ-ডাকাত হানা দিয়ে ডাকাতির খবর পাওয়া গেছে।

শেরপুর প্রতিনিধি জানান, পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধির কারণে শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পুরনো ভাঙন অংশ দিয়ে বন্যার পানি দ্রুতবেগে প্রবেশ করায় শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কের পোড়ার দোকান কজওয়ের (ডাইভারশন) ওপর দিয়ে প্রায় দুই ফুট উচ্চতায় প্রবল বেগে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ওই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও যেকোনো সময় শেরপুর থেকে জামালপুর হয়ে রাজধানী ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। গতকাল শুক্রবারসহ গত দুই দিনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতীসহ অন্যান্য অঞ্চল থেকে পানি নেমে আসতে থাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সদরের নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি বাড়ায় প্লাবিত হচ্ছে চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এদিকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের বিলাসপুর গ্রামে বন্যার পানিতে ডুবে মামুন মিয়া (১১) নামে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মামুন মীর্জা মিয়ার ছেলে। এ নিয়ে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলায় গত ৫ দিনে বন্যার পানিতে ডুবে ২ শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বন্যার পানি ওঠায় জেলায় ৫২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬ দিন ধরে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

প্রশাসনসহ একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্যমতে, বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে সৃষ্ট বন্যায় শেরপুরের ৫ উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের ১৭২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। যমুনার পানি ২ সেন্টিমিটার কমলেও এখনো বিপদসীমার ১২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ১২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও শুক্রবার দুপুরে তা আগের দিনের তুলনায় ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে বাঙ্গালী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আরো নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে যমুনার পানি কমা শুরু করলেও বাঙ্গালীর পানি আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন তারা। এদিকে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বানের পানিতে থাকা বগুড়ার যমুনা তীরবর্তী সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলার বন্যার্তদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

নদীভাঙনে গত এক সপ্তাহে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৮০০ বাড়িঘর। বন্যাকবলিত হয়েছে ৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, যমুনায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে বৃহস্পতিবার রাতে ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক সড়কের টেপিবাড়ী (মলাদহ) নামক স্থানে ভেঙে ভূঞাপুরসহ পার্শ্ববর্তী গোপালপুর ও ঘাটাইল উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। যে কারণে যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে যমুনা সার-কারখানার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়ক রক্ষায় কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় গ্রামবাসী চেষ্টা করেও রাস্তাটি শেষ রক্ষা করতে পারেনি। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস একযোগে কাজ করছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার নান্দাইবাড়ি-মালঞ্চির প্রায় ৫০ হাত বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে এই বেড়িবাঁধটি ভেঙে যায়। এতে করে ৩টি গ্রাম নতুন করে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। চরম বিপাকে পড়েছে এই এলাকার প্রায় ১৫ হাজার বানভাসি মানুষ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads