• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
নোবেলজয়ী সাহিত্যিক ভিএস নাইপল আর নেই

নোবেলজয়ী সাহিত্যিক ভিএস নাইপল

সংরক্ষিত ছবি

শোক সংবাদ

নোবেলজয়ী সাহিত্যিক ভিএস নাইপল আর নেই

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৩ আগস্ট ২০১৮

না ফেরার দেশে চলে গেলেন সাহিত্যে নোবেলজয়ী ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক ভিএস নাইপল। গত শনিবার লন্ডনে নিজ বাসভবনে ৮৫ বছর বয়সে মারা যান তিনি। বিশ্বখ্যাত এই ঔপন্যাসিকের মৃত্যুর সংবাদ গণমাধ্যমকে জানান তার স্ত্রী লেডি নাইপল। তিনি বলেন, নাইপল যাদের ভালোবাসতেন, যাদের সঙ্গে পার করেছেন অসাধারণ উদ্যমী আর সৃষ্টিশীল এক জীবন, তাদের সান্নিধ্যেই শেষ সময়টা কেটেছে তার। তার যা কিছু অর্জন তা মহান। খবর দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি।

‘আধুনিক দার্শনিক’খ্যাত এই লেখকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাহিত্যিক, ভক্ত ও বন্ধুরা। তার মৃত্যুতে ব্রিটিশ সাহিত্যজগতের পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন মেইল অ্যান্ড সানডে সম্পাদক স্যার ভিদিয়ার। তিনি বলেছেন, নাইপলের সৃষ্টিকর্ম নিঃসন্দেহে চিরদিন রয়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণবিষয়ক লেখক পল থেরক্স বলেছেন, আমাদের সময়ের অনবদ্য এক লেখককে হারালাম। বিশ্বসাহিত্য জগতে অনন্য লেখক ছিলেন নাইপল। গল্প বলার নিজস্ব ধরন ছিল তার। মানুষের জীবনের কঠিন এবং দুঃখকষ্টের বিষয়গুলো তিনি বেশ সুন্দরভাবে তুলে ধরতেন তার লেখায়।

ভক্ত ও পাঠকদের মতে, নাইপলের কাহিনীগুলোয় আছে স্বচ্ছতা। সততার সঙ্গে তিনি ভ্রমণকাহিনীগুলো লিখেছেন। তিনি দক্ষ ও তীক্ষ বুদ্ধিসম্পন্ন এক লেখক। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সামাজিক নিষ্ঠুরতা, দুর্নীতি, দারিদ্র্য ও জনদুর্ভোগ স্বচক্ষে দেখেছেন এবং সেগুলোর সমালোচনাও করেছেন।

২০১৬ সালে বাংলা একাডেমিতে ঢাকা লিট ফেস্টের অনুষ্ঠানে যোগ দেন ভি এস নাইপল। ওই বছরের ১৭ নভেম্বরের উদ্বোধনী দিনে তার ওপর নির্মিত বিশেষ তথ্যচিত্র ‘দ্য স্ট্রেঞ্জ লাক অব নাইপল’ দেখানো হয়। উৎসবের দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায় তিনি ‘দ্য রাইটার অ্যান্ড দ্য ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন। লিট ফেস্ট শেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি পাখি দেখতে গিয়েছিলেন সাহিত্য উৎসবে অংশ নিতে আসা এই অতিথি।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদ্যাধর সূর্যপ্রসাদ নাইপলের জন্ম ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্টে ত্রিনিদাদে; বিশ্বজুড়ে যিনি সাহিত্যের আলো ছড়িয়েছেন ভিএস নাইপল নামে। অক্সফোর্ডে ইংরেজি সাহিত্যে পড়া এই সাহিত্যিক ব্রিটেনে স্থায়ী হলেও ঘুরে বেড়িয়েছেন বিশ্বময়। ১৯৬১ সালে ‘এ হাউজ ফর মিস্টার বিশ্বাস’ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বিশ্বসাহিত্য অঙ্গনে আলোচনায় আসেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে বুকার এবং ২০০১ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। তাকে ‘আধুনিক দার্শনিক’ আখ্যা দেয় নোবেল কমিটি। এ ছাড়া ১৯৯৩ সালে ডেভিড কোহেন সাহিত্য পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে নাইটহুড পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। তার লেখা সর্বাধিক পঠিত বইয়ের মধ্যে আছে এ বেন্ড ইন দ্য রিভার, ইন অ্যা ফ্রি স্টেট এবং আলোচিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে অ্যামং দ্য বিলিভার্স।

একজন হিন্দু হিসেবেই শৈশবে বেড়ে ওঠেন ভিএস নাইপল। সিপ্রাসাদ নাইপল ও দ্রোয়াপতি কাপিলদেওয়ের দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন তিনি। তার বাবা ছিলেন সাংবাদিক। ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে শেক্সপিয়ার ও ডিকেন্স পড়েছেন। এই লেখক ত্রিনিদাদের কুইনস রয়েল কলেজে পড়ালেখা করেন। ১৯৫০ সালে পছন্দের যেকোনো কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ছাত্রাবস্থায় হতাশায় ভুগে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। তার প্রথম তিনটি বই- দ্য মিস্টিক মাসোর (১৯৫৭), দ্য সাফ্রেজ অব অ্যালভিরা (১৯৫৮) এবং মিগুয়েল স্ট্রিট (১৯৫৯) প্রকাশিত হয়। এই বইগুলোর কাহিনী মূলত ক্যারিবীয় দ্বীপকে ঘিরে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads