• বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৬
পাঁচ জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

ছবি: বাংলাদেশের থবর

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডব

পাঁচ জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৫ নভেম্বর ২০১৯

বাগেরহাট, যশোর, বরিশাল, নড়াইল ও মাদারীপুরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে বসতঘর, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

বাগেরহাট : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অবকাঠামোগত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন বিভাগের হিসাবমতে, এই ক্ষতির পরিমাণ ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান এ তথ্য জানান। তবে সুন্দরবনে গাছের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো তিনি জানাতে পারেননি।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ জানায়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে সুন্দরবনের অভ্যন্তরের আবাসিক ভবন ৬টি, অনাবাসিক ভবন ১৭টি, জেটি ১০টি, জলযান ৩টি, ওয়াচ টাওয়ার ও গোলঘরসহ আরো অন্যান্য ১৯টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে চাঁদপাই রেঞ্জে ক্ষতির পরিমাণ ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা, শরণখোলা রেঞ্জে ২৭ লাখ ২০ হাজার এবং সদর রেঞ্জে (মোংলা) ২ লাখ টাকা।

সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগগত ক্ষতি ইতিপূর্বেও সুন্দরবন কাটিয়ে উঠেছে বলে আমরা দেখেছি। তবে সুন্দরবন মানবসৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে না। এজন্য সরকারকে আরো আন্তরিক হতে হবে। সুন্দরবনের পাশে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সব ধরনের শিল্প কারখানা নির্মাণ বন্ধ করতে হবে।

ডিএফও মাহমুদুল হাসান বলেন, বুলবুলের কারণে সুন্দরবনে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। সুন্দরবনে গাছের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণের জন্য কাজ চলছে।

যশোর : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে যশোরে ঘরবাড়ির ক্ষতি ও প্রাণহানির মতো ঘটনা না ঘটলেও ফসলের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপকভাবে। ঝড়ের প্রভাবে জেলার উঠতি আমন ধান, রবিশস্য, সবজিসহ এক হাজার ২৮৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তীব্র বাতাস ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ এলাকার আধাপাকা আমন ধান মাটিতে নুয়ে পড়েছে। এসব ধান নিশ্চিত ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে কৃষি বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার তরফদার জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জেলার আট উপজেলাতে এক হাজার ২৮৫ হেক্টর জমির ধান, কলা, মসুরি ও পেঁপে গাছের ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের হিসেব অনুযায়ী ৬৫০ হেক্টর জমির আমন ধান ঝড়ে মাটিতে শুয়ে পড়েছে। এছাড়া ৬৩০ হেক্টর জমির মসুরি ও ৫ হেক্টর জমির কলাগাছ নষ্ট হয়েছে। বাকি ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, ঝড়ে বেশি ক্ষতি করেছে যশোরের মনিরামপুর, শার্শা, ঝিকরগাছা, কেশবপুর ও সদর উপজেলার কিছু এলাকায়। এসব এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠের ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে কৃষি বিভাগের হিসেবের বাইরেও জেলার খাজুরা, তীরের হাট, নোঙরপুর, ইছালী এলাকায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বিভিন্ন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে এসব এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠের বাঁধাকপি, ফুলকপি, লালশাক, সবুজ শাক ও শিমের ক্ষেতে ক্ষতি হয়েছে বেশি। ক্ষেতে পানি জমে গিয়ে কপি নষ্ট হয়ে গেছে।

গৌরনদী (বরিশাল) : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে গৌরনদী উপজেলা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। উপজেলায় গত শনিবার রাত তিনটা থেকে লক্ষাধিক গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। গত রোববার দুপুরে ব্যাপকভাবে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। এতে উপজেলায় কয়েক হাজার মানুষ গৃহহীন পড়েছে। উপরে পড়েছে লক্ষাধিক গাছপালা। ঘূর্ণিঝড়ে গাছচাপা পরে উপজেলায় ২৫ জন আহত হয়েছে।

জানা গেছে, গত শনিবার রাত সোয়া ১২টা থেকে এ তিন উপজেলায় ঝড় শুরু হয়। তাতে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও রাত আড়াইটা থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গত রোববার সোয়া একটায় ঘূর্ণিঝড়ের ব্যাপক তাণ্ডব শুরু হয়। ২০ মিনিট স্থায়ী ঝড়ে গৌরনদী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে কয়েক হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়।

বরিশাল পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির গৌরনদী জোনাল ম্যানেজার প্রকৌশলী জাহিদা খানম জানান, উপজেলায় বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ৩৩ কেভি ১১ কেভি ভোল্টের অসংখ্য খুঁটি ভেঙে গেছে। এতে প্রায় এক লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। কবে নাগাদ সর্বত্র বিদ্যুৎ লাইন চালু হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

ইউএনও ইসরাত জাহান জানান, ঘূর্ণিঝড়ে গৌরনদীতে কয়েক হাজার মানুষ বসতঘর হারিয়েছে। এছাড়া আমন, পানবরজ ও সবজির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। জরুরি ত্রাণ হিসেবে ২০ টন চাল ও এক লাখ টাকা পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ কাজ অব্যাহত রয়েছে।

নড়াইল : ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টিতে নড়াইলে রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ের প্রভাবে অধিকাংশ জমির পাকা ধান পড়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতি বেশি হয়েছে। এদিকে রবি মৌসুমে সরিষা, খেসারি, মসুরসহ বিভিন্ন ফসলের সম্পূর্ণ ক্ষতি হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টিতে জেলায় রোপা আমান ধান ও রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসলের ৩ হাজার ৮৪৫ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭১০ হেক্টর জমির রোপা আমন, রবি মৌসুমের সরিষা ১৮০ হেক্টর, খেসারি ৭৫০ হেক্টর, মসুর ১০০ হেক্টর, মুগ কলাই ৫০ হেক্টর, মাষকলাই ২০ হেক্টর, সবজি ১ হাজার ৩৫ হেক্টর জমির সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কালকিনি (মাদারীপুর) : কালকিনিতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ১ হাজার ১২৬ হেক্টর জমি আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়া লক্ষাধিক গাছ ভেঙে পড়েছে, শতাধিক ঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্য ধান ৯৬৮ হেক্টর, পেঁয়াজ ৪ হেক্টর, পান ও শাকসবজি ১২ হেক্টর ও কিছু বীজতলাসহ রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিল্টন বিশ্বাস বলেন, আপাতত প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করে তাদের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারব।

ইউএনও আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সরকারের মাধ্যমে সহায়তা এলে তা কৃষকদের দেওয়া করা হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads