• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
তালাইমারী বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের কাজ সময়ে শেষ হচ্ছে না

শুরুতেই বিলম্বের কারণে পিছিয়ে গেছে প্রকল্পের কাজ

সংগৃহীত ছবি

পর্যবেক্ষণ

তালাইমারী বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের কাজ সময়ে শেষ হচ্ছে না

  • জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ১৬ আগস্ট ২০১৮

. প্রথম বছরে অগ্রগতি এক শতাংশের কম

. নেই পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ

বিলম্বে কাজ শুরু আর পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী চত্বরে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। এ প্রকল্পে গত অর্থবছর ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৫ লাখ টাকা। শতভাগ কাজ শেষ করতে চলতি অর্থবছর ৫৯ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রয়োজন। এর বিপরীতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বরাদ্দ আছে মাত্র ১৫ কোটি টাকা। সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পরিদর্শন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আইএমইডি সূত্র জানায়, তালাইমারী চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কয়ার নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দেড় একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। সেখানে স্থাপন করা হবে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালসংবলিত ৭১ ফুট উচ্চতার একটি মনুমেন্ট। সেখানে ১৭ হাজার ৩২৩ বর্গফুট আয়তনের সেমি বেজমেন্টে থাকবে ৩৬টি গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শনের লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে। এ ছাড়া জাতির জনকের স্বপ্ন, দর্শন ও সুদূরপ্রসারী চিন্তাভাবনা সম্পর্কে সবাইকে জানানোও এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। তাই প্রকল্পটির লাভ-ক্ষতির হিসাব বিবেচনায় আনা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। এ বিষয়ে আরডিএ ২৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরে প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করেছিল। তবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের আগেই এর ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৫৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। গত বছরের নভেম্বরে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়। তবে প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। শুরুতেই বিলম্বের কারণে পিছিয়ে গেছে প্রকল্পের কাজ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব পেয়েছেন আরডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল তারিক। তিনি একাধারে দুটি প্রকল্পের দায়িত্বে আছেন। ৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পে একক পিডি নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনা মানা হয়নি বঙ্গবন্ধু স্কয়ার নির্মাণ প্রকল্পের পিডি নিয়োগে।

জানতে চাইলে আরডিএ চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বাংলাদেশের খবরকে টেলিফোনে বলেন, কাজ শুরু করতে বাড়তি সময় লাগায় প্রকল্পে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় এতে অর্থ বরাদ্দও কম। তাই নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়তো সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় প্রয়োজনে সংশোধন করে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি মাত্র দেড় বছরের জন্য নেওয়া হয়েছে। ছয় মাসে এর কাজ হয়েছে এক শতাংশেরও কম। মাত্র এক বছর সময় থাকলেও প্রকল্পের মূল কাজই এখনো শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময় ও বরাদ্দে কাজ শেষ করতে প্রকল্প অফিস ও মন্ত্রণালয় থেকে তদারক বাড়ানোর সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রকল্প প্রস্তাবে কারিগরি কমিটি ও পিএসসি সভার সংস্থান রয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কারিগরি কমিটির কোনো সভা হয়নি। প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের স্বার্থে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি ও কারিগরি কমিটির সভা নিয়মিত আয়োজনের তাগিদও দিয়েছে আইএমইডি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads