• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫
ads
একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী আর নেই

একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী

সংরক্ষিত ছবি

শোক সংবাদ

একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী আর নেই

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • প্রকাশিত ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

খালি পায়ে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত একাত্তরের বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী চিরবিদায় নিয়েছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সোমবার ভোর চারটা চল্লিশ মিনিটের সময় জগৎ সংসারের মায়া ত্যাগ করে চলে যান তিনি। এসময় তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে সম্ভ্রম হারানোর পর থেকে খালি পায়ে হেঁটে আসছিলেন তিনি।

রমা চৌধুরীর দীর্ঘদিনের সহচর ও তার বইয়ের প্রকাশক আলাউদ্দিন খোকন জানান, দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। চলতি বছর ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। এরপর থেকেই সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। ভোর চারটা চল্লিশ মিনিটের সময় ডাক্তাররা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল সকাল দশটায় রমা চৌধুরীর মরদেহ শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীরাঙ্গনা রমা চৌধুরী ১৯৪১ সালে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রথম স্নাতকোত্তর নারী বলা হয় তাকে। ১৯৬২ সালে কক্সবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার কর্মজীবন। পরে দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তাঁর স্বামী ভারত চলে যান। এসময় তিন পুত্র সহ রমা চৌধুরী বোয়ালখালির পোপাদিয়ায় পৈতৃক ভিটায় থাকতেন। ওই বছর ১৩ মে সকালবেলা পাকিস্তানি হানাদাররা তাঁর ঘরে চড়াও হয়। জোরপূর্বক তাঁর সম্ভ্রমহানি করে। সম্ভ্রম হারানোর পর আত্মরক্ষার জন্য তিনি পুকুরে ঝাপ দেন। এসময় হানাদাররা গান পাউডার দিয়ে তাঁর বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার পর থেকে তিনি আর কখনো পায়ে জুতা-স্যান্ডেল পরেননি।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি লেখালেখিকে পেশা হিসাবে নেন। প্রথমে একটি পাক্ষিক পত্রিকায় লিখতেন তিনি। বিনিময়ে তাকে দেয়া হতো ৫০ কপি পত্রিকা। সেই পত্রিকা বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। পরে নিজেই নিজের লেখা বই প্রকাশ করে তা ফেরি ফেরি করে বিক্রি শুরু করেন। তিনি বেশ কিছু প্রবন্ধ, উপন্যাস ও কবিতা মিলিয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads