• বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬
ads
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’: সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছে দেড় হাজার পর্যটক

ফাইল ছবি

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’: সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছে দেড় হাজার পর্যটক

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ০৮ নভেম্বর ২০১৯

ঘুরতে এসে কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে আটকা পড়েছেন দেড় হাজারের মতো পর্যটক। ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলে’র কারণে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আজ শুক্রবার টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় এ প্রবাল দ্বীপে আটকা পড়েছেন তারা। পর্যটকদের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুল অবস্থান করছে। এ কারণে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। এ কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন জেলা প্রশাসক। দুর্ঘটনা এড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের সমন্বয় কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন।  তিনি বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়া কারণে এ নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এই রুটে সাতটি জাহাজ চলাচল করছিল। দ্বীপে বেড়াতে এসে আটকা পড়া পর্যটকেরা নিরাপদে রয়েছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'

পর্যটকবাহী জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে আড়াই হাজারের মতো পযর্টক সেন্টমার্টিন বেড়াতে যান। প্রায় এক হাজারের মতো পর্যটক রাতে দ্বীপে অবস্থান করেন। এর আগের কয়েকদিন যাওয়া আরও পাঁচ শতাধিক পযর্টক দ্বীপে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পযর্টকেরা এসে টেকনাফের দমদমিয়া জেটিঘাটে ভিড় করেন। তবে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এক হাজারের বেশি পর্যটক কক্সবাজারে চলে যান। আবার অনেকে টেকনাফের হোটেলে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় এক হোটেলের ম্যানেজার সাইফুর রহমান জানান, তার হোটেল দুই শতাধিক পর্যটক অবস্থান করছেন। তারা গতকাল বৃহস্পতিবার বেড়াতে আসেন। কিন্তু জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় এখন অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন ছিল, ফলে দ্বীপের পর্যটন ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আয়োজন করছিল। আগামী রোববার পর্যন্ত দ্বীপে হোটেল-মোটেল, জাহাজ ছাড়াও সেখানকার স্থানীয়দের অনেক ঘরবাড়ি বুকিং ছিল পর্যটকদের জন্য। কিন্তু জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় হোটেল মালিকসহ দ্বীপের ব্যবসায়ীদের দেড় কোটি টাকার মতো লোকসান হবে।’

জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় টেকনাফে এসে বিপাকে পড়া আবদুল মুহিত নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘সাগর উত্তাল ও বৈরী আবহাওয়ায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। তার সঙ্গে ভ্রমণে আসা প্রায় শতাধিক পর্যটক দ্বীপে আটকা পড়েছেন। তারা বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে নিরাপদে আছেন। তবে তাদের টাকা সংকট রয়েছে।’ 

দ্বীপে বেড়াতে আসা সাংবাদিক ফারহানা রহমান বলেন, ‘পরিবার নিয়ে দ্বীপে ঘুরতে এসে এখানে আটকা পড়েছি। আমাদের মতো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেড়াতে এসে অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন। সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। এ জন্য ট্রলারও ছেড়ে যেতে দিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন।’

এদিকে দ্বীপে আটকা পড়া সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আজমীর ইলাহি বলেন, ‘দ্বীপে আটকা পড়া পর্যটকদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। কোনও পর্যটক যাতে হয়রানির শিকার না হন সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।’

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর আহম্মদ বলেন, বৃহস্পতিবার বেড়াতে আসা পর্যটকদের অনেকে রাত কাটাতে থেকে গেছেন। হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ায় জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় তারা আটকে পড়েছেন। দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত তাদের পরিচ্ছন্নভাবে হয়রানিমুক্ত আতিথেয়তা দিতে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বলা আছে বলেও তিনি জানালেন।

তিনি বলেন, আমি নিজেই রাতে এবং সকালে হোটেলগুলোতে গিয়ে খোঁজখবর নিয়ে পর্যটকদের আতঙ্কিত না হতে আশ্বস্ত করেছি। সেন্টমার্টিন দ্বীপে ৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও বহুতল কয়েকটি হোটেল রয়েছে। কঠিন দুর্যোগ বা জলোচ্ছ্বাস হলেও আটকেপড়া পর্যটকদের বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। সংকেত বাড়লে আমরা তাদের এসব স্থানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করব।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার  (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সমুদ্র উত্তাল থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী কোনও জাহাজ সেন্টমার্টিনে যেতে দেওয়া হয়নি। যেসব পর্যটক টিকিট কেটেছিলেন তাদের টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভ্রমণে এসে দ্বীপে আটকা পড়া পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে রাত্রিযাপন করতে পারেন সেজন্য সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে।’

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) ৩ নম্বর সংকেত ঘোষণার পর বিকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আশরাফুল আফসার পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সেন্টমার্টিন নৌ-পথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখতে নোটিশ দেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads