• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ কার্তিক ১৪২৭
কলমাকান্দায় উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমা দিয়ে বইছে, ফের বন্যার আশঙ্কা

ছবি: বাংলাদেশের খবর

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

কলমাকান্দায় উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমা দিয়ে বইছে, ফের বন্যার আশঙ্কা

  • কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চতুর্থ দফায় আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অতি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পানি আসার কারণে কলমাকান্দায় উব্দাখালী নদীর ধীরগতিতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ দিকে উব্দাখালীর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। গত ছয় দিনে রোববার সকাল ৬টায় পযন্ত ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফের উপজেলার কলমাকান্দা টু বরুয়াকোনা ও বিশরপাশাসহ গুতুরা, নাজিরপুরের হরিপুর, আনন্দপুর, সিধলী এলজিইডি সড়ক ও বড়খাঁপন কাঁচা ও পাঁকা সড়কের উপর দিয়ে পানি বয়ে যাচ্ছে। এতে করে আবারও উপজেলায় রাস্তা-ঘাটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার খাল-বিল, ছড়া ও জলাশয়সমূহ পানিতে ভরে গেছে। উপজেলার সদরসহ নদীর তীরবর্তী ও নীচু এলাকার ঘরবাড়ি গুলো প্লাবিত হয়েছে। ফের উপজেলায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

গত মঙ্গলবার সকাল থেমে থেমে টানা ৬ দিন বর্ষণে কারণে উপজেলার সীমান্তবর্তী গনেশ্বরী নদী, মঙ্গলেশ্বরী নদী, মহাদেও নদী ও পাঁচগাও ছড়ায় পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার প্রধান নদী উব্দাখালী নদীর পানি ধীর গতিতে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পযন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। ফের বন্যা আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) মো. মোবারক হোসেন বলেন, অতি বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কলমাকান্দার প্রধান নদী উব্দাখালী নদীর ডাক বাংলা পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। রবিবার বিকাল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে ।

কলমাকান্দা উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর আমন ধানের জমি পানিতে তলিয়ে গেছে ।

রোববার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে টানা ৬ দিন বর্ষণে কারণে উপজেলার রংছাতি, খারনৈ, নাজিরপুর, কৈলাটি,কলমাকান্দা, পোগলা, লেংঙ্গুরা ও বড়খাপন ইউনিয়নের পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের আমন ধানের ক্ষেত প্রায় ৩ হাজার হেক্টর পানিতে তলিয়ে গেছে ।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারুক আহমেদ নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, নিম্নাঞ্চলে ২ হাজার ২শ হেক্টর বেশী আমন ধান জমি পানিতে তলিয়ে গেছে । ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান ওই কৃষি কর্মকর্তা ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads