• বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
বন্যা বিস্তৃতির শঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি

বন্যা বিস্তৃতির শঙ্কা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২১ জুলাই ২০১৯

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে। অপরদিকে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে থাকায় উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যেতে পারে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। গতকাল শনিবার ‘বৃষ্টিপাত ও নদনদীর অবস্থা’ নিয়ে দেওয়া প্রতিবেদনে সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গঙ্গা-পদ্মা এবং ঢাকার চারপাশের নদনদী ছাড়া অন্যান্য সব প্রধান নদনদীর পানি কমছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের উজানের প্রদেশগুলোতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এ জন্য আগামী ২৪ ঘণ্টায় ব্রক্ষপুত্র-যমুনা এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদনদীর পানি কমতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘটায় পদ্মা নদী সুরেশ্বর পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে মধ্যাঞ্চলের মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইল এবং সিরাজগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের বগুড়া, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও জানান প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান।

বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, যমুনা নদীর পানি ফুলছড়িতে ১২৯ সেন্টিমিটার, বাহাদুরাবাদে ১৩৭ সেন্টিমিটার, সারিয়াকান্দিতে ১১৬ সেন্টিমিটার, কাজিপুরে ১১১ সেন্টিমিটার ও সিরাজগঞ্জে ৯৩ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েন্টে এবং পদ্মা নদীর পানি গোয়ালন্দ ও ভাগ্যকূল পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ, কুশিয়ারার পানি শেরপুর-সিলেট, পুরনো সুরমার পানি দিরাই, তিতাসের পানি ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মেঘনার পানি চাঁদপুর, ধরলার পানি কুড়িগ্রাম, ঘাঘটের পানি গাইবান্ধা, করতোয়ার পানি চকরহিমপুর, আত্রাইয়ের পানি বাঘবাড়ি, ধলেশ্বরীর পারি এলাশিন পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে আমাদের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার কাজিপুর উপজেলার নতুন মেঘাই-ঢেকুরিয়া হাট বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশে শুক্রবার রাতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত ২০-২৫টি গ্রামের মানুষের মধ্য চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ নিয়ে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, মেঘাই নতুন বাজার থেকে ঢেকুরিয়া হাট পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটির পাইকড়তলী অংশে ইঁদুরের গর্ত রয়েছে। ওই গর্ত দিয়েই পানি প্রবেশ করে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে আওয়াল মেম্বারের বাড়ির পাশে এ ফাটল দেখা দেয়। খবর পেয়ে রাতেই স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ফাটল বন্ধে কাজ শুরু করে।

শেরপুর প্রতিনিধি তার পাঠানো রিপোর্টে জানিয়েছেন, এখনো অবনতির দিকে শেরপুর ও জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতি। উত্তরাঞ্চলে পানি কমতে শুরু করলেও বেড়েছে জনদুর্ভোগ। বিশুদ্ধ পানি আর খাবার সংকটে বানভাসিরা। বন্যাদুর্গত অঞ্চলে পানিতে ডুবে গত কয়েকদিনে মারা গেছে শিশুসহ অন্তত ৫৭ জন। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, শেরপুরের ফেরিঘাট পয়েন্টে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির ঢলে বন্ধ রয়েছে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কে যান চলাচল। বেতমারি-ঘুঘরাকান্দি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার অর্ধলক্ষাধিক পানিবন্দি মানুষ। সাতপাকিয়া, নতুন ভাগলগড়, চরভাবনা ও শহরের গৌরীপুর এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে একই দিনে আরো চার শিশুর মৃত্যুতে জেলায় মৃতের সংখ্যা ১১ জনে পৌঁছেছে।

জামালপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলে জামালপুরেও বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদ এবং যমুনার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। রেললাইন তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে দেওয়ানগঞ্জ-জামালপুর রেল যোগাযোগ। ঝুঁকি এড়াতে জামালপুর থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় পর্যন্ত রেল যোগাযোগও বন্ধ রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় পানিতে ডুবে আটজনের প্রাণহানি হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে এবং এলাকাবাসীর কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার কামারের চর, চরপক্ষীমারী, বলাইরচর, বেতমারী, ঘুঘুরাকান্দি, চরমোচারিয়া, শ্রীবরদী উজেলার ভেলুয়া ও খড়িয়াকাজীর চর ইউনিয়নে গতকাল শুক্রবার আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নে বিপুলসংখ্যক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কাঁচা ঘরবাড়ি, গ্রামীণ রাস্তাঘাট, রোপা আমনের বীজতলা, সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। বিপুলসংখ্যক জলশয়, মাছের খামার ও পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। গত ছয় দিনে বন্যার পানিতে ডুবে শিশু ও বৃদ্ধাসহ চারজন মারা গেছেন। কামারেরচর বাজার বন্যার পানিতে আংশিক নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যার্ত এলাকার লোকজন কলার ভেলায় ও ডিঙি নৌকায় যাতায়াত করছে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গাইবান্ধায় বিপদসীমার ওপরে থাকা ব্রহ্মপুত্র নদ ও ঘাঘট নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশগুলো দিয়ে পানি ঢুকে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও বাড়ছে করতোয়া নদীর পানিও। জেলায় এ পর্যন্ত মারা গেছে ৬ জন। জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ১৯৮৮ সালের পর এবারই সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে গাইবান্ধা শহর। সরকারিভাবে ১০৯ মেডিকেল টিম গঠন করার কথা বলা হলেও চরাঞ্চলে মেডিকেল টিমের কোনো সদস্যকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে বলে কুড়িগ্রাম প্রতিনিধির রিপোর্ট থেকে জানা গেছে। তিনি জানিয়েছেন, গত ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার, জিঞ্জিরামসহ বেশির ভাগ নদনদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৮৯ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৯১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়েছে রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী উপজেলা পরিষদসহ উপজেলা শহরে। জেলার ৯ উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে পানিবন্দি থাকায় তাদের মধ্যে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। নিজেদের খাদ্যের পাশাপাশি গো-খাদ্যের সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বানভাসি মানুষজন। নৌকা দেখলেই ছুটছেন ত্রাণের আশায়। এমন পরিস্থিতিতে চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরা। ৮ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়লেও এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন থেকে মাত্র ৮০০ টন জিআর চাল, ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে যমুনা এবং যমুনা নদীর উপনদী ও পদ্মার শাখা হুরা সাগর নদীতে একসঙ্গে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাবনার বেড়া উপজেলার নদী কূলবর্তী এলাকাসমূহের বাড়িঘর ও বিস্তৃত ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে পুকুর ও জলাশয়ে চাষ করা মাছ। বন্যার পানিতে বাড়িঘর প্লাবিত হয়ে পড়েছে। মানুষজন গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। জেলার হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ২০ বিঘা জমির আমন ধান, ইরি, শাক- সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আমাদের পাবনা প্রতিনিধি।

রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পা‌নি বিপদসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার উপজেলা প্রশাসন ও পা‌নি উন্নয়ন বোর্ড এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এতে করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে অন্তত ৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রা জানান, গোয়ালন্দ উপ‌জেলার দৌলত‌দিয়া গেজ স্টেশন প‌য়েন্টে পদ্মার পা‌নি ১২ সে‌ন্টি‌মিটার বৃদ্ধি পে‌য়ে বিপদসীমার ৬৬ সে‌ন্টি‌মিটার ওপর দিয়ে প্রবা‌হিত হচ্ছে। উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের অন্তা‌রমোড়, চর বরাট, দেবগ্রাম ইউনিয়নের দেবগ্রাম, কাওয়াজা‌নি ও দৌলত‌দিয়া ইউনিয়নের সাত্তার মেম্বার পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার কয়েকশ প‌রিবারের অন্তত ৩ হাজার মানুষ পা‌নিবন্দি হয়ে প‌ড়েছে। ওই সব এলাকায় স্বাভা‌বিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পা‌নি ও গবা‌দিপশুর খাবা‌রের সংকট। এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ বা স‌হযোগিতা পাননি বলে জানিয়েছেন বানভা‌সিরা। হু হু ক‌রে পদ্মার পা‌নি বাড়তে থাকায় নতুন নতুন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হচ্ছে।

এছাড়া উত্তরাঞ্চলের বন্যার পানি নেমে আসায় শরীয়তপুর জেলার নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরীয়তপুর প্রতিনিধি। তিনি উল্লেখ করেছেন, ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর, মোক্তারেরচর ও রাজনগর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জাজিরা উপজেলার পূর্বনাওডোবা ইউনিয়নের পাইনপাড়া এলাকায় চরাঞ্চলের বাড়ির আঙিনা পানিতে তলিয়ে গেছে। রাস্তাঘাটের নিচু জায়গা পানিতে প্লাবিত। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় শাকসবজি ও আউশ, আমন ধান ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বন্যার পানিতে নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বরকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেহের আলী মাদরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চেবেকা গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরজপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাজিরা উপজেলার পাইনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইয়াছিন মাদবর কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাজিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাজিয়ারচর ছমির উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় মাঠ পানিতে প্লাবিত হওয়ায় বিদ্যালয় বন্ধ করে অন্যত্র পাঠদান চলছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২/৩ দিনের মধ্যে বন্যা মারাত্মকভাবে দেখা দেবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া এলাকা পরিদর্শন করে কর্মপরিকল্পনা করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে দেশের ভেতরে ও উজানের বেসিনে (আসাম) ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহের প্রথমার্ধে দেশের উত্তরাঞ্চলে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার পানি সবকয়টি পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করে জামালপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা উত্তর-মধ্যাঞ্চলের বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ মানিকগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। যমুনা নদী বাহাদুরাবাদ ও ফুলছড়ি পয়েন্টে এবং তিস্তা নদী ডালিয়া পয়েন্টে পূর্বের রেকর্ডকৃত সবোর্চ্চ সীমা অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পরবর্তী সময়ে এর প্রভাব পড়ে পদ্মায়ও। ফলে বিস্তৃত অঞ্চলে বন্যার কারণে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads